দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন বায়ুমণ্ডলের স্তর ও গঠন Q. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে? Α. পৃথিবী পৃষ্ঠকে আবৃত করে কয়েক হাজার কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলে. Q. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত? Α. ৭৮.০৯%. Q. বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত? Α. ২০.৯৫%. Q. বায়ুমণ্ডলে আর্গন গ্যাসের শতকরা ভাগ কত? Α. ০.৯৩%. Q. বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত? Α. ০.০৩%. Q. বায়ুর প্রকৃতি অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে কটি স্তরে ভাগ করা যায়? Α. ছয়টি. Q. ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত? Α. প্রায় ১৬-১৮ কিমি. Q. উচ্চতা বাড়লে ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর চাপের কী পরিবর্তন হয়? Α. বায়ুর চাপ কমে যায়. Q. ট্রপোপজ কাকে বলে? Α. ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের দিকের স্থির উষ্ণতার অঞ্চলকে (১০-১৬ কিমি) ট্রপোপজ বলে. Q. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উচ্চতা কত? Α. ২০ থেকে ৪৫ কিমি পর্যন...
প্রাচীন ভারত ও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট (Ancient India and Geographical Context) - প্রশ্নোত্তর
১। ভারতবর্ষকে কে নৃতত্ত্বের যাদুঘর আখ্যা দিয়েছেন?
উঃ। ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের যাদুঘর' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২। দ্রাবিড় সভ্যতা ভারতের কোথায় প্রথম গড়ে ওঠে?
উঃ। দ্রাবিড় সভ্যতা প্রথম গড়ে ওঠে দক্ষিণ ভারতে।
৩। 'নাডিক' নামে কারা পরিচিত?
উঃ। আর্যরা 'নার্ডিক' নামে পরিচিত।
৪। ভারতের প্রচীনতম লিপি কোনটি?
উঃ। ভারতের প্রাচীনতম লিপি হল সিন্ধু লিপি।
৫। কে. কবে অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্ধার করেন?
উঃ। স্যার জেমস প্রিন্সেপ ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্ধার করেন।
৬। কোন প্রশস্তিতে গৌতমীপুত্র সাতকর্ণীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে?
উঃ। 'নাসিক প্রশস্তি'তে গৌতমীপুত্র সাতকর্ণীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
৭। 'এলাহাবাদ প্রশস্তি'তে কার কীর্তি বর্ণিত হয়েছে?
উঃ। 'এলাহাবাদ প্রশস্তিতে সমুদ্রগুপ্তের কীর্তি বর্ণিত হয়েছে।
৮। 'আইহোল প্রশস্তিটি কে খোদাই করেন?
উঃ। চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশির সভাকবি রবিকীর্তি আইহোল প্রশস্তিটি খোদাই করেন।
৯। মেগাস্থিনিস কে ছিলেন?
উঃ। মেগাস্থিনিস হলেন 'ইন্ডিকা' গ্রন্থের রচয়িতা।
১০। 'মৃচ্ছকটিকম্' কে লিখেছেন?
উঃ। 'শূদ্রক' মৃচ্ছকটিকম্ লিখেছেন।
১১। ফা-হিয়েনের বিবরণীটির নাম কী?
উঃ। ফা-হিয়েনের বিবরণীটির নাম 'ফো-কিয়ো-কি'।
১২। 'হর্ষচরিত' কার লেখা?
উঃ। 'হর্ষচরিত' বাণভট্টের লেখা।
১৩। 'রামচরিত' কার লেখা?
উঃ। 'রামচরিত' সন্ধ্যাকর নন্দী-র লেখা।
১৪। 'গৌড়বাহ' কার রচনা?
উঃ। বাকপতিরাজ 'গৌড়বাহ' রচনা করেন।
১৫। 'এলাহাবাদ প্রশস্তি' কার রচনা?
উঃ। সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিষেণ 'এলাহাবাদ প্রশস্তি' রচনা করেন।
১৬। 'রাজতরঙ্গিণী' গ্রন্থের রচয়িতা কে? তাতে কোথাকার ইতিহাস পাওয়া যায়?
উঃ। কলহন রাজতরঙ্গিণী গ্রন্থটি রচনা করেন। এই গ্রন্থ থেকে কাশ্মীরের রাজবংশের ধারাবাহিক ইতিহাস পাওয়া যায়।
১৭। 'নাসিক প্রশস্তিতে' কোন্ রাজার কীর্তি বর্ণিত হয়েছে এবং কে রচনা করেন?
উঃ। 'নাসিক প্রশস্তিতে' গৌতমীপুত্র সাতকণীর কীর্তি বর্ণিত হয়েছে। এটি তাঁর মা গৌতমী বলশ্রী রচনা করেন।
১৮। 'বিক্রমাঙ্কদেবচরিত' কে রচনা করেন?
উঃ। বিলহন 'বিক্রমাঙ্কদেবচরিত' রচনা করেন।
১৯। 'অর্থশাস্ত্র' কে রচনা করেন?
উঃ। কৌটিল্য 'অর্থশাস্ত্র' রচনা করেন।।
২০। 'বুদ্ধচরিত' কার রচনা?
উঃ। অশ্বঘোষ 'বুদ্ধচরিত' রচনা করেন।
২১। 'তহকি-ই-হিন্দ' কে রচনা করেন?
উঃ। অলবেরুনি 'তহকিক্-ই-হিন্দ' রচনা করেন। এটি তাঁর ভারতভ্রমণের বিবরণীবিশেষ।
২২। 'মুদ্রারাক্ষস' কার লেখা?
উঃ। বিশাখদত্ত 'মুদ্রারাক্ষস' লিখেছেন।
২৩। 'দায়ভাগ' কার লেখা?
উঃ। জীমূতবাহন 'দায়ভাগ' লিখেছেন।
২৪। 'গীতগোবিন্দ' কার লেখা?
উঃ। জয়দেব 'গীতগোবিন্দ' লিখেছেন।
২৫। 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' কার লেখা?
উঃ। বল্লাল সেন 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' রচনা করেছেন।
২৬। 'কথাসরিৎসাগর কথামালা' কার লেখা?
উঃ। সোমদেব ভট্ট 'কথাসরিৎসাগর কথামালা' রচনা করেছেন।
২৭। 'কুমারপালচরিত' কার লেখা?
উঃ। হেমচন্দ্র 'কুমারপালচরিত' রচনা করেছেন।
২৮। 'গৌড়বহ' কে রচনা করেন?
উঃ। বাষ্পতিরাজ 'গৌড়বহ' রচনা করেন।
২৯। 'পেরিপ্লাস অফ দি ইরিথ্রিয়ান সি' কার রচনা?
উঃ। জনৈক অজ্ঞাতনামা গ্রিক লেখক এটি রচনা করেন।
৩০। হিউয়েন সাঙ-এর লেখা গ্রন্থের নাম কী?
উঃ। হিউয়েন সাঙ্-এর লেখা গ্রন্থের নাম সিইউ-কি।
৩১। মহাভাষ্য কে রচনা করেন?
উঃ। পতঞ্জলি 'মহাভাষ্য' রচনা করেন।
৩২। 'নানঘাট শিলালিপি' কে রচনা করেন?
উঃ। প্রথম সাতকর্ণীর মা নয়নিকা বা নাগনিকা 'নানঘাট শিলালিপি' রচনা করেন।
৩৩। 'গোয়ালিয়র লিপি' কে খোদাই করেন?
উঃ। প্রতিহাররাজ প্রথম ভোজরাজ 'গোয়ালিয়র লিপি' খোদাই করেন।
৩৪। 'কলিঙ্গলিপি' কে খোদাই করেন?
উঃ। সম্রাট অশোক 'কলিঙ্গলিপি' খোদাই করেন।
৩৫। 'অষ্টাধ্যায়ী' কে রচনা করেন?
উঃ। পাণিনি 'অষ্টাধ্যায়ী' রচনা করেন।
৩৬। 'খালিমপুর তাম্রলিপি' কে রচনা করেন?
উঃ। পালরাজা ধর্মপাল 'খালিমপুর তাম্রলিপি' রচনা করেন।
৩৭। 'গঞ্চামলিপি' কে খোদাই করেন?
উঃ। গৌড়রাজ শশাঙ্ক 'গঞ্জামলিপি' খোদাই করেন।
৩৮। 'এরাণ শিলালিপি' কে খোদাই করেন?
উঃ। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত 'এরাণ শিলালিপি' খোদাই করেন।
৩৯। 'দেওপাড়া প্রশস্তি' কে খোদাই করেন?
উঃ। বিজয় সেনের সভাকবি উমাপতি ধর 'দেওপাড়া প্রশস্তি' রচনা করেন।
৪০। 'হাতিগুম্ফালিপি' কোন্ সময়ের?
উঃ। কলিঙ্গরাজ খারবেল-এর সময়কার।
৪১। হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে কোন্ পর্যটক ভারতে আসেন?
উঃ। হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে হিউয়েন সাঙ ভারতে আসেন।
৪২। অলবেরুণি কখন ভারতে আসেন?
উঃ। সুলতান মামুদের ভারত আক্রমণকালে অলবেরুণি ভারতে আসেন।
৪৩। 'ইতিহাসের জনক' কাকে বলা হয়?
উঃ। হেরোডোটাস-কে 'ইতিহাসের জনক' বলা হয়।
৪৪। কোন্ পর্বত ভারতবর্ষকে দুটি খণ্ডে বিভক্ত করেছে?
উঃ। বিন্ধ্যপর্বত ভারতবর্ষকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে।
৪৫। পুরাণের সংখ্যা কয়টি?
উঃ। পুরাণের সংখ্যা ১৮টি।
৪৬। সিংহলের দুটি বৌদ্ধগ্রন্থের নাম লেখো।
উঃ। সিংহলের দুটি বৌদ্ধগ্রন্থের নাম হল- (ক) দীপবংশ, (খ) মহাবংশ।
৪৭। প্রাচীনকালের দু-জন রোমান লেখকের নাম লেখো।
উঃ। প্রাচীনকালের দু-জন রোমান লেখক হলেন- (ক) প্লুটার্ক, (খ) প্লিনি।
৪৮। 'জিওগ্রাফি' কে রচনা করেন?
উঃ। টলেমি (Ptolemy) 'জিওগ্রাফি' রচনা করেন।
৪৯। 'ন্যাচারালিস হিস্টোরিয়া' কে রচনা করেন?
উঃ। রোমান ঐতিহাসিক প্লিনি 'ন্যাচারালিস হিস্টোরিয়া' রচনা করেন।
৫০। 'দশকুমার চরিত' কার রচনা?
উঃ। দন্ডিন 'দশকুমার চরিত' রচনা করেন।
৫১। 'ন্যায়কন্দলী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উঃ। শ্রীধর ভট্ট 'ন্যায়কন্দলী' রচনা করেন।
৫২। 'তাবাকাৎ-ই-নাসিরি' কার রচনা?
উঃ। মিনহাজ-উস-সিরাজ 'তাবাকাৎ-ই-নাসিরি' রচনা করেছেন।
৫৩। 'সিয়েন-হান-সু' কার রচনা?
উঃ। প্যান-কু 'সিয়েন-হান-সু' রচনা করেছেন।
৫৪। 'হৌ-হান-সু' গ্রন্থটি থেকে কোন্ রাজবংশের ইতিহাস জানা যায়? গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
উঃ। 'হৌ-হান-সু' গ্রন্থটি থেকে কুষাণদের সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। ফ্যান-ই এই গ্রন্থটি রচনা করেন।
৫৫। 'মুন্তাখাব-উল-লুবাব' কে লিখেছিলেন?
উঃ। কাফি খাঁ 'মুন্তাখাব-উল-লুবাব' রচনা করেন।
৫৬। জুনাগড় স্তম্ভলিপি কে খোদাই করেন?
উঃ। শক রাজা রুদ্রদামন এই স্তম্ভলিপিটি খোদাই করেন।
৫৭। 'আকবরনামা' কে রচনা করেন?
উঃ। 'আকবরনামা'-আবুল ফজল রচনা করেন।
৫৮। 'আইন-ই-আকবরি' গ্রন্থটি কার লেখা?
উঃ। আবুল ফজল-আইন-ই-আকবরি গ্রন্থটি লিখেছেন।
৫৯। 'হুমায়ূননামা' কার রচনা?
উঃ। সম্রাট হুমায়ুনের ভগ্নী গুলবদন বেগম এই গ্রন্থটি রচনা করেন।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর :
১। কোন্ দেশকে 'হিমালয়ের দান' বলা হয় এবং কেন বলা হয়?
উঃ। আমাদের ভারতবর্ষকে 'হিমালয়ের দান' বলা হয়। কেন-না-
(১) হিমালয়ের বরফগলা-জলে পুষ্ট ভারতীয় নদীগুলি ভারতবর্ষকে শস্য-শ্যামলা করে তুলেছে,
(২) ভারতবর্ষকে মৌসুমি জলবায়ুর দেশে পরিণত করেছে,
(৩) সাইবেরিয়ার অতি-শীতল বায়ুকে বাধা দিয়ে ভারতবর্ষকে তীব্র ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা করেছে,
(৪) বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে ভারতবর্ষকে রক্ষা করেছে।
আর এসব কারণের জন্যই ভারতবর্ষকে 'হিমালয়ের দান' বলা হয়।'
২। ভারতবর্ষকে 'পৃথিবীর ক্ষুদ্র সংস্করণ' বলা হয় কেন?
উঃ। ভারতবর্ষে আছে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল, রাজস্থানের মরুভূমি, মৌসিনরামের বৃষ্টিপাত, দণ্ডকারণ্যের গহন অরণ্য, আবার সিম্মু-গঙ্গার উর্বর সমভূমি। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের মতো ভারতবর্ষের জাতিবৈচিত্র্যও যথেষ্ট লক্ষণীয়, যেমন-বহু প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে এসেছে গ্রিক, পারসিক, শক, হুণ, কুষাণ, তুর্কি, আফগান, মোলাল, পোর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি, দিনেমার, ইংরেজ প্রভৃতি জাতি। এই ভৌগোলিক ও জাতিবৈচিত্র্যের কারণে ভাববর্ষকে 'পৃথিবীর ক্ষুদ্র সংস্করণ' বা 'Epitome of the World' বলা যেতেই পারে।
৩। ভারতবর্ষকে কে, কেন 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলে উল্লেখ করেছেন?
উঃ। ভিনসেন্ট আর্থার স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' (ethnological museum) বলে উল্লেখ করেছেন। কেন-না,
(১) বহু প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে এসেছে গ্রিক, পারসিক, শক, পহ্লব, কুষাণ, হুণ, গুর্জর, আফগান, তুর্কি, আবিসিনীয়, মোঙ্গল, ওলন্দাজ, দিনেমার, ইংরেজ, ফরাসি প্রভৃতি জাতি।
(২) নৃবিজ্ঞানীগণ, যেমন-ড. বিরজাশংকর গৃহ, হার্বাট রিজলে প্রমুখ এখানে পেয়েছেন নর্ডিক, নেগ্রিটো, মঙ্গোলয়েড, প্রোটো-অস্ট্রালয়েড, ভূমধ্যসাগরীয়, ওয়েস্টার্ন ব্রাকিফেলাস প্রভৃতি জাতির অস্তিত্ব। আর এসবের জন্যই স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' (ethnological museum) বলে উল্লেখ করেছেন।
৪। ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে নদনদীর প্রভাব লেখো।
উঃ। ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে নদনদীর প্রভাব অপরিসীম।
(১) ভারতের নদনদীগুলো একদিকে ভারতবর্ষকে যেমন শস্য-শ্যামলা করেছে;
(২) অন্যদিকে তেমনি জনপদ, বাণিজ্যকেন্দ্র, সভ্যতা ও মিশ্র সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
(৩) সিন্ধু-গঙ্গার উর্বর সমভূমিতে ভারতবর্ষ শস্য-শ্যামলা হয়েছে;
(৪) নদনদীর তীরেই মথুরা, বৃন্দাবন, প্রয়াগ, হস্তিনাপুর, আগ্রা, দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই প্রভৃতি তীর্থস্থান, শহর-নগর ও বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। তাই, ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে নদনদীর প্রভাব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।
৫। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের প্রধান বাধা কী?
উঃ। সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই ভারতের মধ্যভাগে দণ্ডায়মান বিন্ধ্যপর্বত উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
৬। ভারতীয় ইতিহাসে বিন্ধ্যপর্বতের দুটি প্রভাব লেখো।
উঃ। (১) ভারতের মধ্যভাগে দণ্ডায়মান বিন্ধ্যপর্বত ভারতবর্ষকে আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্যে ভাগ করেছে। ফলে দুই প্রান্তে দু-ধরনের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
(২) বিন্ধ্যপর্বতের জন্য উত্তর ভারতের মতো বারবার বর্বর আক্রমণ ও লুণ্ঠনের সম্মুখীন হতে হয়নি দক্ষিণ ভারতকে।
৭। বৈদিক সাহিত্য বলতে কী বোঝো?
উঃ। বেদকেন্দ্রিক সাহিত্যকে বৈদিক সাহিত্য বলা হয়। বৈদিক সাহিত্যের মূল কয়েকটি অংশ হল-(১) ঋগ্বেদ, (২) সামবেদ, (৩) যজুর্বেদ, (৪) অথর্ব বেদ। এ ছাড়াও বেদান্ত, সূত্র ও স্মৃতিসাহিত্য, ষড়ুদর্শন প্রভৃতি বৈদিক সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত।
৮। দুটি বৌদ্ধগ্রন্থের নাম লেখো।
উঃ। দুটি বৌদ্ধগ্রন্থ হল-
(ক) মহাবংশ,
(খ) দীপবংশ।
৯। দুটি জৈনগ্রন্থের নাম লেখো।
উঃ। দুটি জৈনগ্রন্থ হল-
(ক) ভগবতী সূত্র,
(খ) পরিশিষ্ট পার্বণ।
১০। উত্তর-পশ্চিমের দুটি পার্বত্য প্রবেশপথের নাম লেখো। এগুলো কীভাবে ভারতীয় ইতিহাসকে প্রভাবিত করে?
উঃ। উত্তর-পশ্চিমের দুটো পার্বত্য গিরিপথ হল-
(১) খাইবার গিরিপথ,
(২) বানিহাল গিরিপথ।
এ-ছাড়াও আছে বোলান গিরিপথ, কারাকোরাম গিরিপথ, পিরপাঞ্জাল গিরিপথ প্রভৃতি।
প্রভাবঃ
(১) এসব গিরিপথগুলো দিয়ে যুগ যুগ ধরে বহু পণ্ডিত, পর্যটক, আক্রমণকারী, লুঠেরা ভারতে এসেছে এবং
(২) রেখে গিয়েছে তাদের শিল্প, সংস্কৃতি ও ভাবধারা;
(৩) আর সঙ্গে নিয়ে গিয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতি, ধর্ম, শিল্প প্রভৃতি।
(৪) শক, হুণ, কুষাণ সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করেছে ভারতীয় সংস্কৃতিকে। তাই, ইতিহাসে এই গিরিপথগুলোর প্রভাব অপরিসীম।
১১। অলবেরূণি কে?
উঃ। সুলতান মামুদের ভারত আক্রমণের সময় অলবেরুণি ভারতে আসেন। তাঁর ভারত-বিষয়ক গ্রন্থ হল 'তহকিক-ই-হিন্দ'। এই গ্রন্থ থেকে খ্রিস্টীয় একাদশ শতকের ভারতীয় সমাজজীবনের বহু মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
১২। মৌর্য যুগে কোন্ বিদেশি দূত ভারতে আসেন? তাঁর একটি গ্রন্থের নাম লেখো।
উঃ। মৌর্যসম্রাট চন্দ্রগুপ্তের রাজসভায় মেগাস্থিনিস নামক এক গ্রিক দূত ভারতে আসেন। তাঁর রচিত একটি গ্রন্থ হল 'ইন্ডিকা'।
১৩। বাণভট্ট কার সভাকবি ছিলেন? তাঁর রচিত একটি গ্রন্থের নাম লেখো।
উঃ। পুষ্যভূতিরাজ সম্রাট হর্ষবর্ধনের সভাকবি ছিলেন বাণভট্ট। তাঁর রচিত একটি গ্রন্থ হল 'হর্ষচরিত'।
১৪। বেদের কয়টি ভাগ আছে? বেদকে শ্রুতি বলা হয় কেন?
উঃ।বেদের চারটি ভাগ আছে-
(১) ঋগ্বেদ,
(২) সামবেদ,
(৩) যজুর্বেদ,
(৪) অথর্ব বেদ।
বেদ-অপৌরুষেয়, এজন্য তা শুনে শুনে মনে রাখতে হত। আর শুনে শুনে মনে রাখতে হত বলে বেদের অপর নাম শ্রুতি।
১৫। দুটি দেশীয় লিপির নাম লেখো।
উঃ। দুটি দেশীয় লিপি হল-
(ক) হাতিগুম্ফা লিপি,
(খ) জুনাগড় লিপি।
১৬। দুটি বিদেশি লিপির নাম লেখো।
উঃ। দুটি বিদেশি লিপির নাম হল-
(ক)'বোঘজ-কোই' লিপি,
(খ) 'নকস-ই-রুস্তম' লিপি।
১৭। এপিগ্রাফি ও প্যালিয়োগ্রাফি কী?
উঃ। লিপির উৎকীর্ণ-বিদ্যাকে এপিগ্রাফি বলে। আর লিপির অনুশীলনকে বলা হয় প্যালিয়োগ্রাফি।
১৮। ইতিহাস রচনায় সাহায্য করেছে এমন দুটি পুরাণের নাম লেখো।
উঃ। ইতিহাস রচনায় সাহায্য করেছে এমন দুটি পুরাণ হল-
(১) বিষ্ণুপুরাণ,
(২) ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ।
১৯। ইতিহাস রচনায় সাহায্য করেছে এমন দুটি উপনিষদের নাম লেখো।
উঃ।ইতিহাস রচনায় সাহায্যকারী দুটি উপনিষদ হল -
(১) কঠোপনিষদ,
(২) কেন উপনিষদ।
২০। ইতিহাস রচনায় সাহায্যকারী দুটি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের নাম লেখো।
উঃ। ইতিহাস রচনায় সাহায্যকারী দুটি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ হল-
(১) জাতক,
(২) ত্রিপিটক।
২১। ইতিহাস রচনায় সাহায্যকারী দুটি জৈন ধর্মগ্রন্থের নাম লেখো।
উঃ। ইতিহাস রচনায় সাহায্য করেছে এমন দুটি জৈন ধর্মগ্রন্থ হল-
(১) দ্বাদশ অঙ্গ,
(২) জৈনকল্পসূত্র।
২২। 'রামচরিত' ও 'রামচরিত মানস'-এর লেখকের নাম লেখো।
উঃ। 'রামচরিত'-এর লেখক সন্ধ্যাকর নন্দী এবং 'রামচরিত মানস'-এর রচয়িতা হলেন কবি তুলসীদাস।
২৩। লিপি কয়প্রকার ও কী কী?
উঃ। লিপিকে মোটামুটিভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-
(১) শিলালিপি,
(২) স্তম্ভলিপি
(৩) তাম্রলিপি।
২৪। অর্থশাস্ত্রের রচয়িতা কে? তাতে কোন ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়?
উঃ। অর্থশাস্ত্র রচনা করেন কৌটিল্য বা চাণক্য। 'অর্থশাস্ত্র' থেকে মৌর্য যুগের শাসনব্যবস্থা, চন্দ্রগুপ্ত-মৌর্যের উত্থান ও তৎকালীন সমাজজীবন সম্পর্কে জানা যায়।
২৫। 'রাজতরঙ্গিণী' গ্রন্থের রচয়িতা কে? তাতে কোন্ ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়?
উঃ। 'রাজতরঙ্গিণী' রচনা করেন কাশ্মীরের ঐতিহাসিক কলহন। এই গ্রন্থ থেকে কাশ্মীরের রাজবংশের ধারাবাহিক কিছু ইতিহাস পাওয়া যায়।
২৬। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদানকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং কী কী?
উঃ। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসকে প্রধান দু-ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
(১) সাহিত্যিক,
(২) প্রত্নতাত্ত্বিক।
সাহিত্যিক উপাদানকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) দেশীয় সাহিত্য,
(খ) বৈদেশিক সাহিত্য,
(গ) ঐতিহাসিক সাহিত্য।
প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানকেও আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
(১) লেখ বা লিপি,
(২) মুদ্রা,
(৩) স্থাপত্য-ভাস্কর্য।
২৭। 'এলাহাবাদ প্রশস্তি' থেকে আমরা কী জানতে পারি?
উঃ। সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিষেণ-এর রচিত 'এলাহাবাদ প্রশস্তি' থেকে তৎকালীন গুপ্ত সম্রাটের আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্য অভিযানের বিস্তৃত বিবরণ জানতে পারি। এ ছাড়া সমুদ্রগুপ্তের শখ, জীবনযাত্রা ও প্রাদেশিক উপজাতিদের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্কের বিবরণ জানতে পারি।
২৮। প্রত্নতত্ত্ব কী?
উঃ। পরিভাষায় প্রত্নতত্ত্বকে Archaeology বলা হয়। এটি গ্রিক শব্দ arkhaiologia থেকে এসেছে, যার অর্থ হল-অতীতের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিশেষ চর্চা করা।
২৯। 'লিপি' বা 'লেখ' বলতে কী বোঝো?
উঃ। Epigraphy হল লেখচর্চা। আর 'লেখ' বলতে কোনো বস্তুর ওপর উৎকীর্ণ লেখাকে বোঝায়; একে 'লিপি'ও বলা হয়।
৩০। ইতিহাসের উপাদান কী?
উঃ। যেসব যুক্তিনির্ভর বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ইতিহাস রচনা করা হয়ে থাকে, তাকে ইতিহাসের উপাদান বলে। যেমন-মুদ্রা, শিলালিপি, স্থাপত্য-ভাস্কর্য ইত্যাদি।
৩১। বর্তমানে, একবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে, খননকার্যের ফলে কোথায় কোথায় প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে?
উঃ। বর্তমানে, একবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে, খননকার্যের ফলে প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতাগুলোর নিদর্শন পাওয়া গেছে-
(ক) মেহেরগড় সভ্যতায়,
(খ) পশ্চিমবঙ্গের বেড়াচাঁপায়,
(গ) চন্দ্রকেতুগড় প্রভৃতি স্থানে।
৩২। খালিমপুর তাম্রলিপি থেকে কী জানা যায়?
উঃ। খালিমপুর তাম্রলিপি থেকে ধর্মপাল যেসব রাজ্য জয় করেছিলেন, তার তথ্য পাওয়া যায়।
৩৩। কে, কবে মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন?
উঃ। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে স্যার রিচার্ড মিডো ও জেন ফ্রাঁসোয়া জারিজ মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন।
৩৪। খারবেলের 'হাতিগুম্ফা লেখ' থেকে কী জানা যায়?
উঃ। খারবেলের হাতিগুম্ফা লেখ থেকে কলিঙ্গরাজ খারবেলের কাহিনি জানা যায়। এছাড়া, মৌর্য-পরবর্তীযুগে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার তথ্য এবং খারবেলের মগধ অভিযানের ঘটনা আমরা জানতে পারি।
৩৫। 'জুনাগড় শিলালেখ' কে প্রণয়ন করেন? এ-থেকে কী জানতে পারি?
উঃ। শকরাজা রুদ্রদামন (১৩০-১৫০খ্রিঃ) 'জুনাগড় শিলালেখ' প্রণয়ন করেন। এই শিলালেখ থেকে রুদ্রদামনের ব্যক্তিগত জীবন, রাজ্যবিজয় এবং রাজ্যশাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারি।
৩৬। মেহেরৌলি লৌহস্তম্ভ কোথায় অবস্থিত? এখানে কার বিজয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
উঃ। মেহেরৌলি লৌহস্তম্ভ দিল্লিতে অবস্থিত। চন্দ্র নামক এক রাজার বিজয়ের কথা এখানে উল্লিখিত হয়েছে। সম্ভবত এই 'চন্দ্র' হলেন গুপ্তসম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।
৩৭। 'মিলিন্দ-পন্নহা' কে রচনা করেন? এখানে কী বলা হয়েছে?
উঃ। বৌদ্ধ-পণ্ডিত নাগসেন 'মিলিন্দ-পহো' রচনা করেন। নাগসেন ও মিনান্ডার-এর বৌদ্ধধর্ম-সম্পর্কিত কথোপকথন এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
৩৮। 'প্রবন্ধকোষ' কে লিখেছেন? এই গ্রন্থ থেকে কোন ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়?
উঃ। রাজশেখরের লেখা 'প্রবন্ধকোষ' থেকে প্রাচীন গুজরাটের রাজনৈতিক ইতিহাস জানা যায়।

Comments
Post a Comment