ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে— উত্তরঃ সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন? উত্তরঃ ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন? উত্তরঃ নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন? উত্তরঃ রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন? উত্তরঃ অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন— উত্তরঃ লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি? উত্তরঃ চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...
ইংরেজ দের ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ, ইতালি ও জার্মানির ঐক্য আন্দোলন, ফরাসি ও রুশ বিপ্লব ইত্যাদি ইউরোপীয় ঘটনাগুলি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পটভূমি রচনা করেছিল। তাই ক্রিস্টোফার লয়েড বলেছেন, “Nationalism is the religion of the modern world”.
১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকাস্থিত ইংরেজ উপনিবেশগুলি ইংল্যান্ডের অন্যায় শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ফলস্বরূপ মাত্র তেরোটি উপনিবেশ ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের আমেরিকান বলে দাবি করে এবং বিরাট শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় ভারতীয় জাতীয়তাবাদ অনুপ্রাণিত হয়। অধ্যাপক হেইজ এই প্রসঙ্গে বলেছেন—“আমেরিকার বিপ্লবের মাধ্যমে আমেরিকা এবং সমগ্র বিশ্বে গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়”।
(২) ইতালির আন্দোলন—
ম্যাৎসিনি, কাভুর ও গ্যারিবল্ডির নেতৃত্বে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ইতালি একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এতে ভারতীয়রা উদ্দীপিত হন।
(৩) ফরাসি বিপ্লব—
১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ বিপ্লব দ্বারা রাজতন্ত্রের উচ্ছেদের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। ফরাসি বিপ্লবের সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার ধারণা ভারতবাসীর জাতীয়তাবাদী চেতনাকে উজ্জীবিত করে।
(৪) রুশবিপ্লব (বলশেভিক বিপ্লব)—
রাশিয়ায় ১৯১৭ সালে বলশেভিক দলের প্রচেষ্টায় তিনশো বছরের রোমানভ রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। এই ঘটনায় অনুপ্রেরিত হয়ে ভারতীয়রাও বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তারাও এদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাতে পারবে।
এই ঘটনাগুলি ছাড়াও উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে গ্রিসের স্বাধীনতাযুদ্ধ, আয়ার্ল্যান্ডের আন্দোলন, জার্মানির ঐক্য আন্দোলন ব্রিটিশ–বিরোধী ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রেক্ষিত রচনা করেছিল। হ্যান্সফন বলেছেন, “ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় আন্দোলনের ধারা থেকে জাতীয়তাবাদের সূচনা ঘটে”। কার্ল মার্কসের মতে, “সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের অপরাধগুলিই ইতিহাসের পরোক্ষ অস্ত্ররূপে বিপ্লব ত্বরান্বিত করে”।
Comments
Post a Comment