পরিবেশের জন্য ভাবনা (Concern About Our Environment) ১. বায়ুমণ্ডলের গঠন (Structure of the Atmosphere) উচ্চতা ও উষ্ণতার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:
স্তূপ পর্বত
ভূ-আলোড়নজনিত প্রসারণ বলের প্রভাবে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ফাটলের মধ্যবর্তী অংশ চাপের ফলে বিচ্যুত হয়ে ওপরে উঠে যায় বা দুটি ফাটলের মধ্যবর্তী অংশ চাপের ফলে নীচে বসে যায় তখন অপেক্ষাকৃত উঁচু অংশকে স্তূপ পর্বত বলে। প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকের বিভিন্ন অংশে চাপের পার্থক্য ঘটে। ফলে শিলায় টান ও সংনমনের সৃষ্টি হয়। টান ও সংনমনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয় এবং ফাটলরেখা বরাবর শিলার এক অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি উল্লম্ব চ্যুতির মাঝের অংশটি নীচে বসে গেলে দু-পাশ ওপরে উঠে আসে। আবার মাঝের অংশটি ওপরে উঠে গেলে দু-পাশ নীচে বসে যায়। তখন ওপরে উঠে আসা অংশকে স্তূপ পর্বত বলে।
স্তূপ পর্বতের বৈশিষ্ট্য—
(১) স্তূপ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের মতো বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত না হয়ে দেশের কোনো অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে।
(২) স্তূপ পর্বতে অনেক চ্যুতি ও গ্রস্ত উপত্যকা দেখা যায়।
(৩) স্তূপ পর্বতের উচ্চতা খুব বেশি হয় না।
(৪) স্তূপ পর্বত মহীভাবক আলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়।
(৫) স্তূপ পর্বতের মাথা কিছুটা চ্যাপ্টা হয়।
(৬) স্তূপ পর্বতের শীর্ষদেশ প্রায় সমতল হয়।
(৭) স্তূপ পর্বত স্বল্পদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
(৮) স্তূপ পর্বত খাড়া পার্শ্বঢালযুক্ত হয়।
উদাহরণ—
ফ্রান্সের ভোজ ও পশ্চিম জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত দুটি স্তূপ পর্বত। ভারতের নর্মদা ও তাপ্তি নদীদ্বয়ের গ্রস্ত উপত্যকার মধ্যবর্তী সাতপুরা একটি স্তূপ পর্বত।
Comments
Post a Comment