ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে— উত্তরঃ সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন? উত্তরঃ ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন? উত্তরঃ নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন? উত্তরঃ রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন? উত্তরঃ অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন— উত্তরঃ লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি? উত্তরঃ চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...
প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার বিবর্তনে নদনদীর প্রভাব আলোচনা করো। অথবা, ভারতীয় ইতিহাসে এবং জনজীবনে নদনদীর প্রভাব আলোচনা করো
ভারতীয় ইতিহাসে এবং জনজীবনে নদনদীর প্রভাব
ভারত-একটি নদীমাতৃক দেশ। ভারতীয় সভ্যতার সূচনা ঘটে নদী-অববাহিকা অঞ্চল থেকে। ভারতীয় ইতিহাসের ওপরও সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, গোদাবরী, যমুনা প্রভৃতি নদনদীর যথেষ্ট প্রভাব বর্তমান। নদনদীগুলি ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিকে সিক্ত করেছে, পলি মৃত্তিকায় উর্বর করেছে, আর শস্য-শ্যামলা করে ভারতীয় কৃষি-অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। অন্য দিকে নদী-উপকূলবর্তী অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে জনপদ, নগর, বাণিজ্যকেন্দ্র বা তীর্থস্থান।
(১) সভ্যতার বিকাশ:
সিন্ধুনদের অববাহিকাতেই জন্ম নেয় পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা। পঞ্চনদীর তীরে বিকাশ ঘটে বৈদিক সভ্যতার। পরবর্তীকালে গঙ্গা-অববাহিকা ধরে বৈদিক সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
সিন্ধু সভ্যতা:
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম এবং অন্যতম উন্নত সভ্যতা সিন্ধু নদ এবং তার উপনদীগুলির তীরে গড়ে উঠেছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর মতো শহরগুলি নদীর উর্বর পলিমাটি এবং জল সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলেছিল।
গঙ্গা সভ্যতা:
গঙ্গা নদী এবং তার অববাহিকা বরাবর পরবর্তীকালে বৈদিক সভ্যতা, মহাজনপদ এবং মৌর্য, গুপ্ত সাম্রাজ্যের মতো বৃহৎ সাম্রাজ্যগুলি বিকশিত হয়েছিল। গঙ্গার উর্বর সমভূমি কৃষি উৎপাদন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য আদর্শ পরিবেশ প্রদান করেছিল।
(২) নগরায়ণঃ
ভারতীয় নদনদীগুলির তীরেই গড়ে উঠেছে দিল্লি, আগ্রা, এলাহাবাদ, পাটলিপুত্র, কনৌজ প্রভৃতি নগর। বাণিজ্যিক ও সুলভ পরিবহনের জন্যই নদী-তীরবর্তী অঞ্চলে এ-ধরনের গুরুত্বপূর্ণ শহর গড়ে উঠেছে।
পানীয় জল:
মানব বসতির জন্য পানীয় জলের মূল উৎস নদী। তাই অধিকাংশ প্রাচীন শহর ও গ্রাম নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল।
উর্বর জমি:
নদীর পলি দ্বারা গঠিত উর্বর জমি কৃষি কাজের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বসতি স্থাপন সহজ হয়েছিল।
(৩) তীর্থক্ষেত্র:
নদীর জলে পবিত্র হয়ে উপাসনা করার পরিপ্রেক্ষিতেই বেশিরভাগ তীর্থক্ষেত্র নদী-তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। আর এই তীর্থক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে হরিদ্বার, কাশী, মথুরা, প্রয়াগ, বৃন্দাবন প্রভৃতি তীর্থস্থান ও জনপদ গড়ে উঠেছে।
পবিত্রতা:
ভারতের সংস্কৃতিতে নদীগুলিকে পবিত্র মনে করা হয়। গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী (পৌরাণিক), গোদাবরী, কাবেরী, নর্মদা - এই নদীগুলি তীর্থস্থান এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্র।
উৎসব ও মেলা:
নদীর তীরে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, মেলা এবং স্নান পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংহতির প্রতীক। কুম্ভমেলার মতো বৃহৎ অনুষ্ঠানগুলি নদীর তীরে আয়োজিত হয়।
শিল্প ও সাহিত্য:
নদীগুলি ভারতীয় শিল্পকলা, সঙ্গীত, সাহিত্য এবং লোককথার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বহু কবিতা, গান এবং কাহিনী নদীর মহিমা বর্ণনা করে।
( ৪) কৃষি-অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বিকাশঃ
উর্বর শস্য-শ্যামলা নদী-উপত্যকা ভারতীয় কৃষি-অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। আর জলপথে পরিবহনের সুবিধার জন্যই নদী-তীরবর্তী অঞ্চলে বাণিজ্যকেন্দ্রগুলি গড়ে উঠেছে; যেমন- তাম্রলিপ্ত, পাটলিপুত্র, সপ্তগ্রাম প্রভৃতি নগর।
সেচ:
নদীগুলি ভারতের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে সেচের প্রধান উৎস। ধান, গম, ডাল এবং অন্যান্য ফসলের চাষের জন্য নদীর জল অপরিহার্য। বাঁধ ও খাল নির্মাণ করে নদীর জলকে সেচের কাজে ব্যবহার করা হয়।
পরিবহন:
প্রাচীনকাল থেকেই নদীগুলি পণ্য ও মানুষের পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি বাণিজ্যিক লেনদেন এবং সংস্কৃতির আদান-প্রদানে সহায়তা করেছে।
মৎস্য আহরণ:
নদীগুলি মৎস্যজীবীদের জীবিকার উৎস এবং পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
(৫) বিভিন্ন রাজশক্তির উদ্ভব:
ভারতীয় নদী-উপত্যকাগুলিতেই বিভিন্ন রাজবংশের উদ্ভব লক্ষ করা যায়। গোদাবরী, তুঙ্গাভদ্রা, কাবেরী প্রভৃতি নদী-উপত্যকায় চোল, পল্লব, রাষ্ট্রকূট প্রভৃতি রাজশক্তিগুলির উদ্ভব ঘটে।
(৬) ঐক্যের বন্ধনঃ
নদনদীগুলি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অঞ্চলগুলিকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। আর, তাই কোনো কোনো ভারতবাসীর ঈশ্বর-আরাধনার ক্ষেত্রে আচমন মন্ত্রে গঙ্গা, যমুনা, সিন্ধু, কাবেরী, গোদাবরী প্রভৃতি নদনদীর নাম একত্রে উচ্চারিত হয়।
চ্যালেঞ্জ ও আধুনিক প্রভাব:
বন্যা:
যদিও নদীগুলি জীবন দেয়, তেমনি বর্ষাকালে তাদের প্লাবন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞও ঘটায়, যা প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের জীবন ও সম্পদ কেড়ে নেয়।
দূষণ:
নগরায়ন, শিল্পায়ন এবং কৃষি রাসায়নিকের কারণে নদীগুলি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
জলবিরোধ:
বিভিন্ন রাজ্য বা দেশের মধ্যে নদী জলের ভাগাভাগি নিয়ে প্রায়শই বিবাদ দেখা যায়, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে।
এভাবে বহু ছোটো-বড়ো নদনদী ভারতের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য বিকাশে প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। সমৃদ্ধ হয়েছে ভারতের কৃষি ও শিল্প অর্থনীতি, আর উন্নত হয়েছে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতি।
এভাবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে এক মৈত্রীভাব গড়ে তুলেছে ভারতের নদনদীসমূহ।
READ MORE👇

Comments
Post a Comment