Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন  বায়ুমণ্ডলের স্তর ও গঠন Q. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?   Α. পৃথিবী পৃষ্ঠকে আবৃত করে কয়েক হাজার কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলে. Q.  বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ৭৮.০৯%. Q.  বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ২০.৯৫%. Q.  বায়ুমণ্ডলে আর্গন গ্যাসের শতকরা ভাগ কত?   Α.  ০.৯৩%. Q.  বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত?   Α.  ০.০৩%. Q.  বায়ুর প্রকৃতি অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে কটি স্তরে ভাগ করা যায়?   Α.  ছয়টি. Q.  ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত?   Α.  প্রায় ১৬-১৮ কিমি. Q.  উচ্চতা বাড়লে ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর চাপের কী পরিবর্তন হয়?   Α.  বায়ুর চাপ কমে যায়. Q.  ট্রপোপজ কাকে বলে?   Α.  ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের দিকের স্থির উষ্ণতার অঞ্চলকে (১০-১৬ কিমি) ট্রপোপজ বলে. Q.  স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উচ্চতা কত?   Α.  ২০ থেকে ৪৫ কিমি পর্যন...

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

দশম শ্রেণী - ভৌতবিজ্ঞান - পরিবেশের জন্য ভাবনা - নোটস (Concern About Our Environment)

পরিবেশের জন্য ভাবনা (Concern About Our Environment)

১. বায়ুমণ্ডলের গঠন (Structure of the Atmosphere)

উচ্চতা ও উষ্ণতার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

স্তরের নাম
উচ্চতা (পৃথিবী হতে)
বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব
১. ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere)০ থেকে ১৮ কিমি (মেরু অঞ্চলে ৮ কিমি, নিরক্ষীয় অঞ্চলে ১৮ কিমি)* তাপমাত্রা: উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা কমে যায়। প্রতি ১ কিমি উচ্চতায় গড়ে ৬.৫°C তাপমাত্রা কমে, যাকে 'ল্যাপস রেট' বলে।
* গুরুত্ব: বায়ুমণ্ডলের মোট ভরের ৭৫%-৮০% এখানে কেন্দ্রীভূত।
* জলীয় বাষ্প, ধুলিকণা এবং মেঘ থাকায় এখানেই ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত ইত্যাদি আবহাওয়াগত ঘটনা ঘটে। তাই একে 'ক্ষুব্ধমণ্ডল' বা 'আবহাওয়ামণ্ডল' বলা হয়।
২. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)১৮ থেকে ৪৫-৫০ কিমি পর্যন্ত* তাপমাত্রা: উচ্চতা বাড়ার সাথে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে (ওজোন গ্যাসের উপস্থিতির কারণে)।
* বৈশিষ্ট্য: এখানে ধুলিকণা বা জলীয় বাষ্প নেই বললেই চলে, তাই আকাশ সারাক্ষণ পরিষ্কার থাকে। এ কারণে জেট প্লেন বা বিমান এই স্তরে চলাচল করে ঝড়ঝঞ্ঝাটের ভয় এড়াতে পারে।
* একে 'শান্তমণ্ডল' বলা হয়।
* ওজোন স্তর: এই স্তরেই ওজোন স্তর অবস্থিত।
৩. মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere)৫০ থেকে ৮০ কিমি পর্যন্ত* তাপমাত্রা: উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা আবার কমতে থাকে এবং এটি বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর (প্রায় -৯৩°C বা -১০০°C)।
* এখানে পৃথিবীর দিকে আসা উল্কাপিণ্ড বা ধেয়ালক (Meteorites) মহাকর্ষ ও ঘর্ষণের কারণে জ্বলে ওঠে এবং পুড়ে যায় (যাকে 'খসে পড়া তারা' বা Shooting Stars বলা হয়)।
৪. থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere)৮০ থেকে ৫০০ কিমি (বা তারও বেশি) পর্যন্ত* তাপমাত্রা: এখানে তাপমাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায় এবং ১২৫০°C পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
* আয়নোস্ফিয়ার: এর নিচের অংশটিতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে বায়ু আয়নিত হয়ে যায়, যাকে 'আয়নোস্ফিয়ার' বলা হয়।
* এই স্তর রেডিও তরঙ্গ প্রতিফলিত করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে, যার ফলে দূর প্রদেশে রেডিও সংকেত গ্রহণ সম্ভব হয়।
* অরোরা: মেরু অঞ্চলে এই স্তরে সূর্য থেকে আসা কণা গ্যাসের সংঘর্ষে অরোরা বা রঙিন আলোর প্রদর্শনী ঘটে।
৫. এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere)৫০০ থেকে ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত (ক্রমশ মিলিয়ে যায়)* এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তর।
* এখানে বায়ুর ঘনত্ব অত্যন্ত কম। হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস প্রবল।
* কৃত্রিম উপগ্রহমহাকাশ স্টেশন (যেমন: ISS) এই স্তরে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বেড়ায়।
৬. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (Magnetosphere)বায়ুমণ্ডলের সীমা থেকে বহু দূরে (প্রায় ৬০,০০০ কিমি পর্যন্ত)* এটি আসলে গ্যাসীয় স্তর নয়, বরং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তৈরি একটি বিকিরণ বলয়।
* সূর্য থেকে আসা 'সৌরবায়ু' (Solar Wind) বা ক্ষতিকর কণিকাগুলো এই বলয়ে আটকে যায় এবং 'ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়' তৈরি করে।
* এটি পৃথিবীকে মহাকাশের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে।

২. ওজোন স্তর (The Ozone Layer)

  • অবস্থান: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের দিকে ২০-৩৫ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের (
    ) একটি ঘন স্তর পাওয়া যায়। একে **'ওজোনোস্ফিয়ার'**ও বলা হয়।
  • গঠন: এটি অক্সিজেন অণুর (
    ) অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে ভেঙে গিয়ে তিনটি পরমাণু নিয়ে গঠিত হয়।
  • কাজ বা গুরুত্ব:
    1. সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV-rays) শোষণ করে পৃথিবীর প্রাণী ও উদ্ভিদকে রক্ষা করে।
    2. পৃথিবীর তাপমাত্রা সমীকরণে ভূমিকা রাখে।
  • ধ্বংসের কারণ (ওজোন হ্রাস):
    • মূলত মানুষের তৈরি CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) গ্যাসের ব্যবহার (রেফ্রিজারেটর, এসি, স্প্রে ক্যানে) এর জন্য ওজোন স্তর ক্ষয়ে যাচ্ছে।
    • শিল্প কারখানা থেকে নির্গত নাইট্রোজেন অক্সাইড (
      )।
    • একটি সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু লক্ষাধিক ওজোন অণুকে বিয়োজিত করতে পারে। এটি একটি শৃঙ্খল প্রক্রিয়া।
  • প্রভাব:
    • ত্বকের ক্যান্সার (Skin Cancer) ও চোখের ছানি (Cataract) রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি।
    • মানুষ ও প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) কমে যাওয়া।
    • উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়া ফলে ফসলের ফলন কমে যাওয়া।
    • সমুদ্রের প্লাঙ্কটন ধ্বংস হলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি।

৩. গ্রিনহাউস এফেক্ট ও বিশ্ব উষ্ণায়ন (Greenhouse Effect & Global Warming)

ক) গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse Effect):

  • বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত কিছু গ্যাস সূর্যের ক্ষুদ্র তরঙ্গের দৃশ্যমান আলোকে পৃথিবীতে প্রবেশ করতে দেয়। কিন্তু পৃথিবী গরম হয়ে যে দীর্ঘ তরঙ্গের অবলোহিত রশ্মি (Infrared radiation) নির্গত করে, সেই রশ্মিগুলো শোষণ করে মহাকাশে যেতে বাধা দেয়। এর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। একে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। এটি পৃথিবীর জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু এর মাত্রা বেড়ে গেলেই সমস্যা হয়।
  • গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ: কার্বন ডাই অক্সাইড (
    ), মিথেন (
    ), নাইট্রাস অক্সাইড (
    ), জলীয় বাষ্প (
    ), ওজোন (
    ) এবং CFC।

খ) বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming):

  • কার্যকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের (বিশেষ করে
    ) পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত তাপ আটকে যায় এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়ে যায়। একেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।
  • ফলাফল বা প্রভাব:
  • ১. মেরু অঞ্চলের বিশাল বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২. সমুদ্রের জলতল বাড়লে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, সুন্দরবনের মতো নিচু উপকূলীয় এলাকা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ৩. ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, খরা এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও প্রাবল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৪. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

৪. প্রতিকারের উপায় (Mitigation Measures)

পরিবেশ দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করতে আমাদের যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে:

১. জ্বালানির পরিবর্তন: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোল, ডিজেল) ব্যবহার কমিয়ে অপ্রচলিত বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির (সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ) ব্যবহার বাড়াতে হবে।

২. বনায়ন (Afforestation): গাছ কাটা বন্ধ করা এবং নতুন করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে, কারণ গাছ  CO2 শোষণ করে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। 

৩. CFC নিয়ন্ত্রণ: ওজোন স্তর ধ্বংসকারী ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) নির্গত হয় এমন যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমাতে হবে এবং 'মন্ট্রিল প্রটোকল'-এর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

৪. গণপরিবহন: ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে বাস বা ট্রেনের মতো গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। 

৫. সচেতনতা: সাধারণ মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণের উপযোগী জীবনযাপন ও 3R (Reduce, Reuse, Recycle) নীতি মানতে উৎসাহিত করতে হবে।


Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি 🗇 "নারীর প্রেম পুরুষের কাছে শুধু আশ্রয়, কিন্তু পুরুষের প্রেম নারীর কাছে জীবন।" 🗇 "সংসারে কেউ কাউকে ভালোবাসে না, শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে।" 🗇 "যে জন ভালোবাসে, সে জন জানে ভালোবাসার মূল্য।" 🗇 "পুরুষের মনস্তত্ত্বই এই, তারা যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকেই বেশি কষ্ট দেয়।" 🗇 "স্নেহ ভালোবাসার কাঙাল, তাই দুর্বলকে সে বেশি টানে।"

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - ‘ট্র্যাডিশনাল মডার্নাইজার’

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - ‘ট্র্যাডিশনাল মডার্নাইজার’             ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদে উন্নীত হন। এরপর তিনি সংস্কৃত কলেজে র  ইংরেজি পঠনপাঠন প্রবর্তন করেন। বিদ্যাসাগর মহাশয় সকলের জন্য সংস্কৃত কলেজের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল ‘যুক্তির বিকাশের জন্য পাশ্চাত্য-শিক্ষা’র প্রয়োজন। কিন্তু সেই শিক্ষার মাধ্যম হবে মাতৃভাষা। এজন্য তিনি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর উদ্যোগে বিভিন্ন জেলায় বহু মডেল স্কুল চালু হয়। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। কিন্তু পাশ্চাত্য-শিক্ষার প্রতি তাঁর কোনো অনীহা ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে ভারতবাসীর সর্বাঙ্গীণ উন্নতি সম্ভব। এই কারণে ড. অমলেশ ত্রিপাঠী বিদ্যাসাগর মহাশয়কে “Traditional Moderniser” বলে অভিহিত করেছেন।

হিমদ্রোণি বা হিমখাত (Glacial trough) বা ‘U’ আকৃতির উপত্যকা

হিমদ্রোণি বা হিমখাত (Glacial trough) বা ‘U’ আকৃতির উপত্যকা               উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্টি হওয়া অন্যতম এক ভূমিরূপ হল হিমদ্রোণী। হিমবাহ যে উপত্যকার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয় যেখানে হিমবাহের পার্শ্বক্ষয় ও নিম্নক্ষয় সমানভাবে হওয়ার ফলে পার্বত্য উপত্যকাটির আকৃতি ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়ে যায়, একে ‘U’ আকৃতির উপত্যকা বা হিমদ্রোণী বলে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা             ‘মেখলা’ শব্দের মানে হল ‘কোমর বন্ধনী’। অসংখ্য আগ্নেয়গিরি মেখলা বা কোমর বন্ধনীর আকারে কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যখন অবস্থান করে, তখন তাকে ‘আগ্নেয় মেখলা’ বলা হয়।            ভূবিজ্ঞানীর মতে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে ও এশীয় মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে পাত সীমায় ফাটল বরাবর অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে এবং আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। 

অবঘর্ষ

অবঘর্ষ            অবঘর্ষ হল এমন একটি ক্ষয়সাধনকারী প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন—নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি ক্ষয়কার্য করে থাকে।  (i) নদী দ্বারা সংঘটিত অবঘর্ষ—  এই প্রক্রিয়ায় উচ্চগতিতে নদীবাহিত প্রস্তরখণ্ডের সঙ্গে নদীখাতের ঘর্ষণের ফলে নদীখাত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং নদীখাতে ছোটোছোটো গর্তের (মন্থকূপ) সৃষ্টি হয়। নদীখাতের এইরূপ ক্ষয়কে অবঘর্ষ বলে।

জুগ্যান বা জুইগেন

জুইগেন                  কখনো কখনো দেখা যায় যে, কোনো কোনো শিলাস্তূপের কঠিন ও কোমল শিলাস্তরগুলো ওপর-নিচে পরস্পরের সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। প্রচণ্ড সূর্যতাপে এইসব উচ্চভূমিতে ফাটল সৃষ্টি হলে বায়ুর অবঘর্ষণের ফলে কঠিন শিলাস্তরগুলো অতি অল্প ক্ষয় পেয়ে টিলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে এবং কোমল শিলাস্তরগুলো বেশি ক্ষয় পেয়ে ফাটল বরাবর লম্বা খাত বা গহ্বরের সৃষ্টি করে। এই রকম দুটো খাতের মধ্যে চ্যাপ্টা মাথা টিলার মতো যে ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় তাকে জুগ্যান বা জুইগেন বলে।

নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য

  নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য Sl. No. নদী উপত্যকা হিমবাহ উপত্যকা 1 মেরু প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কেবলমাত্র বরফে ঢাকা উঁচু পার্বত্য অঞ্চল এবং হিমশীতল মেরু অঞ্চলেই হিমবাহ উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 2 পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা প্রধানত ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়। হিমবাহ উপত্যকা ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়। 3 পার্বত্য ও উচ্চ সমভূমি অঞ্চলে নদী স্রোতের গতিবেগ প্রবল হয়, নিম্নভূমিতে নদী স্রোতের গতি ধীরে ধীরে কমে আসে। বেশিরভাগ সময়েই হিমবাহ অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়। 4 নদী উপত্যকা আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয়। হিমবাহ উপত্যকা সোজা পথে অগ্রসর হয়। 5 সাধারণত নদী উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য বেশি হয়। হিমবাহ উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য কম হয়। 6 নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে নদী উপত্যকায় প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। ...

রামমোহন রায়কে কেন ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ মনে করা হয় ?

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের কথা বলেন। এ ছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক বিচার–বিশ্লেষণ তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ অভিধায় ভূষিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের মৃত্যুশতবর্ষে (১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “রামমোহন তাঁর আমলের বিশ্বের সমস্ত মানুষের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণরূপে আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন”।  রামমোহন রায়–ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ    (১) সমাজসংস্কারের প্রথম উদ্যোগের জন্য—  ‘সতীদাহ’ প্রথা রোধের লক্ষ্যে রামমোহন রায় সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত এক আবেদনপত্র বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে পাঠান। বেন্টিঙ্ক রামমোহনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৭ নং রেগুলেশন (Regulation–XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, কন্যাপণ, গঙ্গাসাগ...

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য

  স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য Sl. No. স্থলবায়ু সমুদ্রবায়ু 1 স্থলবায়ু মূলত শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়। সমুদ্রবায়ু মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির হয়। 2 স্থলবায়ু প্রধানত রাত্রিবেলায় প্রবাহিত হয়। সমুদ্রবায়ু প্রধানত দিনেরবেলায় প্রবাহিত হয়। 3 সূর্যাস্তের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুর প্রবাহ শুরু হয় ও রাত্রির শেষদিকে বায়ুপ্রবাহের বেগ বৃদ্ধি পায়। সূর্যোদয়ের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুরপ্রবাহ শুরু হয় ও অপরাহ্নে বায়ুপ্রবাহে বেগ বৃদ্ধি পায়। 4 স্থলবায়ু উচ্চচাযুক্ত স্থলভাগ থেকে নিম্নচাপযুক্ত জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে স্থলবায়ুকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। সমুদ্রবায়ু উচ্চচাপযুক্ত সমুদ্র থেকে নিম্নচাপযুক্ত স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে সমুদ্রবায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। 5 স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবার দরুন বেগ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ প্রবাহিত হ...

হেটেরোস্ফিয়ার

হেটেরোস্ফিয়ার                      ‘হেটেরো’ শব্দের অর্থ ‘ বিষমবৈশিষ্ট্যপূর্ণ। বায়ুমণ্ডলের হোমোস্ফিয়ার স্তরের ওপরের অংশে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত এবং বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলো একই রকম থাকে না বলে ভূপৃষ্ঠের ওপরে ৯০ কিলোমিটার থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে হেটেরোস্ফিয়ার বা বিষমমণ্ডল বলা হয়।