ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে— উত্তরঃ সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন? উত্তরঃ ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন? উত্তরঃ নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন? উত্তরঃ রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন? উত্তরঃ অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন— উত্তরঃ লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি? উত্তরঃ চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...
নব্যবঙ্গ আন্দোলনের সূচনা ও উদ্দেশ্য -
হিন্দু কলেজের অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর নেতৃত্বে নব্যবঙ্গীয়রা সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তবে এই কাজ করতে গিয়ে বেশকিছু বাড়াবাড়ি করে ফেলায় তাঁদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
নব্যবঙ্গ আন্দোলন দ্রুত ভেঙে পড়ার কারণ—
সহজাত কিছু ত্রুটির জন্য নব্যবঙ্গ আন্দোলন দ্রুত স্তিমিত হয়ে পড়ে। এখানে কয়েকটি ত্রুটি তুলে ধরা হলো —
১. গঠনমূলক কর্মসূচির অভাব (Lack of Constructive Program)
নব্যবঙ্গ দলের প্রধান দুর্বলতা ছিল তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক কর্মসূচি না থাকা। তারা হিন্দু ধর্মের কুসংস্কার, মূর্তিপূজা ও জাতিভেদ প্রথার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এর বিকল্প কোনো আদর্শ বা সমাজব্যবস্থা মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারেননি। শুধু 'ভাঙা'র কথা বললেও 'গড়া'র কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না।
২. উগ্র ও নেতিবাচক মানসিকতা
ডিরোজিওর শিষ্যরা হিন্দু ধর্ম ও সমাজকে আঘাত করার জন্য অত্যন্ত উগ্রপন্থা বেছে নিয়েছিলেন। তারা প্রকাশ্যে মদ্যপান, গোমাংস ভক্ষণ এবং পৈতে ছিঁড়ে ফেলার মতো কাজ করতেন। ঐতিহাসিক অমলেশ ত্রিপাঠী যথার্থই বলেছেন, তাদের এই উগ্রতা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। সমাজের মূল স্রোতের মানুষ তাদের সংস্কারক না ভেবে 'উচ্ছৃঙ্খল যুবক' হিসেবেই দেখত।
৩. জনবিচ্ছিন্নতা (Disconnect from the Masses)
এই আন্দোলন মূলত সীমাবদ্ধ ছিল কলকাতার ইংরেজি শিক্ষিত উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের কিছু যুবকের মধ্যে। ভারতের বিশাল গ্রামীণ সমাজ, কৃষক বা সাধারণ মেহনতি মানুষের সাথে তাদের কোনো সংযোগ ছিল না। তারা সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা না বলে বরং তাদের অবজ্ঞা করতেন, যা আন্দোলনকে জনসমর্থনহীন করে তুলেছিল।
৪. উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব
আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ডিরোজিও মাত্র ২২ বছর বয়সে (১৮৩১ সালে) কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর এই তরুণ গোষ্ঠীকে সঠিক পথে পরিচালনা করার মতো কোনো যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতার আবির্ভাব ঘটেনি। ফলে আন্দোলনটি দিশাহারা হয়ে পড়ে।
৫. আপোষহীনতা থেকে সরে আসা
পরবর্তী জীবনে এই আন্দোলনের অনেক সদস্যই তাদের উগ্র মতবাদ থেকে সরে এসে সরকারি চাকরি বা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন এবং সমাজের সাথে আপোষ করে নেন। তারুণ্যের যে 'আগুন' নিয়ে তারা শুরু করেছিলেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে পারিবারিক ও সামাজিক চাপে তা নিভে যায়।
৬. বিকল্প সংস্কারকদের প্রভাব
তৎকালীন সমাজে রাজা রামমোহন রায় বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো সংস্কারকরা যখন ধর্মকে পুরোপুরি বর্জন না করে তার ভেতরের কুসংস্কার দূর করার চেষ্টা করছিলেন, তখন সাধারণ মানুষ নব্যবঙ্গ দলের 'নাস্তিকতা'র চেয়ে এই মধ্যপন্থী সংস্কারকেই বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেছিল।
সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আমরা দেখতে পায় নব্যবঙ্গ আন্দোলন সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। মূলত অভিজাত শ্রেণির মধ্যেই নব্যবঙ্গীয়দের কাজকর্ম সীমাবদ্ধ ছিল। শুধুমাত্র পাশ্চাত্য ভাবধারার অন্ধ অনুসরণ করায় সমাজ বা জাতির জীবনে তাঁরা কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। ড. অনিল শীল নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর প্রতি সমালোচনার সুরে বলেছেন, “এক প্রজন্মেই তাঁদের সব শেষ, তাঁদের কোনো পিতা এবং সন্তান–সন্ততি নেই”।
READ MORE👇

Comments
Post a Comment