Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 12

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাজ্যসভার সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ—   উত্তরঃ ৬ বছর। প্রশ্নঃ রাজ্যপালকে কে শপথ বাক্য পাঠ করান? উত্তরঃ   সংশ্লিষ্ট রাজ্য যে হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত সেই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

ভারতের ইতিহাসে বিন্ধ্যপর্বতের প্রভাব আলোচনা করো।

ভারতের ইতিহাসে বিন্ধ্যপর্বতের প্রভাব



         ভারতের ইতিহাসে এবং ভূগোলে বিন্ধ্যপর্বত কেবল একটি পর্বতমালা নয়, বরং এটি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক প্রাচীর বা বিভাজিকা হিসেবে কাজ করেছে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব অপরিসীম।

নিচে ভারতের ইতিহাসে বিন্ধ্যপর্বতের প্রভাব আলোচনা করা হলো:

১. ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিভাজিকা

বিন্ধ্যপর্বত ভারতকে প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে:

আর্যাবর্ত (উত্তর ভারত): 

বিন্ধ্যের উত্তরাংশ, যা সিন্ধু-গঙ্গা সমভূমি ও হিমালয় অঞ্চল নিয়ে গঠিত।

দাক্ষিণাত্য (দক্ষিণ ভারত): 

বিন্ধ্যের দক্ষিণাংশ, যা উপদ্বীপীয় ভারত নামে পরিচিত।

       প্রাচীন ও মধ্যযুগে এই পর্বতমালা উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যে বাধা সৃষ্টি করেছিল। উত্তর ভারতের কোনো সম্রাটের পক্ষে (যেমন—মৌর্য, গুপ্ত বা মোগল) বিন্ধ্য অতিক্রম করে দীর্ঘকাল দক্ষিণ ভারত শাসন করা কঠিন ছিল। একইভাবে, দক্ষিণ ভারতের রাজশক্তিগুলোর (যেমন—রাষ্ট্রকূট বা চোল) পক্ষেও উত্তরে দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য বিস্তার করা সহজ ছিল না।

২. সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা

বিন্ধ্যপর্বত একটি দুর্গম বাধা হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের সংস্কৃতি স্বতন্ত্রভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে:

ভাষা ও সাহিত্য: 

উত্তরে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা (সংস্কৃত ও তার থেকে উদ্ভূত ভাষাসমূহ) এবং দক্ষিণে দ্রাবিড় ভাষা গোষ্ঠী (তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম) প্রাধান্য পেয়েছে।

স্থাপত্যরীতি: 

উত্তরে ‘নগর’ শৈলী এবং দক্ষিণে ‘দ্রাবিড়’ শিল্পরীতির মন্দির স্থাপত্যের বিকাশ ঘটেছে। বিন্ধ্যের বাধার কারণেই দক্ষিণের সংস্কৃতিতে উত্তরের প্রভাব সহজে গ্রাস করতে পারেনি।

৩. বহিরাগত আক্রমণ থেকে রক্ষা

            ভারতের ইতিহাসে অধিকাংশ বৈদেশিক আক্রমণ (আর্য, হুন, শক, তুর্কি, মোগল) উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে হয়েছে। বিন্ধ্যপর্বত এবং তৎসংলগ্ন ঘন অরণ্য দক্ষিণ ভারতকে এই নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণ ও লুটতরাজ থেকে অনেকটা সুরক্ষিত রেখেছিল। ফলে উত্তর ভারত যখন রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, দক্ষিণ ভারত তখন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল এবং নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার ধরে রাখতে পেরেছিল।

৪. আদিবাসী ও জনজাতিদের আশ্রয়স্থল

বিন্ধ্যপর্বত ও তার সংলগ্ন অরণ্য অঞ্চল প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন আদিবাসী ও জনজাতি গোষ্ঠীর (যেমন—ভিল, গোণ্ড, কোল) নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যখনই সমতলে শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটেছে, তখন মূলস্রোতের বাইরে থাকা এই জনগোষ্ঠীগুলো বিন্ধ্যের দুর্গম অঞ্চলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

৫. ঋষি অগস্ত্য ও সাংস্কৃতিক মিলন

ইতিহাস ও পুরাণের মিশেলে ঋষি অগস্ত্যের বিন্ধ্য পর্বত অতিক্রম করার কাহিনীটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মনে করা হয়, ঋষি অগস্ত্যই প্রথম বিন্ধ্য অতিক্রম করে দাক্ষিণাত্যে আর্য সংস্কৃতি বা বৈদিক ধর্ম প্রচার করেন। এটি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ, বাধা হলেও বিন্ধ্য একেবারে অলঙ্ঘ্য ছিল না।

        বিন্ধ্যপর্বত ভারতের ইতিহাসে একটি ‘দেয়াল’ হিসেবে কাজ করলেও তা কখনোই উত্তর ও দক্ষিণকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেনি। বরং এটি ভারতের 'বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য' (Unity in Diversity) গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে দুটি ভিন্ন ধারা পাশাপাশি বিকশিত হয়েও একে অপরের পরিপূরক হয়েছে।



একনজরে বিন্ধ্যপর্বতের প্রভাব:  

(১) দাক্ষিণাত্যে 'দ্রাবিড় সভ্যতা'-র বিকাশ ঘটেছে।
(২) বিকশিত হয়েছে উন্নত ও মৌলিক শিল্প-স্থাপত্য।
(৩) সেইসলো ঢোল-শিল্প, চালুক্য-শিল্প, চান্দের- শিল্প প্রভৃতি দ্রাবিড় সভ্যতার অঙ্গ হিসাবে গড়ে উঠেছে।
(৪) ক্রমে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, সমুদ্রগুপ্ত, আলাউদ্দিন খলজি, আকবর প্রমুখ পরাক্রমশালী নৃপতিবর্গ আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্যের অধীশ্বর হয়। ফলে, ধীরে ধীরে ভারতবর্ষের দুই প্রান্তের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে ওঠে। জন্ম নেয়-মিশ্র সংস্কৃতির ভারতবর্ষ।







READ MORE👇
















Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য

  স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য Sl. No. স্থলবায়ু সমুদ্রবায়ু 1 স্থলবায়ু মূলত শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়। সমুদ্রবায়ু মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির হয়। 2 স্থলবায়ু প্রধানত রাত্রিবেলায় প্রবাহিত হয়। সমুদ্রবায়ু প্রধানত দিনেরবেলায় প্রবাহিত হয়। 3 সূর্যাস্তের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুর প্রবাহ শুরু হয় ও রাত্রির শেষদিকে বায়ুপ্রবাহের বেগ বৃদ্ধি পায়। সূর্যোদয়ের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুরপ্রবাহ শুরু হয় ও অপরাহ্নে বায়ুপ্রবাহে বেগ বৃদ্ধি পায়। 4 স্থলবায়ু উচ্চচাযুক্ত স্থলভাগ থেকে নিম্নচাপযুক্ত জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে স্থলবায়ুকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। সমুদ্রবায়ু উচ্চচাপযুক্ত সমুদ্র থেকে নিম্নচাপযুক্ত স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে সমুদ্রবায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। 5 স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবার দরুন বেগ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ প্রবাহিত হ...

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।           সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু ও বহুদূর বিস্তৃত শিলাময় স্তূপ যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, ভূমির ঢাল বেশ খাড়া এবং গিরিশৃঙ্গ ও উপত্যকা বর্তমান তাকে পর্বত বলে৷ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি হল—

প্রাকৃতিক ভূগোলের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর-বারিমণ্ডল, সেট-৩

বারিমণ্ডল প্রশ্ন:১ উষ্ণ স্রোত কীভাবে জলবায়ুকে প্রভাবিত করে ? উত্তর:  নিম্ন অক্ষাংশ থেকে প্রবাহিত উষ্ণ স্রোত উচ্চ অক্ষাংশের শীতল অঞ্চলে সমুদ্রজলের উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। উষ্ণ স্রোত যে উপকূলে প্রবাহিত হয় সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে। কারণ—উষ্ণ স্রোতের উপরের বাতাস উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির। উষ্ণ স্রোত নিরক্ষীয় অঞ্চল ও মেরু অঞ্চলের সমুদ্রের জলে উষ্ণতার সমতা বিধানে সাহায্য করে। তাছাড়া উষ্ণ স্রোত সংলগ্ন উপকূলের উষ্ণতাও বৃদ্ধি করে।

সমাজসংস্কাররূপে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান।।

সমাজসংস্কাররূপে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান             হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১৭৭৪ খ্রি.) জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ভারত পথিক বলে সম্মান জানিয়েছেন। ভারতের ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের কাজে তাঁর নিরলস সাধনার কারণে তাঁকে আধুনিক ভারতের জনক বলে অভিহিত করা হয়। ড. বিপানচন্দ্রের মতে—“উনিশ শতকের প্রথম লগ্নে ভারতীয় আকাশে রামমোহন রায় উজ্জ্বলতম নক্ষত্ররূপে ভাস্বর ছিলেন”।

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য

  আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য Sl. No. আবহবিকার ক্ষয়ীভবন 1 আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন—উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, জলীয় বাষ্প, তুষারপাত ও বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান দ্বার শিলাসমূহের চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া বা বিয়োজনকে আবহবিকার বলে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন—নদী, বায়ু, হিমবাহ, ইত্যাদি দ্বারা আবহবিকারপ্রাপ্ত চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহের অপসারণকে ক্ষয়ীভবন বলে। 2 আবহবিকারের ফলে মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের (গঠন, আকৃতি, খনিজের আণবিক সজ্জা প্রভৃতি) পরিবর্তন ঘটে । ক্ষয়ীভবনের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয়। কিন্তু মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন সাধন হয় না। 3 আবহবিকার কোনোভাবে ক্ষয়ীভবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ক্ষয়ীভবন সম্পূর্ণরূপে আবহবিকারের ওপর নির্ভরশীল। আবহবিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে না। 4 আবহবিকারের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহ শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলাস্তরের ওপরেই অবস্থান করে। ক্ষয়ীভবনের ফলে আবহবিকার প্রাপ্ত শিলাচূর্ণ স্থানান্তরি...

ঐতিহাসিক তথ্য সরবরাহে সাহিত্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যের অবদান বিস্তারিত আলোচনা করো।

ঐতিহাসিক তথ্য সরবরাহে সাহিত্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যের অবদান বিস্তারিত আলোচনা করো।           ইতিহাস হলো মানব সভ্যতার অগ্রগতির প্রামাণ্য দলিল। কিন্তু প্রাচীন ভারতে হেরোডোটাস বা থুকিডিডিসের মতো কোনো প্রথাগত ঐতিহাসিক ছিলেন না। এ কারণেই একসময় আল-বিরুনি মন্তব্য করেছিলেন যে, "ভারতীয়দের কোনো ইতিহাস চেতনা নেই।" কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ সত্য নয়। প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষি এবং কবিরা সরাসরি ইতিহাস না লিখলেও, তাঁদের রচিত বিপুল সাহিত্যরাশির মধ্যে ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের মহামূল্যবান উপাদান। এই উপাদানগুলিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করলেই প্রাচীন ভারতের লুপ্ত ইতিহাস পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

গ্রস্ত উপত্যকা

গ্রস্ত উপত্যকা : ১. গ্রস্ত উপত্যকার সংজ্ঞা :                দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গেলে যে অবনমিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।              এছাড়া, মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণ বলের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের কঠিন শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুনরায় ভূ-আন্দোলন ঘটলে বা ভূ-আলোড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাটল রেখা বরাবর শিলার একটি অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ খাড়াভাবে নীচে বসে যায়। অবনমিত, ওই অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। 

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...