Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 11

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ মন্ত্রিসভার কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকে—   উত্তরঃ  লোকসভা। প্রশ্নঃ প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের সদস্যরা সকলেই কোন কাউন্সিলের সদস্য? উত্তরঃ  ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিল। প্রশ্নঃ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করেন? উত্তরঃ  প্রধানমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

সাঁওতাল বিদ্রোহ

  সাঁওতাল বিদ্রোহ 


        ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পূর্বে সংগঠিত প্রতিবাদী আন্দোলনগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সাঁওতাল উপজাতির অভ্যুত্থান (১৮৫৫ খ্রি.)। ড. কালিকিংকর দত্ত তাঁর “দি সাঁওতাল ইনসারেক্সন অব ১৮৫৫-৫৭' গ্রন্থে লেখেন—“বাংলা ও বিহারের ইতিহাসে এই পর্ব (সাঁওতাল বিদ্রোহ) নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটায়।”

সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ—

(১) রাজস্বের বোঝা— 

     কর্নওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করলে সাঁওতালদের বাসভূমি বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, বীরভূম, ছোটোনাগপুর প্রভৃতি অঞ্চল কোম্পানির রাজস্বের অধীনে আসে। ফলে এসব অঞ্চলে বসবাসকারী সাঁওতালরা রাজমহলের পার্বত্য অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে এবং রুক্ষ মাটিকে কৃষিকাজের উপযুক্ত করে জীবনধারণ করতে থাকে। এই অঞ্চল ‘দামিন-ই-কোহ’ (পাহাড়ের প্রান্তদেশ) নামে পরিচিত হয়। কিন্তু কিছুদিন পরে সরকার এই অঞ্চলকেও জমিদারি বন্দোবস্ত ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে সাঁওতালদের ওপর রাজস্বের বোঝা চাপে। এতে সাঁওতালরা ক্ষুব্ধ ও বিদ্ৰোহমুখী হয়৷

(২) মহাজনি শোষণ— 

     কালক্রমে দামিন-ই-কোহ-তে মহাজনদের আবির্ভাব ঘটে। ধূর্ত ও অর্থলোভী মহাজনরা সহজসরল সাঁওতালদের শোষণ করতে শুরু করে। ঋণের জালে সাঁওতালদের জড়িয়ে তারা মুনাফা লুটতে থাকে। রাজস্ব প্রদান এবং খাদ্যাভাব মেটাতে বহু সাঁওতাল পরিবার চড়া সুদের বিনিময়ে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। একবার ঋণ নিলে সেই ঋণ শোধ করতে হত বংশপরম্পরায়। এই জাল থেকে মুক্তির আশায় সাঁওতালরা বিদ্রোহী হয়।

(৩) সাঁওতাল আইন বাতিল— 

     সরকার সাঁওতালদের নিজস্ব আইন ও বিচারপদ্ধতি বাতিল করে সাঁওতাল এলাকায় ইংরেজদের জটিল আইন ও বিচারব্যবস্থা চালু করে।

(৪) ব্যবসায়ীদের প্রতারণা— 

     বাইরে থেকে সাঁওতাল পরগনাতে এসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সাঁওতালদের সরলতা ও অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাদের ঠকাত। 'কেনারাম' নামক বাটখারার দ্বারা সঠিক ওজনের থেকে বেশি দ্রব্য ক্রয় ও ‘বেচারাম' নামক বাটখারার দ্বারা সঠিক ওজন অপেক্ষা কম দ্রব্য দিয়ে সাঁওতালদের ঠকানো হত। অসাধু ব্যবসায়ীদের এই প্রতারণা সাঁওতালদের উত্তেজিত করে।

(৫) নীলকরদের শোষণ— 

     সাঁওতালদের ক্ষোভের আরও একটি কারণ ছিল নীলকর সাহেবদের শোষণ ও অত্যাচার। নীলচাষ করতে অস্বীকার করলে নীলকর সাহেবরা নিরীহ সাঁওতালদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করত। এই অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সাঁওতালরা বিদ্রোহের পথ বেছে নেয়।

(৬) খ্রিস্টধর্ম প্রচার— 

     খ্রিস্টান মিশনারিরা সাঁওতালদের ধর্মকে অবজ্ঞা করত এবং সুকৌশলে সাঁওতালদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করত।

(৭) অন্যান্য কর— 

     ভূমিরাজস্ব ছাড়াও সরকার, জমিদার প্রমুখ সাঁওতালদের ওপর বিভিন্ন ধরনের করের বোঝা চাপিয়ে দেয়। ফলে দরিদ্র সাঁওতালদের দুর্দশা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়৷

(৮) সরকারি কর্মচারীদের অত্যাচার— 

     সরকারি প্রশাসন ও বিচারবিভাগ অন্যায়ভাবে জমিদার, মহাজন ও ব্যবসায়ীদের সমর্থন করে। উপজাতিভুক্ত সাঁওতালদের ‘সভ্যতার লজ্জা’ মনে করে উদ্ধত ইংরেজ কর্মচারীরাও সাঁওতালদের ওপর অত্যাচার ও শোষণ চালাতে থাকে। এই সার্বিক শোষণ ও অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তারা শেষপর্যন্ত বিদ্রোহের পথই বেছে নেয়।

(৯) রেল-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের নির্যাতন— 

     উনিশ শতকে তিলা পাহাড়, ভাগলপুর অঞ্চলে রেললাইন পাতার কাজ শুরু হয়। এই কারণে বহু রেল-কর্মচারী ও ঠিকাদার ‘দামিন-ই-কোহ’-তে আসে। তারা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দরিদ্র সাঁওতালদের কাছ থেকে অল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে হাঁস, মুরগি, ছাগল, ফলমূল নিতে শুরু করে, এমনকি সাঁওতাল রমণীদের প্রতিও তারা অশালীন আচরণ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাঁওতাল সমাজ ভদ্রলোক-বিরোধী বা দিকু-বিরোধী আন্দোলন শুরু করে।

সাঁওতাল বিদ্রোহের বিবরণ—

     ভারতের প্রাচীন বাসিন্দা আদিবাসী সাঁওতালরা বর্তমান বিহারের ছোটোনাগপুর, পালামৌ, মানভূম এবং বাংলার বীরভূম, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ বনভূমি অঞ্চলে বসবাস করত। তারা ১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ইংরেজ সরকার, জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে যা 'হুল বিদ্রোহ' বা ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ' নামে পরিচিত।

সিধু ও কানহুর নেতৃত্ব— 

     জমিদার, মহাজন ও ইংরেজের অত্যাচারের প্রতিবাদে সিধু ও কানহু নামে দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে সাঁওতালরা সংঘবদ্ধ হয়। সাঁওতাল ও অন্যান্য উপজাতির মানুষকে সংগঠিত করার জন্য সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে ‘শালগাছের ডাল’ পাঠানো হয়। ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন প্রায় দশ হাজার সাঁওতাল ভাগনাডিহি-র মাঠে মিলিত হয়। সিধু-কানহুর নেতৃত্বে ক্ষিপ্ত সাঁওতালরা পাঁচকাঠিয়া বাজারে উপস্থিত হয়। পাঁচজন স্থানীয় মহাজন ও দিঘি থানার অত্যাচারী দারোগাকে হত্যা করে সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়।

বিদ্রোহের প্রসার— 

     শত শত সাঁওতাল যুবক তিরধনুক নিয়ে বিদ্রোহে সামিল হয়। রাজমহল থেকে মুরশিদাবাদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দ্রুত বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সাঁওতালরা একে একে মহেশপুর ও পাকুড়ের রাজবাড়ি দখল করে। প্রচুর নীলকুঠি ধ্বংস করে এবং রেল-সাহেবদের বাংলোয় আক্রমণ চালায়।

বিদ্রোহের অবসান—

     সরকার বিদ্রোহী সাঁওতালদের দমন করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়। ইংরেজ-বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায় হাজার হাজার সাঁওতাল। সিধু-কানহুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বহু বন্দি সাঁওতালকে ফাঁসি দেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত ব্রিটিশের দমননীতির কাছে স্তিমিত হয়ে পড়ে সাঁওতাল বিদ্রোহ।


     ব্রিটিশ শাসনকালের প্রথম পর্বে আদিবাসী কৃষক আন্দোলনগুলির মধ্যে সাঁওতাল বিদ্রোহই সর্বপ্রথম ব্যাপক আকার ধারণ করে। পি. সি. যোশী বলেছেন যে, সাঁওতাল বিদ্রোহের একটি বিশেষ দিক ছিল স্বাধীনতার কামনা, সাঁওতাল অঞ্চল ও সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার চিন্তা।

সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব—

     ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পূর্ববর্তীকালে ভারতে সংঘটিত ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনগুলির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ (১৮৫৫ খ্রি.)। আপাতব্যর্থ এই বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশ্লেষণে দেখা যায়—

(১) পৃথক সাঁওতাল পরগনা গঠন— 

     সাঁওতাল বিদ্রোহের তীব্রতায় ব্রিটিশ কোম্পানি বাধ্য হয় সাঁওতালদের জন্য আলাদা পরগনা গঠন করতে। উত্তরে গঙ্গার নিকটবর্তী তেলিয়াগড়াই পরগনার সঙ্গে বীরভূম ও ভাগলপুরের নয় হাজার বর্গকিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে তৈরি করা হয় সাঁওতাল পরগনা। তিন বছরের জন্য এই পরগনায় মহাজনদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

(২) সোচ্চার প্রতিবাদ— 

     এই বিদ্রোহের মাধ্যমে সাঁওতালরা ইংরেজ আশ্রয়পুষ্ট জমিদার ও মহাজনশ্রেণির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুর করে। তাদের সোচ্চার প্রতিবাদ ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনকে প্রেরণা দিয়েছিল।

(৩) অন্য বর্ণের মানুষের যোগদান— 

     সাঁওতাল বিদ্রোহ কেবল সাঁওতালদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সাঁওতাল বিদ্রোহে বিভিন্ন নিম্নবর্ণের মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং তাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে।

(৪) বিশেষ অধিকারের স্বীকৃতি— 

     সাঁওতাল পরগনার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের পরিবর্তে সাঁওতাল গোষ্ঠীপতিদের ওপর। শান্তিরক্ষার জন্য এদের বিশেষ কিছু অধিকার দান করা হয়।

(৫) মহাবিদ্রোহের পথনির্দেশ— 

     এই বিদ্রোহ কৃষক তথা সাধারণ মানুষকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা জোগায়, যা পরবর্তীকালে মহাবিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করে। এই বিদ্রোহে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। পরবর্তীকালে সংঘটিত সিপাহি বা মহাবিদ্রোহে তা সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়। 

(৬) সরকারি নমনীয়তা— 

     বিদ্রোহের পর সরকার সাঁওতালদের প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করে। [i] সাঁওতালদের পৃথক ‘উপজাতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং সাঁওতাল-অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে সাঁওতাল পরগনা নামে জেলা গঠন করা হয়। [ii] ঘোষণা করা হয় যে, সাঁওতাল পরগনায় ব্রিটিশ আইন কার্যকর হবে না। [iii] সাঁওতালদের ওপর ঋণের সুদের হার বেঁধে দেওয়া হয়। [iv] সাঁওতাল পরগনায় ইউরোপীয় মিশনারি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ এবং বাঙালি মহাজনদের বসবাস নিষিদ্ধ হয়। এভাবে ভারতীয় জনজীবন থেকে সাঁওতালরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

(৭) প্রেরণা— 

     সাঁওতাল বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে চাষিদের বিদ্রোহের আগুন থেমে যায়নি। পরবর্তীকালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গরিব ও নিম্নবর্ণের সাঁওতালদের এই বিদ্রোহ প্রেরণা জুগিয়েছিল। 

(৮) বীরত্ব— 

     সাঁওতাল বিদ্রোহে দরিদ্র কৃষকদের স্বাধীনতা লাভ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা লক্ষ করা যায়। সাঁওতালরা সশস্ত্র ইংরেজ বাহিনীর সামনে তিরধনুক, বর্শা, কুড়ুল প্রভৃতি নিয়ে যে বীরত্ব দেখিয়েছিল তা পরবর্তীকালে আন্দোলনকে উৎসাহিত করে।


     উপজাতি-অধ্যুষিত আদিবাসী বিদ্রোহগুলির মধ্যে সাঁওতাল বিদ্রোহই প্রথম ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিমূল কাঁপিয়ে দিতে পেরেছিল। সাঁওতাল বিদ্রোহে ইংরেজরা খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে সাঁওতালরা যাতে আর বিদ্রোহ করতে না পারে, সেজন্য তাদের দুর্বল করে রাখার চেষ্টা করা হয়। উপযুক্ত শিক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্যের সুযোগ না দিয়ে সরকার তাদের অনুন্নত করে রাখার ব্যবস্থা করেন। ফলে বিদ্রোহের পরও সাঁওতালদের অসন্তুষ্টি থেকেই যায়। সাঁওতাল বিদ্রোহ সমাজের সকল সম্প্রদায়ের দরিদ্র জনগণের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে উঠেছিল। অধ্যাপক নরহরি কবিরাজের মতে—“সাঁওতাল বিদ্রোহ আপসহীন গণসংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”



Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

গ্রস্ত উপত্যকা

গ্রস্ত উপত্যকা : ১. গ্রস্ত উপত্যকার সংজ্ঞা :                দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গেলে যে অবনমিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।              এছাড়া, মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণ বলের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের কঠিন শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুনরায় ভূ-আন্দোলন ঘটলে বা ভূ-আলোড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাটল রেখা বরাবর শিলার একটি অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ খাড়াভাবে নীচে বসে যায়। অবনমিত, ওই অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। 

গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক

গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক           গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অগভীর মগ্নচড়া। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক মৎস্যশিকার ক্ষেত্র। নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে বিশাল মহীসোপান অঞ্চলে গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক মগ্নচড়াটির অবস্থান। গ্র্যান্ড ব্যাঙ্কের ওপর জলের গভীরতা ৯০ মিটারের কম এবং এর আয়তন প্রায় ৩৭ হাজার বর্গকিমি। সুমেরু অঞ্চল থেকে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সঙ্গে আগত হিমশৈলগুলি প্রচুর পরিমাণ নুড়ি, কাঁকর, বালি, পলি, পাথর বহন করে আনে। নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত, উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের সঙ্গে মিলিত হলে হিমশৈলগুলি গলে যায়। হিমশৈলবাহিত পদার্থগুলি সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত হয়ে গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক নামে অগভীর মগ্নচড়ার সৃষ্টি করেছে। উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনের ফলে এখানে মাছের খাদ্য প্ল্যাংকটন প্রচুর পরিমাণে জন্মায়। প্ল্যাংকটনের আকর্ষণে গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে প্রচুর মাছের সমাগম ঘটে। তাই, এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

মৌসুমি স্রোত

মৌসুমি স্রোত                 ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশের স্রোত প্রধানত মৌসুমি বায়ুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বলে এই অংশের সমুদ্রস্রোতকে মৌসুমি স্রোত বলা হয়। গ্রীষ্মকাল ও শীতকালে যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় ওই অংশের সমুদ্রস্রোতগুলি ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে। প্রবাহের দিক অনুসারে মৌসুমি স্রোত তাই দুই প্রকার— দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি স্রোত ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি স্রোত। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরবসাগর থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে প্রবাহিত স্রোতকে বলা হয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি স্রোত। এই স্রোত পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সুমাত্রা দ্বীপের পাশ দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে জাপান স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয়। আবার, শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে আরবসাগরের দিকে প্রবাহিত স্রোত উত্তর-পূর্ব মৌসুমি স্রোত নামে পরিচিত। এই স্রোত দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয় হয়।

হিমপ্রাচীর

হিমপ্রাচীর            উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে সুমেরু অঞ্চল থেকে আগত লাব্রাডর স্রোতের শীতল ও গাঢ় সবুজ রঙের জল এবং উপসাগরীয় স্রোতের উষ্ণ ও গাঢ় নীল জল বেশ কিছু দূর পর্যন্ত পাশাপাশি কিন্তু বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের মাঝে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা স্পষ্ট দেখা যায়, এই সীমারেখা হিমপ্রাচীর হিসেবে পরিচিত।

[MCQ]Environment।।Man & Environment।।মানুষ ও পরিবেশ।।সেট ১

মানুষ ও পরিবেশ ➤ প্রশ্ন:১ W.T.O. সম্পূর্ণ নাম হলাে— (a) World Transport Organization. (b) World Tobacco Organization. (c) World Trade Organization.

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।           সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু ও বহুদূর বিস্তৃত শিলাময় স্তূপ যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, ভূমির ঢাল বেশ খাড়া এবং গিরিশৃঙ্গ ও উপত্যকা বর্তমান তাকে পর্বত বলে৷ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি হল—

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন আইন প্রবর্তনের কারণ ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয়তাবাদী নাটক রচনা করে ব্রিটিশের শোষণ ও অপশাসনের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়। অমৃতলাল বসুর ‘চা–কর দর্পণ’, দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকে অত্যাচারী শ্বেতাঙ্গ সাহেবদের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়। অমৃতলাল বসু ও উপেন্দ্রনাথ দাস ‘হনুমান চরিত’ নামক প্রহসন নাটকে ইংরেজের প্রতি ব্যঙ্গবিদ্রুপ প্রকাশ করেন। গ্রামেগঞ্জে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব সৃষ্টির কাজে নাটকগুলি সাফল্য পায়। সরকার দমনমূলক আইন জারি করে দেশাত্মবোধক নাটকের প্রচার বন্ধ করে দিতে উদ্যত হয়।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

রামমোহন রায়কে কেন ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ মনে করা হয় ?

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের কথা বলেন। এ ছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক বিচার–বিশ্লেষণ তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ অভিধায় ভূষিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের মৃত্যুশতবর্ষে (১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “রামমোহন তাঁর আমলের বিশ্বের সমস্ত মানুষের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণরূপে আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন”।  রামমোহন রায়–ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ    (১) সমাজসংস্কারের প্রথম উদ্যোগের জন্য—  ‘সতীদাহ’ প্রথা রোধের লক্ষ্যে রামমোহন রায় সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত এক আবেদনপত্র বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে পাঠান। বেন্টিঙ্ক রামমোহনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৭ নং রেগুলেশন (Regulation–XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, কন্যাপণ, গঙ্গাসাগ...