Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 11

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ মন্ত্রিসভার কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকে—   উত্তরঃ  লোকসভা। প্রশ্নঃ প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের সদস্যরা সকলেই কোন কাউন্সিলের সদস্য? উত্তরঃ  ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিল। প্রশ্নঃ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করেন? উত্তরঃ  প্রধানমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

দশম শ্রেণী - ভৌতবিজ্ঞান - পরিবেশের জন্য ভাবনা - নোটস (Concern About Our Environment)

পরিবেশের জন্য ভাবনা (Concern About Our Environment)

১. বায়ুমণ্ডলের গঠন (Structure of the Atmosphere)

উচ্চতা ও উষ্ণতার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

স্তরের নাম
উচ্চতা (পৃথিবী হতে)
বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব
১. ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere)০ থেকে ১৮ কিমি (মেরু অঞ্চলে ৮ কিমি, নিরক্ষীয় অঞ্চলে ১৮ কিমি)* তাপমাত্রা: উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা কমে যায়। প্রতি ১ কিমি উচ্চতায় গড়ে ৬.৫°C তাপমাত্রা কমে, যাকে 'ল্যাপস রেট' বলে।
* গুরুত্ব: বায়ুমণ্ডলের মোট ভরের ৭৫%-৮০% এখানে কেন্দ্রীভূত।
* জলীয় বাষ্প, ধুলিকণা এবং মেঘ থাকায় এখানেই ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত ইত্যাদি আবহাওয়াগত ঘটনা ঘটে। তাই একে 'ক্ষুব্ধমণ্ডল' বা 'আবহাওয়ামণ্ডল' বলা হয়।
২. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)১৮ থেকে ৪৫-৫০ কিমি পর্যন্ত* তাপমাত্রা: উচ্চতা বাড়ার সাথে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে (ওজোন গ্যাসের উপস্থিতির কারণে)।
* বৈশিষ্ট্য: এখানে ধুলিকণা বা জলীয় বাষ্প নেই বললেই চলে, তাই আকাশ সারাক্ষণ পরিষ্কার থাকে। এ কারণে জেট প্লেন বা বিমান এই স্তরে চলাচল করে ঝড়ঝঞ্ঝাটের ভয় এড়াতে পারে।
* একে 'শান্তমণ্ডল' বলা হয়।
* ওজোন স্তর: এই স্তরেই ওজোন স্তর অবস্থিত।
৩. মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere)৫০ থেকে ৮০ কিমি পর্যন্ত* তাপমাত্রা: উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা আবার কমতে থাকে এবং এটি বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর (প্রায় -৯৩°C বা -১০০°C)।
* এখানে পৃথিবীর দিকে আসা উল্কাপিণ্ড বা ধেয়ালক (Meteorites) মহাকর্ষ ও ঘর্ষণের কারণে জ্বলে ওঠে এবং পুড়ে যায় (যাকে 'খসে পড়া তারা' বা Shooting Stars বলা হয়)।
৪. থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere)৮০ থেকে ৫০০ কিমি (বা তারও বেশি) পর্যন্ত* তাপমাত্রা: এখানে তাপমাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায় এবং ১২৫০°C পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
* আয়নোস্ফিয়ার: এর নিচের অংশটিতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে বায়ু আয়নিত হয়ে যায়, যাকে 'আয়নোস্ফিয়ার' বলা হয়।
* এই স্তর রেডিও তরঙ্গ প্রতিফলিত করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে, যার ফলে দূর প্রদেশে রেডিও সংকেত গ্রহণ সম্ভব হয়।
* অরোরা: মেরু অঞ্চলে এই স্তরে সূর্য থেকে আসা কণা গ্যাসের সংঘর্ষে অরোরা বা রঙিন আলোর প্রদর্শনী ঘটে।
৫. এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere)৫০০ থেকে ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত (ক্রমশ মিলিয়ে যায়)* এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তর।
* এখানে বায়ুর ঘনত্ব অত্যন্ত কম। হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস প্রবল।
* কৃত্রিম উপগ্রহমহাকাশ স্টেশন (যেমন: ISS) এই স্তরে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বেড়ায়।
৬. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (Magnetosphere)বায়ুমণ্ডলের সীমা থেকে বহু দূরে (প্রায় ৬০,০০০ কিমি পর্যন্ত)* এটি আসলে গ্যাসীয় স্তর নয়, বরং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তৈরি একটি বিকিরণ বলয়।
* সূর্য থেকে আসা 'সৌরবায়ু' (Solar Wind) বা ক্ষতিকর কণিকাগুলো এই বলয়ে আটকে যায় এবং 'ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়' তৈরি করে।
* এটি পৃথিবীকে মহাকাশের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে।

২. ওজোন স্তর (The Ozone Layer)

  • অবস্থান: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের দিকে ২০-৩৫ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের (
    ) একটি ঘন স্তর পাওয়া যায়। একে **'ওজোনোস্ফিয়ার'**ও বলা হয়।
  • গঠন: এটি অক্সিজেন অণুর (
    ) অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে ভেঙে গিয়ে তিনটি পরমাণু নিয়ে গঠিত হয়।
  • কাজ বা গুরুত্ব:
    1. সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV-rays) শোষণ করে পৃথিবীর প্রাণী ও উদ্ভিদকে রক্ষা করে।
    2. পৃথিবীর তাপমাত্রা সমীকরণে ভূমিকা রাখে।
  • ধ্বংসের কারণ (ওজোন হ্রাস):
    • মূলত মানুষের তৈরি CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) গ্যাসের ব্যবহার (রেফ্রিজারেটর, এসি, স্প্রে ক্যানে) এর জন্য ওজোন স্তর ক্ষয়ে যাচ্ছে।
    • শিল্প কারখানা থেকে নির্গত নাইট্রোজেন অক্সাইড (
      )।
    • একটি সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু লক্ষাধিক ওজোন অণুকে বিয়োজিত করতে পারে। এটি একটি শৃঙ্খল প্রক্রিয়া।
  • প্রভাব:
    • ত্বকের ক্যান্সার (Skin Cancer) ও চোখের ছানি (Cataract) রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি।
    • মানুষ ও প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) কমে যাওয়া।
    • উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়া ফলে ফসলের ফলন কমে যাওয়া।
    • সমুদ্রের প্লাঙ্কটন ধ্বংস হলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি।

৩. গ্রিনহাউস এফেক্ট ও বিশ্ব উষ্ণায়ন (Greenhouse Effect & Global Warming)

ক) গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse Effect):

  • বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত কিছু গ্যাস সূর্যের ক্ষুদ্র তরঙ্গের দৃশ্যমান আলোকে পৃথিবীতে প্রবেশ করতে দেয়। কিন্তু পৃথিবী গরম হয়ে যে দীর্ঘ তরঙ্গের অবলোহিত রশ্মি (Infrared radiation) নির্গত করে, সেই রশ্মিগুলো শোষণ করে মহাকাশে যেতে বাধা দেয়। এর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। একে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। এটি পৃথিবীর জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু এর মাত্রা বেড়ে গেলেই সমস্যা হয়।
  • গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ: কার্বন ডাই অক্সাইড (
    ), মিথেন (
    ), নাইট্রাস অক্সাইড (
    ), জলীয় বাষ্প (
    ), ওজোন (
    ) এবং CFC।

খ) বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming):

  • কার্যকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের (বিশেষ করে
    ) পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত তাপ আটকে যায় এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়ে যায়। একেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।
  • ফলাফল বা প্রভাব:
  • ১. মেরু অঞ্চলের বিশাল বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২. সমুদ্রের জলতল বাড়লে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, সুন্দরবনের মতো নিচু উপকূলীয় এলাকা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ৩. ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, খরা এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও প্রাবল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৪. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

৪. প্রতিকারের উপায় (Mitigation Measures)

পরিবেশ দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করতে আমাদের যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে:

১. জ্বালানির পরিবর্তন: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোল, ডিজেল) ব্যবহার কমিয়ে অপ্রচলিত বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির (সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ) ব্যবহার বাড়াতে হবে।

২. বনায়ন (Afforestation): গাছ কাটা বন্ধ করা এবং নতুন করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে, কারণ গাছ  CO2 শোষণ করে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। 

৩. CFC নিয়ন্ত্রণ: ওজোন স্তর ধ্বংসকারী ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) নির্গত হয় এমন যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমাতে হবে এবং 'মন্ট্রিল প্রটোকল'-এর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

৪. গণপরিবহন: ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে বাস বা ট্রেনের মতো গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। 

৫. সচেতনতা: সাধারণ মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণের উপযোগী জীবনযাপন ও 3R (Reduce, Reuse, Recycle) নীতি মানতে উৎসাহিত করতে হবে।


Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

গ্রস্ত উপত্যকা

গ্রস্ত উপত্যকা : ১. গ্রস্ত উপত্যকার সংজ্ঞা :                দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গেলে যে অবনমিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।              এছাড়া, মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণ বলের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের কঠিন শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুনরায় ভূ-আন্দোলন ঘটলে বা ভূ-আলোড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাটল রেখা বরাবর শিলার একটি অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ খাড়াভাবে নীচে বসে যায়। অবনমিত, ওই অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। 

গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক

গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক           গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অগভীর মগ্নচড়া। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক মৎস্যশিকার ক্ষেত্র। নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে বিশাল মহীসোপান অঞ্চলে গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক মগ্নচড়াটির অবস্থান। গ্র্যান্ড ব্যাঙ্কের ওপর জলের গভীরতা ৯০ মিটারের কম এবং এর আয়তন প্রায় ৩৭ হাজার বর্গকিমি। সুমেরু অঞ্চল থেকে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সঙ্গে আগত হিমশৈলগুলি প্রচুর পরিমাণ নুড়ি, কাঁকর, বালি, পলি, পাথর বহন করে আনে। নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত, উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের সঙ্গে মিলিত হলে হিমশৈলগুলি গলে যায়। হিমশৈলবাহিত পদার্থগুলি সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত হয়ে গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক নামে অগভীর মগ্নচড়ার সৃষ্টি করেছে। উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনের ফলে এখানে মাছের খাদ্য প্ল্যাংকটন প্রচুর পরিমাণে জন্মায়। প্ল্যাংকটনের আকর্ষণে গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে প্রচুর মাছের সমাগম ঘটে। তাই, এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

হিমপ্রাচীর

হিমপ্রাচীর            উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে সুমেরু অঞ্চল থেকে আগত লাব্রাডর স্রোতের শীতল ও গাঢ় সবুজ রঙের জল এবং উপসাগরীয় স্রোতের উষ্ণ ও গাঢ় নীল জল বেশ কিছু দূর পর্যন্ত পাশাপাশি কিন্তু বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের মাঝে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা স্পষ্ট দেখা যায়, এই সীমারেখা হিমপ্রাচীর হিসেবে পরিচিত।

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

[MCQ]Environment।।Man & Environment।।মানুষ ও পরিবেশ।।সেট ১

মানুষ ও পরিবেশ ➤ প্রশ্ন:১ W.T.O. সম্পূর্ণ নাম হলাে— (a) World Transport Organization. (b) World Tobacco Organization. (c) World Trade Organization.

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন আইন প্রবর্তনের কারণ ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয়তাবাদী নাটক রচনা করে ব্রিটিশের শোষণ ও অপশাসনের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়। অমৃতলাল বসুর ‘চা–কর দর্পণ’, দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকে অত্যাচারী শ্বেতাঙ্গ সাহেবদের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়। অমৃতলাল বসু ও উপেন্দ্রনাথ দাস ‘হনুমান চরিত’ নামক প্রহসন নাটকে ইংরেজের প্রতি ব্যঙ্গবিদ্রুপ প্রকাশ করেন। গ্রামেগঞ্জে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব সৃষ্টির কাজে নাটকগুলি সাফল্য পায়। সরকার দমনমূলক আইন জারি করে দেশাত্মবোধক নাটকের প্রচার বন্ধ করে দিতে উদ্যত হয়।

রামমোহন রায়কে কেন ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ মনে করা হয় ?

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের কথা বলেন। এ ছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক বিচার–বিশ্লেষণ তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ অভিধায় ভূষিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের মৃত্যুশতবর্ষে (১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “রামমোহন তাঁর আমলের বিশ্বের সমস্ত মানুষের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণরূপে আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন”।  রামমোহন রায়–ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ    (১) সমাজসংস্কারের প্রথম উদ্যোগের জন্য—  ‘সতীদাহ’ প্রথা রোধের লক্ষ্যে রামমোহন রায় সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত এক আবেদনপত্র বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে পাঠান। বেন্টিঙ্ক রামমোহনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৭ নং রেগুলেশন (Regulation–XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, কন্যাপণ, গঙ্গাসাগ...