Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন  বায়ুমণ্ডলের স্তর ও গঠন Q. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?   Α. পৃথিবী পৃষ্ঠকে আবৃত করে কয়েক হাজার কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলে. Q.  বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ৭৮.০৯%. Q.  বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ২০.৯৫%. Q.  বায়ুমণ্ডলে আর্গন গ্যাসের শতকরা ভাগ কত?   Α.  ০.৯৩%. Q.  বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত?   Α.  ০.০৩%. Q.  বায়ুর প্রকৃতি অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে কটি স্তরে ভাগ করা যায়?   Α.  ছয়টি. Q.  ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত?   Α.  প্রায় ১৬-১৮ কিমি. Q.  উচ্চতা বাড়লে ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর চাপের কী পরিবর্তন হয়?   Α.  বায়ুর চাপ কমে যায়. Q.  ট্রপোপজ কাকে বলে?   Α.  ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের দিকের স্থির উষ্ণতার অঞ্চলকে (১০-১৬ কিমি) ট্রপোপজ বলে. Q.  স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উচ্চতা কত?   Α.  ২০ থেকে ৪৫ কিমি পর্যন...

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

জীববিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর-জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, সেট-৭

জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন


প্রশ্ন:১
বিশুদ্ধ ও সংকর কাকে বলে ?

উত্তর: 
যে জীব কেবল নিজের মতাে অপত্য সৃষ্টি করে তাকে বিশুদ্ধ জীব এবং যে জীব অপত্য সৃষ্টিকালে একাধিক রকমের জীব উৎপাদন করতে পারে তাকে সংকর জীব বলে। যদি কোনাে জীব বংশানুক্রমে তার বৈশিষ্ট্যগুলিকে ঠিক ঠিক বজায় রাখে তখন সেই বৈশিষ্ট্যগুলিকে খাঁটি বা বিশুদ্ধ (pure) বলা হয়; অপরপক্ষে, দুটি খাঁটি বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের পরনিষেক ঘটানাের ফলে উৎপন্ন উভয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবকে (যদিও কেবল প্রকট গুণটিই প্রকাশিত হয়) সংকর (hybrid) বলে।
উদাহরণ–
বিশুদ্ধ কালাে (BB), বিশুদ্ধ সাদা (bb), সংকর কালাে (Bb)।


প্রশ্ন:২
কী কারণে মেডেল মটরগাছকে তার পরীক্ষার জন্য মনােনীত করেছিলেন তার তিনটি কারণ উল্লেখ করাে।

উত্তর: 
বাগানের মটরগাছে নিম্নলিখিত কতকগুলি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হওয়ায় মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য মটরগাছকে নমুনা হিসেবে মনােনীত করেছিলেন—
(i) মটরগাছ একবর্ষজীবী হওয়ায় অতি সহজেই বাগানের জমিতে এবং টবে ফলানাে যায়।
(ii) মটর ফুল উভলিঙ্গ হওয়ায় সহজেই স্বপরাগযােগ ঘটে।
(iii) মটর ফুল স্বপরাগী হওয়ায় বাইরে থেকে আগত অন্য কোনাে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সহজে মিশে যেতে পারে না, ফলে বংশপরম্পরায় নির্দিষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন খাঁটি সন্তান-সন্ততি উৎপাদন সম্ভব।


প্রশ্ন:৩
ফিনােটাইপ ও জিনােটাইপ কী ?

উত্তর: 
কোনাে জীবের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যাবলির বাহ্যিক প্রকাশকে ফিনােটাইপ (phenotype) বলে; আবার জীবের নির্দিষ্ট জিনগত গঠন বা জিনের সংযুক্তিকে জিনােটাইপ (genotype) বলে। উদাহরণস্বরূপ, দুটি সংকর কালো গিনিপিগের (Bb) মধ্যে মিলন ঘটালে অপত্য বংশে তিন ভাগ কালাে এবং এক ভাগ সাদা গিনিপিগের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে ফিনােটাইপগত অনুপাত হল 3:1। অপত্য গিনিপিগগুলির জিনগত বৈশিষ্ট্য লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, তিন ভাগে কালাে গিনিপিগের মধ্যে এক ভাগ বিশুদ্ধ কালো (BB) এবং দু-ভাগ সংকর কালাে (Bb); আর সাদা গিনিপিগটি বিশুদ্ধ সাদা (bb)। সুতরাং জিনগত ফল অর্থাৎ জিনােটাইপগত অনুপাত হল 1:2:1।


প্রশ্ন:৪
মানুষের প্রধান প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী ?

উত্তর: 
মানুষের প্রকট বৈশিষ্ট্য–
(i) মানুষের বর্ণযুক্ত শরীর। 
(ii) মানুষের কালাে রঙের কেশ। 
(iii) চোখের কালাে (black) রং। 
(iv) স্বাভাবিক ত্বক। 
(v) কুঞ্চিত কেশ।
মানুষের প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য–
(i) বর্ণহীন বা শ্বেত শরীর। 
(ii) হালকা রঙের কোশ। 
(iii) চোখের কটা বা বাদামি (brown) ও নীল (blue) রং। 
(iv) ছােপযুক্ত (spotted) ত্বক। 
(v) অকুঞ্চিত কেশ।


প্রশ্ন:৫
প্রকট ও প্রচ্ছন্ন কাকে বলে ?

উত্তর: 
দুটি বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে পরনিষেক ঘটলে প্রথম অপত্য বংশে যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায় তাকে প্রকট (dorminant) এবং যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায় না অর্থাৎ সুপ্ত থাকে তাকে প্রচ্ছন্ন (recessive) বলে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বিশুদ্ধ বা খাঁটি চারিত্রিক প্রলক্ষণযুক্ত দীর্ঘাকার (TT) মটরগাছের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ প্রলক্ষণযুক্ত খর্বাকার (tt) মটর গাছের সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে দীর্ঘাকার (টট) মটরগাছ সৃষ্টি হয়। এখানে দীর্ঘাকার গুণটি প্রকট এবং খর্বাকার গুণটি প্রচ্ছন্ন।


প্রশ্ন:৬
মেন্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত সূত্রগুলি কী কী ?

উত্তর: 
মেন্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত সূত্রগুলি হল—
1. একক সত্তা সূত্র, 
2.প্রকটতা ও প্রচ্ছন্নতা সূত্র, 
3. পৃথক্ভবন সূত্র, 
4.স্বাধীনবিন্যাস সূত্র।


প্রশ্ন:৭
প্রকট জিন ও প্রচ্ছন্ন জিনের একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: 
প্রকট জিন–একটি সংকর জীবের বাহ্যিক প্রকাশের জন্য দায়ী জিনকে প্রকট জিন বলে।
প্রচ্ছন্ন জিন–সংকর জীবে যে জিনটি নিজেকে বাহ্যিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না তাকে প্রচ্ছন্ন জিন বলে।


প্রশ্ন:৮
মেন্ডেলের সাফল্যের কারণগুলি কী ছিল ?

উত্তর: 
মেন্ডেল মটরগাছের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে বংশগতি নির্ণায়ক সূত্র আবিষ্কার করেন। এটিই তাঁর সাফল্য তাঁর সাফল্যের পিছনে নিম্নলিখিত কারণগুলি আছে বলে মনে করা হয়—
(i) মেন্ডেলের নির্বাচিত পরীক্ষার উপাদান মটরগাছ জন্মানাে সহজ ও তার জন্মসময়কাল নাতিদীর্ঘ।
(ii) পরীক্ষার কাজে যেসব বৈশিষ্ট্য নির্বাচিত হয়েছিল তাদের প্রকাশভঙ্গি বেশ সুনির্দিষ্ট।
(iii) সমস্ত পরীক্ষাপদ্ধতি সুচিন্তিত ধারাবাহিকতাযুক্ত ছিল।
(iv) প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল তিনি নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ করতেন ও গাণিতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের পর্যালােচনা ও বিশ্লেষণ করতেন।
(v) সর্বোপরি, তাঁর নির্বাচিত চরিত্র নির্ধারক জিনগুলি লিংকেজের প্রভাবমুক্ত ছিল।


প্রশ্ন:৯
ফিনােটাইপ ও জিনােটাইপের পার্থক্য আলােচনা করো। 

উত্তর: 
ফিনােটাইপ–ম্যাক্রো-ফিনােটাইপকে খালি চোখে দেখা যায় এবং মাইক্রো  ফিনােটাইপকে দেখার জন্য মাইক্রোস্কোপের প্রয়ােজন হয়।
জিনােটাইপ–এটি কেবল বিশেষ জিন তত্ত্বের পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়।


প্রশ্ন:১০
হােমােজাইগাস ও হেটেরােজাইগাস কাকে বলে ?

উত্তর: 
দুটি সমগুণসম্পন্ন গ্যামেটের মিলনে যে জাইগােট উৎপন্ন হয় তাকে হােমােজাইগােট (homozygote) এবং হােমােজাইগােট থেকে উৎপন্ন জীবকে হােমােজাইগাস (homozygous) বলে। অনুরূপভাবে, বিপরীতধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনে যে জাইগােট উৎপন্ন হয় তাকে হেটেরােজাইগোট (heterozygote) বলে এবং হেটেরােজাইগােট থেকে উৎপন্ন জীবকে হেটেরােজাইগাস (heterozygous) বলে। উদাহরণস্বরূপ, একটি দীর্ঘাকার (T) প্রলক্ষণযুক্ত গ্যামেটের সঙ্গে অপর একটি দীর্ঘাকার (T) প্রলক্ষণযুক্ত গ্যামেটের মিলনের ফলে উৎপন্ন হয় হােমােজাইগােট (TT), আবার একটি দীর্ঘাকার প্রলক্ষণযুক্ত গ্যামেটের (T) সঙ্গে একটি খর্বাকার প্রলক্ষণযুক্ত গ্যামেটের (t) মিলন ঘটালে উৎপন্ন হয় হেটেরােজাইগােট (Tt)।


Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি 🗇 "নারীর প্রেম পুরুষের কাছে শুধু আশ্রয়, কিন্তু পুরুষের প্রেম নারীর কাছে জীবন।" 🗇 "সংসারে কেউ কাউকে ভালোবাসে না, শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে।" 🗇 "যে জন ভালোবাসে, সে জন জানে ভালোবাসার মূল্য।" 🗇 "পুরুষের মনস্তত্ত্বই এই, তারা যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকেই বেশি কষ্ট দেয়।" 🗇 "স্নেহ ভালোবাসার কাঙাল, তাই দুর্বলকে সে বেশি টানে।"

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা             ‘মেখলা’ শব্দের মানে হল ‘কোমর বন্ধনী’। অসংখ্য আগ্নেয়গিরি মেখলা বা কোমর বন্ধনীর আকারে কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যখন অবস্থান করে, তখন তাকে ‘আগ্নেয় মেখলা’ বলা হয়।            ভূবিজ্ঞানীর মতে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে ও এশীয় মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে পাত সীমায় ফাটল বরাবর অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে এবং আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। 

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন আইন প্রবর্তনের কারণ ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয়তাবাদী নাটক রচনা করে ব্রিটিশের শোষণ ও অপশাসনের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়। অমৃতলাল বসুর ‘চা–কর দর্পণ’, দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকে অত্যাচারী শ্বেতাঙ্গ সাহেবদের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়। অমৃতলাল বসু ও উপেন্দ্রনাথ দাস ‘হনুমান চরিত’ নামক প্রহসন নাটকে ইংরেজের প্রতি ব্যঙ্গবিদ্রুপ প্রকাশ করেন। গ্রামেগঞ্জে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব সৃষ্টির কাজে নাটকগুলি সাফল্য পায়। সরকার দমনমূলক আইন জারি করে দেশাত্মবোধক নাটকের প্রচার বন্ধ করে দিতে উদ্যত হয়।

রামমোহন রায়কে কেন ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ মনে করা হয় ?

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের কথা বলেন। এ ছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক বিচার–বিশ্লেষণ তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ অভিধায় ভূষিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের মৃত্যুশতবর্ষে (১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “রামমোহন তাঁর আমলের বিশ্বের সমস্ত মানুষের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণরূপে আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন”।  রামমোহন রায়–ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ    (১) সমাজসংস্কারের প্রথম উদ্যোগের জন্য—  ‘সতীদাহ’ প্রথা রোধের লক্ষ্যে রামমোহন রায় সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত এক আবেদনপত্র বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে পাঠান। বেন্টিঙ্ক রামমোহনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৭ নং রেগুলেশন (Regulation–XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, কন্যাপণ, গঙ্গাসাগ...

নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য

  নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য Sl. No. নদী উপত্যকা হিমবাহ উপত্যকা 1 মেরু প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কেবলমাত্র বরফে ঢাকা উঁচু পার্বত্য অঞ্চল এবং হিমশীতল মেরু অঞ্চলেই হিমবাহ উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 2 পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা প্রধানত ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়। হিমবাহ উপত্যকা ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়। 3 পার্বত্য ও উচ্চ সমভূমি অঞ্চলে নদী স্রোতের গতিবেগ প্রবল হয়, নিম্নভূমিতে নদী স্রোতের গতি ধীরে ধীরে কমে আসে। বেশিরভাগ সময়েই হিমবাহ অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়। 4 নদী উপত্যকা আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয়। হিমবাহ উপত্যকা সোজা পথে অগ্রসর হয়। 5 সাধারণত নদী উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য বেশি হয়। হিমবাহ উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য কম হয়। 6 নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে নদী উপত্যকায় প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। ...

গ্রস্ত উপত্যকা

গ্রস্ত উপত্যকা : ১. গ্রস্ত উপত্যকার সংজ্ঞা :                দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গেলে যে অবনমিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।              এছাড়া, মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণ বলের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের কঠিন শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুনরায় ভূ-আন্দোলন ঘটলে বা ভূ-আলোড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাটল রেখা বরাবর শিলার একটি অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ খাড়াভাবে নীচে বসে যায়। অবনমিত, ওই অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। 

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য

  আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য Sl. No. আবহবিকার ক্ষয়ীভবন 1 আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন—উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, জলীয় বাষ্প, তুষারপাত ও বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান দ্বার শিলাসমূহের চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া বা বিয়োজনকে আবহবিকার বলে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন—নদী, বায়ু, হিমবাহ, ইত্যাদি দ্বারা আবহবিকারপ্রাপ্ত চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহের অপসারণকে ক্ষয়ীভবন বলে। 2 আবহবিকারের ফলে মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের (গঠন, আকৃতি, খনিজের আণবিক সজ্জা প্রভৃতি) পরিবর্তন ঘটে । ক্ষয়ীভবনের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয়। কিন্তু মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন সাধন হয় না। 3 আবহবিকার কোনোভাবে ক্ষয়ীভবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ক্ষয়ীভবন সম্পূর্ণরূপে আবহবিকারের ওপর নির্ভরশীল। আবহবিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে না। 4 আবহবিকারের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহ শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলাস্তরের ওপরেই অবস্থান করে। ক্ষয়ীভবনের ফলে আবহবিকার প্রাপ্ত শিলাচূর্ণ স্থানান্তরি...

জুগ্যান বা জুইগেন

জুইগেন                  কখনো কখনো দেখা যায় যে, কোনো কোনো শিলাস্তূপের কঠিন ও কোমল শিলাস্তরগুলো ওপর-নিচে পরস্পরের সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। প্রচণ্ড সূর্যতাপে এইসব উচ্চভূমিতে ফাটল সৃষ্টি হলে বায়ুর অবঘর্ষণের ফলে কঠিন শিলাস্তরগুলো অতি অল্প ক্ষয় পেয়ে টিলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে এবং কোমল শিলাস্তরগুলো বেশি ক্ষয় পেয়ে ফাটল বরাবর লম্বা খাত বা গহ্বরের সৃষ্টি করে। এই রকম দুটো খাতের মধ্যে চ্যাপ্টা মাথা টিলার মতো যে ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় তাকে জুগ্যান বা জুইগেন বলে।

মেকলের প্রতিবেদন (মেকলে মিনিটস্) ও ইনফিলট্রেশন থিয়োরি—

মেকলের প্রতিবেদন (মেকলে মিনিটস্) ও ইনফিলট্রেশন থিয়োরি—                ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনে ভারতীয়দের জন্য শিক্ষার ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা ব্যয় করার কথা বলা হয়। সেই টাকা প্রাচ্য না পাশ্চাত্য কোন শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে ভারতীয় ও ইউরোপীয়রা প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধান কল্পে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক তাঁর আইন সচিব মেকলেকে ‘ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কমিটি ’র সভাপতি পদে নিয়োগ করেন। মেকলে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের স্বপক্ষে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এই প্রতিবেদন মেকলে মিনিটস নামে খ্যাত।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...