ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে— উত্তরঃ সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন? উত্তরঃ ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন? উত্তরঃ নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন? উত্তরঃ রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন? উত্তরঃ অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন— উত্তরঃ লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি? উত্তরঃ চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...
ভারত-ইতিহাসে সমুদ্রের প্রভাব
ভারত-ইতিহাসে সমুদ্রের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী। সমুদ্র ভারতের কেবল ভৌগোলিক সীমানাই নির্ধারণ করেনি, বরং এর সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বিশ্ব-সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। ভারতবর্ষের তিনদিক সমুদ্রবেষ্টিত। তাই, ভারত-ইতিহাসে সমুদ্রের প্রভাব থাকাটাই স্বাভাবিক ঘটনা।
(১) তিনদিক সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় তিন দিকের সীমান্ত বেশ সুরক্ষিত।
(২) আবার এই সমুদ্রপথ ধরেই আমাদের দেশের সঙ্গে চিন, রোম, মালয়, সুমাত্রা, জাভা, সিংহল ও পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
ভারত মহাসাগরের প্রভাব:
বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছাড়াও বৈদেশিক আধিপত্য স্থাপনে ভারত মহাসাগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ভারত মহাসাগরের আর্দ্র বাতাস পূর্বঘাট পর্বতমালায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে চেন্নাই অঞ্চলের ভূমিকে সিক্ত করে ওই স্থানকে শস্য-শ্যামলা করেছে।
বঙ্গোপসাগরের প্রভাব:
'পেরিপ্লাস অফ দি ইরিথ্রিয়ান সি' নামক গ্রন্থ থেকে খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের ভারতীয় সামুদ্রিক বাণিজ্যের তথ্য পাই। এসময় 'তাম্রলিপ্ত বন্দর' (বর্তমানে মেদিনীপুর জেলায়) বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। চোলগণ তাঁদের নৌ-আধিপত্যের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকে 'চোল হ্রদ'-এ পরিণত করেছিলেন।
অর্থনীতি ও বাণিজ্য (Trade and Economy)
প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত সমুদ্র ভারতের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য:
ভারতের সুদীর্ঘ উপকূলরেখা (প্রায় 7500 কিলোমিটার) অসংখ্য বন্দর গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। এই বন্দরগুলি দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় দিকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলত।
পশ্চিম উপকূল:
এখানে লোথাল (প্রাচীন), সুরাট, ক্যাম্বে, কোচিন এবং আধুনিক মুম্বাইয়ের মতো বন্দরগুলি দিয়ে রোম, মেসোপটেমিয়া, আরব ও আফ্রিকার সঙ্গে মসলা, বস্ত্র, রত্নপাথর ইত্যাদির বাণিজ্য হতো।
পূর্ব উপকূল:
তাম্রলিপ্ত (প্রাচীন), আরিকামেডু, এবং পরে চেন্নাইয়ের মতো বন্দর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (সুবর্ণভূমি বা ইন্দোনেশিয়া), চীন ও শ্রীলঙ্কার সাথে বাণিজ্য চলত।
সম্পদ আহরণ:
সমুদ্র মৎস্য, মুক্তা এবং লবণ আহরণের মতো জীবিকার উৎস সরবরাহ করেছে।
সাংস্কৃতিক বিস্তার ও ধর্মীয় প্রভাব (Cultural Expansion and Religion)
সমুদ্রপথ ভারতীয় সংস্কৃতি, ধর্ম ও ভাষার বিস্তারে সহায়ক হয়েছিল। এই প্রক্রিয়াকে সাধারণত বৃহত্তর ভারত (Greater India) বলা হয়।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিস্তার:
ভারতীয় বণিক, ধর্মপ্রচারক এবং ভ্রমণকারীরা সমুদ্রপথ ব্যবহার করে বৌদ্ধধর্ম, হিন্দুধর্ম, সংস্কৃত ভাষা ও ভারতীয় শিল্পকলা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে (যেমন ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া) ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, কম্বোডিয়ার আঙ্করভাট এবং ইন্দোনেশিয়ার বোরোবুদুর স্তূপ ভারতীয় স্থাপত্য ও ধর্মের প্রভাব বহন করে।
বিদেশী সংস্কৃতির আগমন:
সমুদ্রপথ দিয়েই বিদেশী সংস্কৃতিও ভারতে এসেছে। আরব বণিকদের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক বিস্তার ঘটেছিল পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলিতে, যা ভারতের সাংস্কৃতিক মিশ্রণে অবদান রাখে।
রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা (Politics and Defence)
সমুদ্র প্রাচীন ও মধ্যযুগে ভারতকে সুরক্ষা দিলেও আধুনিক যুগে তা আক্রমণকারীদের প্রবেশপথ হয়ে ওঠে।
প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা:
স্থলভাগের মতো সরাসরি বৃহৎ আক্রমণ থেকে সমুদ্র একসময় ভারতের উপদ্বীপীয় অংশকে সুরক্ষা দিত।
সামুদ্রিক শক্তি:
বিভিন্ন ভারতীয় রাজবংশ, যেমন চোল রাজারা, শক্তিশালী নৌ-বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। চোলরা সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কা, মালয় ও সুমাত্রার মতো অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে সামুদ্রিক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।
ঔপনিবেশিক শাসন:
আধুনিক যুগে সমুদ্র ছিল ইউরোপীয় শক্তির (পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ইংরেজ, ফরাসি) ভারতে প্রবেশের প্রধান পথ। ইংরেজদের শক্তিশালী নৌ-বাহিনী (Royal Navy) সমুদ্রপথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেই ভারতে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল।
ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব (Geo-Strategic Importance)
ভারত মহাসাগরের কেন্দ্রে ভারতের অবস্থান ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপদ্বীপীয় অবস্থান:
ভারত মহাসাগরের উপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার সুবিধা রয়েছে, যা এই অঞ্চলকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
আধুনিক নিরাপত্তা:
বর্তমানে ভারতের নৌ-বাহিনী দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) রক্ষা করার পাশাপাশি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই সমুদ্রপথেই এসেছিল পোর্তুগিজ, ওলন্দাজ, দিনেমার, ফরাসি ও ইংরেজ জাতি। তাদের আগমনে ভারতবর্ষে যেমন আধুনিকতার মুক্ত হাওয়া বয়ে গিয়েছিল, তেমনি প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজদের অধীনে পরাধীনতার গ্লানিও ভারতীয়দের সহ্য করতে হয়েছিল।
READ MORE👇

Comments
Post a Comment