ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে— উত্তরঃ সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন? উত্তরঃ ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন? উত্তরঃ নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন? উত্তরঃ রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন? উত্তরঃ অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন— উত্তরঃ লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি? উত্তরঃ চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...
উত্তর ভারতের নদনদী এবং দক্ষিণ ভারতের নদনদীগুলির মধ্যে পার্থক্য
| S. No | উত্তর ভারতের নদনদী | দক্ষিণ ভারতের নদনদী |
|---|---|---|
| 1 | উত্তর ভারতের অধিকাংশ নদীগুলি সুউচ্চ হিমালয় পর্বতের বিভিন্ন হিমবাহ থেকে সৃষ্ট। | দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদীগুলি ক্ষয়জাত পশ্চিমঘাট পর্বত ও দাক্ষিণাত্য মালভূমি থেকে উৎপন্ন। |
| 2 | উত্তর ভারতের নদনদীগুলি প্রধানত হিমালয়ের বিভিন্ন হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে বলে উত্তর ভারতের অধিকাংশ নদী বরফগলা জলে পুষ্ট। | দক্ষিণ ভারতের নদনদীগুলি কোনো হিমবাহ থেকে উৎপন্ন না হওয়ায় তারা বৃষ্টির জল বা ঝরণার জলে পুষ্ট। |
| 3 | উত্তর ভারতের নদীগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট হওয়ায় সারাবছর নদীতে জল থাকে। | দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট বলে শুষ্ক ঋতুতে বেশির ভাগ সময় নদীতে জল থাকে না। |
| 4 | উত্তর ভারতের নদীগুলিতে সারাবছর জল থাকে বলে জলসেচের সুবিধা পাওয়া যায়। | শুষ্ক ঋতুতে নদীগুলিতে জলের পরিমাণ খুব কমে যাওয়ায় সারা বছর জলসেচের সুবিধা পাওয়া যায় না। |
| 5 | উত্তর ভারতের নদীগুলির দৈর্ঘ্য বড়ো। যেমন—সিন্ধু ও গঙ্গা নদীর দৈর্ঘ্য যথাক্রমে—৩০৪০ কিমি ও ২৫১০ কিমি। | দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে কম। যেমন—গোদাবরী ও নর্মদা নদীর দৈর্ঘ্য যথাক্রমে—১৪৬৫ কিমি ও ১৩১২ কিমি। |
| 6 | হিমালয় অঞ্চলে বর্ষার প্রাবল্যের জন্যে এই সমস্ত নদনদী বরফগলা জল ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টির জল পায়, তাই বর্ষাকালে অনেক সময় নদীগুলিতে বন্যা দেখা দেয়। | দক্ষিণ ভারতের নদনদীগুলির ক্ষেত্রে বন্যার প্রকোপ সীমিত। |
| 7 | উত্তর ভারতের নদীগুলির জলধারণ ক্ষেত্র ও নদী অববাহিকা অঞ্চল অনেক বৃহৎ। যেমন—গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোট নদী অববাহিকা অঞ্চলের পরিমাণ হল ১১.৭৮ ও ৫.৮ লক্ষ বর্গকিমি। | দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির জলধারণ ক্ষেত্র ও অববাহিকা অঞ্চল অনেক ছোটো। যেমন—গোদাবরী নদী অববাহিকার পরিমাণ হল ৩.১২ লক্ষ বর্গকিমি। |
| 8 | উত্তর ভারতের নদীগুলির উৎস ও মোহানার মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য বিশাল। | দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির উৎস ও মোহানার মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য অপেক্ষাকৃত কম। |
| 9 | উত্তর ভারতের নদীগুলি বয়সে নবীন ও নদী উপত্যকায় জলের পরিমাণ বেশি থাকায় নদীগুলিকে প্রায়ই নদীখাত পরিবর্তন করতে দেখা যায়। | নদীগুলি বয়সে প্রাচীন ও প্রাচীন কেলাসিত শিলা দ্বারা গঠিত ভূভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বহুকাল নদীখাতের পরিবর্তন ঘটেনি। |
| 10 | মধ্য ও নিম্নপ্রবাহে উত্তর ভারতের নদীগুলি নাব্য ৷ | দক্ষিণ ভারতে নদীগুলিতে সারা বছর জল না থাকার জন্য এবং মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নাব্য নয়। |
| 11 | উত্তর ভারতের নদনদীগুলির বেশিরভাগ অংশ সমতলভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীখাত চওড়া ও গভীর অথচ উঁচুনীচু নয়। এ কারণে উত্তর ভারতের নাব্য নদনদীগুলি সেচ ও বাণিজ্যের উপযুক্ত। | দক্ষিণ ভারতের নদনদীগুলো প্রায়ই উঁচুনীচু মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এরা খরস্রোতা এবং নদীখাত অনাব্য বলে বাণিজ্যের অনুপযুক্ত। |
| 12 | উত্তর ভারতের নদীগুলির মোহানায় বিশাল বদ্বীপ গড়ে উঠেছে। যেমন—গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ। | দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির মোহানায় বদ্বীপের আয়তন অপেক্ষাকৃত কম। |
| 13 | উত্তর ভারতের নদনদীগুলি অনেক ক্ষেত্রে পর্বতকে আড়াআড়িভাবে অতিক্রম করে নিম্নভূমিতে অবতরণ করেছে, তাই এদের উৎস থেকে মোহানা পর্যন্ত নদীখাতের ঢাল সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। | বহুদিনের ক্ষয়কার্যের ফলে দক্ষিণ ভারতের নদনদীগুলি মালভূমির উপরস্থ উৎস ও মোহানার মধ্যেকার ঢালকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলেছে। |
| 14 | উত্তর ভারতের নদনদীর তীরে ভারতের অধিকাংশ বিখ্যাত নগরগুলো অবস্থিত। | এই নদনদীগুলির তীরে বেশি নগর গড়ে ওঠেনি। |
| 15 | পার্বত্য প্রবাহ ছাড়া মধ্য ও নিম্নপ্রবাহে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা অসুবিধাজনক। | অধিকাংশ নদীই মালভূমির ওপর দিয়ে বেশির ভাগ পথ অতিক্রম করায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী। |
| 16 | উত্তর ভারতের নদীগুলি বয়সে নবীন হওয়ায় উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের পরিমাণ বেশি, ফলে মধ্য ও নিম্নপ্রবাহে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেশি। | দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি বয়সে প্রাচীন বলে উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়ের পরিমাণ কম, ফলে মধ্য ও নিম্নপ্রবাহে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম। |
| 17 | উত্তর ভারতের নদনদীগুলির উচ্চ, মধ্য, নিম্নগতি স্পষ্ট দেখা যায়। তাই এরা আদর্শ নদীর উদাহরণ। | দক্ষিণ ভারতের নদনদীগুলির এই তিন পর্যায় স্পষ্ট দেখা যায় না, তাই এদের আদর্শ নদী বলা যায় না। |
| 18 | উত্তর ভারতের নদীগুলির উপনদী ও শাখানদীর সংখ্যা বেশি। | দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির উপনদী ও শাখানদীর সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম। |
| 19 | উত্তর ভারতের নদী উপত্যকাগুলিতে মৃত্তিকার গভীরতা বেশি। | দক্ষিণ ভারতে নদী উপত্যকাগুলিতে মৃত্তিকার গভীরতা কম। |
| 20 | উত্তর ভারতের নদী অববাহিকায় সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি বৈচিত্র্যময় ও সুস্পষ্ট। | দক্ষিণ ভারতের নদী অববাহিকায় সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি সুস্পষ্ট নয়। সঙ্গে সঙ্গে বৈচিত্র্যেরও অভাব রয়েছে। |
Comments
Post a Comment