ভারতীয় সভ্যতার বিবর্তন - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ( Evolution of Indian Civilization - Short Questions and Answers ) ১। প্রস্তরযুগ বলতে কী বোঝো? প্রস্তরযুগকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? যে যুগে মানুষ পাথরের হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করত, সেই যুগকে প্রস্তরযুগ বলা হয়। প্রস্তরযুগকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- (১) প্রাচীন প্রস্তরযুগ, (২) মধ্য প্রস্তরযুগ, (৩) নব্য প্রস্তরযুগ। ২। প্রাচীন প্রস্তরযুগ, মধ্য প্রস্তরযুগ ও নব্য প্রস্তরযুগের একটা করে বৈশিষ্ট্য দাও। প্রাচীন প্রস্তরযুগ: প্রাচীন প্রস্তরযুগে মানুষ ছিল খাদ্য-সংগ্রাহক। বলা যেতে পারে-Age of Food-gathering Man. মধ্য প্রস্তরযুগ: মধ্য প্রস্তরযুগে মানুষ খাদ্য-উৎপাদকে পরিণত হয়। এসময়কে বলা হয়-Age of Food-producing Man. নব্য প্রস্তরযুগ: এসময় মানুষ নগর সভ্যতার সাথে পরিচিত হয়। ধাতুর যুগ শুরু হয়। ঐতিহাসিক গর্ডন চাইল্ড এসময়কে বলেছেন-Age of Urban Culture.
স্ত্রীশিক্ষা প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়
স্ত্রীশিক্ষা প্রসারে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিদ্যাসাগর মহাশয় বিশ্বাস করতেন যে, স্ত্রীজাতির উন্নতি ছাড়া দেশের ধর্ম, সমাজ ও জীবনধারার স্থায়ী বা প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়।
(১) বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা–
সরকারি সাহায্য ছাড়াই নিজের উদ্যোগে তিনি ৩৫ টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি গ্রামাঞ্চলে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের ওপর জোর দেন। নারীদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে তিনি ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের সঙ্গে মিলিতভাবে বেথুন স্কুল তৈরি করেন।
(২) কলেজ প্রতিষ্ঠা–
নারীদের উচ্চশিক্ষার আলোয় নিয়ে আসার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বেথুন কলেজ, মেট্রোপলিটান কলেজ (যার এখন নাম ‘বিদ্যাসাগর কলেজ’)।
(৩) শিক্ষা সংগঠন প্রতিষ্ঠা–
স্ত্রীশিক্ষার সুষ্ঠু প্রসারের লক্ষ্যে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের মেদিনীপুর, হুগলি, বর্ধমান–সহ বিভিন্ন জেলায় ‘স্ত্রীশিক্ষা সম্মিলনী’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
মহাদেব গোবিন্দ রানাডে বিদ্যাসাগরের নারীকল্যাণকর ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন— “ গবেষণা ও মৌলিকত্ব এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ও শ্রেষ্ঠ সম্পদ দিয়ে তাঁর দেশের স্ত্রীজাতির বন্ধনমুক্তির কাজ করে বিদ্যাসাগর আগামী দিনের ভারতের ঘরে ঘরে আদর্শ ব্যক্তি ও মানবকল্যাণের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।”

Comments
Post a Comment