ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে— উত্তরঃ সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন? উত্তরঃ ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন? উত্তরঃ নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন? উত্তরঃ রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন? উত্তরঃ অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন— উত্তরঃ লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি? উত্তরঃ চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...
মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।
সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু ও বহুদূর বিস্তৃত শিলাময় স্তূপ যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, ভূমির ঢাল বেশ খাড়া এবং গিরিশৃঙ্গ ও উপত্যকা বর্তমান তাকে পর্বত বলে৷ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে।
মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি হল—
(১) জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ :
উচ্চ-পর্বত শ্রেণির অবস্থানের ফলে জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত হয়। পর্বতের প্রতিবাত ঢালে মেঘ বাধা পেয়ে বৃষ্টি ঘটায়। আবার উল্টো দিকে অনুবাত ঢালে জলীয় বাস্প কম হওয়ায় বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতের অবস্থানের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাধা পেয়ে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়। পর্বত কনকনে ঠান্ডা বায়ুকে আটকে মানুষকে স্বস্তি দেয়। যেমন - উত্তরে হিমালয় পর্বতের অবস্থানের জন্য সাইবেরিয়া থেকে আগত শীতল বাতাস ভারতে প্রবেশ করতে পারে না।
(২) কৃষিকাজ ও পানীয় জলের যোগান :
বেশিরভাগ বড়ো বড়ো নদীরই উৎপত্তি হয়েছে পর্বতে। এই নদীগুলি চিরপ্রবাহী, অর্থাৎ এই নদীগুলিতে সারা বছর জল থাকে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায় বড়ো বড়ো সব শহরে পানীয় জলের একমাত্র ভরসা এই নদীগুলি। এছাড়া কৃষিকাজের জন্য যে ব্যাপক পরিমানে জলের প্রয়োজন হয় তা আসে এই সব নদীগুলি থেকে। পর্বতের গা বেয়ে নেমে আসা এই নদীগুলির জলে নানারকম উপকারী পদার্থ মিশে থাকে যা কৃষিকাজে প্রভূত সাহায্য করে।
(৩) প্রাকৃতিক সীমানা :
পর্বত যেমন দুটি দেশের সীমানা নির্দিষ্ট করে ঠিক তেমনি কোনো দেশকে বিদেশি শত্রুর হাত থেকে রক্ষাও করে। যেমন ভারত চীন সীমারেখা অনেকটাই পর্বত দ্বারা চিহ্নিত। দেশের সীমান্তে উঁচু পর্বত অবস্থান করলে দেশটি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রেহাই পায়।
(৪) পর্যটনকেন্দ্র :
দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে বেশির ভাগ মানুষ ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, তাদের মধ্যে অনেকেরই প্রিয় হচ্ছে পাহাড়। স্বাস্থ্যকর জলবায়ু ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠে। এতে প্রচুর মানুষের কাজের সুযোগ বাড়ে।
(৫) বনভূমি :
উঁচু পর্বতের ঢালে সরলবর্গীয় অরণ্য এবং নিম্ন পার্বত্য অঞ্চলে সাধারণত চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমির সৃষ্টি হয়। এই সকল উদ্ভিদের ওপর ভিত্তি করেই নানানরকম আসবাবপত্র, দেশলাই, প্লাইউড, কাগজ শিল্প গড়ে উঠেছে।
(৬) পশুপালন :
সুউচ্চ পর্বতের ঢালে যেখানে গাছপালা কম থাকে এবং চাষবাস হয় না সেই সব অঞ্চলে প্রচুর ঘাস থাকে যার ফলে সেখানে পশুপালন করা হয়। কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ প্রভৃতি অঞ্চলে অনেক উপজাতিদের পশুপালনই একমাত্র পেশা।
(৭) হোটেল ব্যবসা :
মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য সারা বছর ধরে প্রচুর মানুষ পার্বত্য অঞ্চলে বেড়াতে আসেন। পর্যটক দের থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থার জন্য এই সব অঞ্চলে তৈরী হয়েছে অনেক ছোট বড়ো হোটেল।
(৮) মূল্যবান কৃষিজ ফসল চাষ / বাগিচা ফসল :
পার্বত্য অঞ্চলে চা, কফি, কোকো প্রভৃতি মূল্যবান কৃষিজ ফসল ও আপেল, আঙুর, কমলালেবু, নাসপাতি ইত্যাদি ফল জন্মায় ৷ এছাড়াও পর্বতের গায়ে ধাপ কেটে বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। পার্বত্য অঞ্চলে নানান মূল্যবান ভেষজেরও চাষ হয়ে থাকে।
(৯) লোকবসতি :
বন্ধুর ভূপ্রকৃতি, প্রতিকূল জলবায়ু, কৃষিজমি র অভাব, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পে অনগ্রসরতা প্রভৃতি কারণে পার্বত্য অঞ্চলে লোকবসতি কম।
(১০) জলবিদ্যুৎ উৎপাদন :
পার্বত্য অঞ্চলের বন্ধুর ভূপ্রকৃতির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলি খরস্রোতা হওয়ায় বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। হিমালয় পর্বতে অসংখ্য বড়ো বড়ো জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
(১১) খনিজ সম্পদ :
নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া আর অন্যান্য প্রকার পর্বতে বিভিন্ন মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। প্রাচীন ও ক্ষয়প্রাপ্ত পর্বতগুলিতে লোহা, কয়লা, তামা ইত্যাদি বহু মূল্যবান খনিজ সম্পদ সঞ্চিত থাকে।

Comments
Post a Comment