পরিবেশের জন্য ভাবনা (Concern About Our Environment) ১. বায়ুমণ্ডলের গঠন (Structure of the Atmosphere) উচ্চতা ও উষ্ণতার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:
মহীখাত
জে.হল, জে.ডি.ডানা ও কোবার প্রথম মহীখাত বা Geosyncline ধারণার অবতারণা করেন। তাঁদের মতে, পৃথিবীর আদি ভূভাগ দ্বারা বেষ্টিত ভূপৃষ্ঠের সংকীর্ণ, অবনমিত ও অগভীর সমুদ্রখাত হল মহীখাত। অর্থাৎ, ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এখন যেসব জায়গায় ভঙ্গিল পর্বতগুলো অবস্থান করছে, অতি প্রাচীনকালে সেখানে ছিল বিস্তীর্ণ অবনত অঞ্চল— ভূতাত্ত্বিকগণের ভাষায় যার নাম মহীখাত বা অগভীর সমুদ্র।
পরবর্তীকালে যুগ যুগ ধরে পলি পড়ে এই অগভীর সমুদ্র প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। ক্রমাগত পলি জমার ফলে ভূস্তরে যে নিম্নমুখী চাপের সৃষ্টি হয় তার ফলে নীচের পলিস্তর পাললিক শিলায় পরিণত হয়। এক সময় পলিস্তর বৃদ্ধির ফলে নিম্নমুখী চাপের পরিমাপও বেড়ে যায় এবং মহিখাতের তলদেশ বসে যায়। এর পর প্রবল পার্শ্বচাপের ফলে পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজ পড়তে থাকে। পরবর্তীকালে এইসব ভাঁজগুলো দৃঢ়সংঘবদ্ধ ও উঁচু হয়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি করেছে।
মহীখাতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
(১) দীর্ঘদিন ধরে পলি সঞ্চয়ের ফলে মহীখাতের সমুদ্রগর্ভের অবনমন ঘটেছিল।
(২) মহীখাত প্রধানত দুটি প্রাচীন ভূভাগ দ্বারা বেষ্টিত, যাকে ভূবিজ্ঞানী কোবার বলেছেন ‘Foreland’।
(৩) মহীখাত হল ভূত্বকের দীর্ঘায়িত, সংকীর্ণ ও অবনমিত জলভাগ।
(৪) ভূ-আলোড়নের প্রভাবে মহীখাতের প্রকৃতি ও আকৃতি যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।
(৫) মহীখাত থেকে প্রতিটি ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি হয়েছে বলে ভূবিজ্ঞানীরা মনে করেন। আজ যে স্থানে হিমালয় পর্বত অবস্থান করছে সেইখানে অতীতে টেথিস সাগর নামে একটি ‘মহীখাত’ ছিল বলে অনুমান করা হয়।
Comments
Post a Comment