Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন  বায়ুমণ্ডলের স্তর ও গঠন Q. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?   Α. পৃথিবী পৃষ্ঠকে আবৃত করে কয়েক হাজার কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলে. Q.  বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ৭৮.০৯%. Q.  বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ২০.৯৫%. Q.  বায়ুমণ্ডলে আর্গন গ্যাসের শতকরা ভাগ কত?   Α.  ০.৯৩%. Q.  বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত?   Α.  ০.০৩%. Q.  বায়ুর প্রকৃতি অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে কটি স্তরে ভাগ করা যায়?   Α.  ছয়টি. Q.  ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত?   Α.  প্রায় ১৬-১৮ কিমি. Q.  উচ্চতা বাড়লে ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর চাপের কী পরিবর্তন হয়?   Α.  বায়ুর চাপ কমে যায়. Q.  ট্রপোপজ কাকে বলে?   Α.  ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের দিকের স্থির উষ্ণতার অঞ্চলকে (১০-১৬ কিমি) ট্রপোপজ বলে. Q.  স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উচ্চতা কত?   Α.  ২০ থেকে ৪৫ কিমি পর্যন...

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

ইতিহাসের উপাদান বলতে কী বোঝো? ইতিহাসের উপাদানগুলির শ্রেণিবিভাগ করো। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় মুদ্রার গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করো।

ইতিহাসের উপাদান বলতে কী বোঝো? ইতিহাসের উপাদানগুলির শ্রেণিবিভাগ করো। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় মুদ্রার গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করো।


১. ইতিহাসের উপাদান  

         ইতিহাস হলো মানব সভ্যতার অগ্রগতির ধারাবাহিক বিবরণ। কিন্তু এই বিবরণ কল্পনাপ্রসূত নয়; এটি নির্ভর করে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ওপর। যে সমস্ত উৎস, সাক্ষ্য বা প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিকরা অতীত দিনের ঘটনাবলী পুনর্গঠন করেন, তাকেই 'ইতিহাসের উপাদান' (Sources of History) বলা হয়। উপাদান ছাড়া ইতিহাস রচনা করা অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার শামিল। ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ বা আর. সি. মজুমদার সকলেই একমত যে, প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের ক্ষেত্রে উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম।

২. ইতিহাসের উপাদানের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Historical Sources)

          ইতিহাসের উপাদানগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— 
(ক) সাহিত্যিক উপাদান এবং 
(খ) প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান। 
তবে আধুনিক যুগে এর সাথে আরও কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে। নিচে এর বিস্তারিত দেওয়া হলো:

ক) সাহিত্যিক উপাদান (Literary Sources): 

১. দেশীয় সাহিত্য:

❀ধর্মীয় সাহিত্য: 
          বেদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত (বৈদিক যুগ), ত্রিপিটক ও জাতক (বৌদ্ধ যুগ), এবং অঙ্গ ও উপাঙ্গ (জৈন যুগ)।
ধর্মনিরপেক্ষ বা লৌকিক সাহিত্য: 
           জীবনীগ্রন্থ (হর্ষচরিত, রামচরিত), নাটক ও কাব্য (কালিদাসের মেঘদূত, বিশাখদত্তের  মুদ্রারাক্ষস), ব্যাকরণ (পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী), এবং বিজ্ঞান ও রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ (কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র)।
সঙ্গম সাহিত্য: 
         দক্ষিণ ভারতের ইতিহাস জানতে তামিল সঙ্গম সাহিত্য অপরিহার্য।

২. বৈদেশিক বিবরণী:

গ্রিক ও রোমান: 
মেগাস্থিনিসের 'ইন্ডিকা', প্লিনির 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি', টলেমির 'ভূগোল'।
চীনা: 
ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং ও ইৎ-সিং-এর ভ্রমণবৃত্তান্ত।
আরবীয়: 
আল-বিরুনি, আল-মাসুদির বিবরণ।

খ) প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান (Archaeological Sources): 

          সাহিত্যের ত্রুটি বা অতিরঞ্জন দূর করতে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান সবথেকে নির্ভরযোগ্য। একে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়— 
১. লিপি বা লেখ (Inscriptions): অশোকের লিপি, এলাহাবাদ প্রশস্তি ইত্যাদি। 
২. মুদ্রা (Coins): কুষাণ, গুপ্ত ও ইন্দো-গ্রিক মুদ্রা। 
৩. স্থাপত্য ও ভাস্কর্য (Monuments): মন্দির, স্তূপ, ঘরবাড়ি, প্রাচীন নগরের ধ্বংসাবশেষ (হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো)।

গ) আধুনিক উপাদান: 

          সরকারি দলিল-দস্তাবেজ, পুলিশ রিপোর্ট, আত্মজীবনী, চিঠি এবং সমসাময়িক সংবাদপত্র।

৩. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় মুদ্রার গুরুত্ব (Importance of Coins/Numismatics)

          প্রাচীন ভারতের ইতিহাস পুনর্গঠনে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানগুলির মধ্যে মুদ্রা বা ‘Numismatics’-এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষত যেসব যুগের কোনো লিখিত বা সাহিত্যিক প্রমাণ পাওয়া যায় না, সেই যুগের ইতিহাস জানতে মুদ্রাই একমাত্র ভরসা। মুদ্রার গুরুত্বকে আমরা নিম্নলিখিত কয়েকটি প্রধান শিরোনামে আলোচনা করতে পারি:

(১) রাজনৈতিক ইতিহাস ও বংশতালিকা পুনর্গঠন: 

        প্রাচীন ভারতের বহু রাজবংশের কোনো ধারাবাহিক ইতিহাস সাহিত্যে পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে মুদ্রাই সেই শূন্যস্থান পূরণ করে।

ইন্দো-গ্রিক বা ব্যাক্ট্রীয় গ্রিক: 

          ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে রাজত্বকারী ব্যাক্ট্রীয় গ্রিক রাজাদের ইতিহাস প্রায় পুরোটাই মুদ্রা-নির্ভর। মুদ্রার সাহায্য ছাড়া ডিমিট্রিয়াস, মিনান্ডার বা ইউক্রেটাইডিস-এর মতো প্রায় ৩০ জন গ্রিক রাজার নাম ও অস্তিত্ব আমাদের অজানা থেকে যেত।

কুষাণ ও শক: 

          শক ও কুষাণ রাজাদের বংশতালিকা তৈরি করতে মুদ্রা প্রধান ভূমিকা নিয়েছে। 'রাজা', 'মহারাজা', 'রাজাধিরাজ' প্রভৃতি উপাধি দেখে তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা করা যায়।

(২) কালনির্ণয় বা তারিখ নির্ধারণ (Chronology): 

          ইতিহাসে তারিখ বা সাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন বহু মুদ্রার গায়ে রাজার নাম এবং রাজ্যাভিষেকের বছর বা 'শকাব্দ' ও 'বিক্রমাব্দ'-এর উল্লেখ থাকে।
এর ফলে ঐতিহাসিকরা রাজাদের রাজত্বকালের সঠিক সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, শক ক্ষত্রপ ও কুষাণ রাজাদের রাজত্বকাল এবং গুপ্ত রাজাদের সময়কাল নির্ধারণে মুদ্রায় খোদাই করা তারিখ বা সংবৎ অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে।

(৩) অর্থনৈতিক অবস্থার দর্পণ (Economic History): 

          মুদ্রা হলো তৎকালীন অর্থনীতির ব্যারোমিটার।

ধাতুর মান: 

           মুদ্রায় ব্যবহৃত সোনা, রুপো বা তামার পরিমাণ দেখে সেই যুগের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বোঝা যায়। যেমন—গুপ্ত যুগের প্রথমদিকের স্বর্ণমুদ্রা (দিনার) ছিল নিখাদ, যা প্রমাণ করে সাম্রাজ্য তখন সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তী গুপ্ত রাজাদের (যেমন স্কন্দগুপ্তের পরবর্তী সময়ে) মুদ্রায় খাদ বা ভেজালের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা অর্থনীতির অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক: 

          ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর পরিমাণে রোমান স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন ভারতের সঙ্গে রোমান সাম্রাজ্যের এক বিশাল ও লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল।

(৪) সাম্রাজ্যের সীমানা নির্ধারণ (Geographical Extent): 

          কোনো নির্দিষ্ট রাজার মুদ্রা মাটির নিচে যেসব অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, ধরে নেওয়া হয় যে সেই অঞ্চলগুলি ওই রাজার সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল অথবা সেখানে তাঁর বাণিজ্যিক প্রভাব ছিল।
যেমন—সাতবাহন রাজাদের মুদ্রা দাক্ষিণাত্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পাওয়া গেছে, যা তাঁদের বিশাল সাম্রাজ্যের প্রমাণ দেয়।
সমুদ্রগুপ্ত ও চন্দ্রগুপ্তের মুদ্রা বাংলা থেকে পাঞ্জাব পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যা গুপ্ত সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি নির্দেশ করে।

(৫) ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মনিরপেক্ষতা (Religious History): 

          রাজারা কোন দেবতার উপাসক ছিলেন, তা মুদ্রায় খোদাই করা দেবদেবীর মূর্তি দেখে বোঝা যায়।

কুষাণ যুগ: 

         কুষাণ সম্রাট কনিষ্কের মুদ্রায় বুদ্ধ, শিব, এবং গ্রিক ও পারসিক দেবতাদের মূর্তি দেখা যায়। এটি প্রমাণ করে যে তিনি পরধর্মসহিষ্ণু ছিলেন এবং তাঁর রাজ্যে বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থান ছিল।

গুপ্ত যুগ: 

        গুপ্ত সম্রাটদের মুদ্রায় লক্ষ্মী, গরুড়, কার্তিক প্রভৃতির মূর্তি প্রমাণ করে তাঁরা বৈষ্ণব বা শৈব ধর্মের অনুরাগী ছিলেন। প্রথম চন্দ্রগুপ্তের মুদ্রায় 'লক্ষ্মীদেবী'র মূর্তি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

(৬) শিল্পকলা ও সংস্কৃতির পরিচয় (Art and Culture): 

          মুদ্রার গায়ে খোদাই করা চিত্রগুলি তৎকালীন ভাস্কর্য ও শিল্পকলার উৎকৃষ্ট নিদর্শন।

সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রা: 

          সমুদ্রগুপ্তের একটি মুদ্রায় তাঁকে পালঙ্ক বা চেয়ারে বসে ‘বীণা বাদনরত’ অবস্থায় দেখা যায়। এটি প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন মহান যোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ।

পোশাক-পরিচ্ছদ: 

        কুষাণ মুদ্রায় রাজাদের লম্বা কোট, বুট জুতো ও শিরস্ত্রাণ পরিহিত মূর্তি দেখে তৎকালীন বিদেশী রাজাদের পোশাক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

(৭) ব্যক্তিগত গুণাবলী ও ঐতিহাসিক ঘটনা: 

        মুদ্রা অনেক সময় বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখে।

বিবাহ ও রাজনীতি: 

        প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ও লিচ্ছবি রাজকন্যা কুমারদেবীর নামাঙ্কিত 'চন্দ্রগুপ্ত-কুমারদেবী' মুদ্রা প্রমাণ করে যে, গুপ্তরা লিচ্ছবিদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছিলেন।

অশ্বমেধ যজ্ঞ

       সমুদ্রগুপ্ত ও প্রথম কুমারগুপ্তের 'অশ্বমেধ পরাক্রম' লেখা মুদ্রা প্রমাণ করে যে তাঁরা বৈদিক অশ্বমেধ যজ্ঞ করেছিলেন।

(৮) ভাষাতাত্ত্বিক গুরুত্ব: 

          মুদ্রায় উৎকীর্ণ লিপি থেকে তৎকালীন ভাষা ও লিপি সম্পর্কে জানা যায়। যেমন—ইন্দো-গ্রিক মুদ্রায় একদিকে গ্রিক এবং অন্যদিকে খরোষ্ঠী লিপির ব্যবহার দেখা যায়, যা দ্বিভাষিক সংস্কৃতির পরিচয় দেয়।


সীমাবদ্ধতা (Limitations)

          এত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও মুদ্রার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে: 

১. স্থানান্তর: 

        মুদ্রা ছোট ও বহনযোগ্য হওয়ায় বাণিজ্যের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারে। তাই শুধুমাত্র মুদ্রাপ্রাপ্তির স্থানের ওপর ভিত্তি করে সাম্রাজ্যের সীমানা নির্ধারণ করা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। 

২. জাল মুদ্রা: 

          প্রাচীনকালেও জাল মুদ্রার প্রচলন ছিল, যা ঐতিহাসিক তথ্যকে ভুল পথে চালিত করতে পারে।


উপসংহার ও মন্তব্য

         পরিশেষে বলা যায়, প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের বহু অন্ধকারময় অধ্যায় আলোকিত করতে মুদ্রার ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রিষ্টাব্দ চতুর্থ শতক পর্যন্ত ভারতের ইতিহাসের প্রধান ভিত্তিই হলো মুদ্রা। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার (R.C. Majumdar) যথার্থই বলেছেন:
"The coins have preserved the names of additional kings and given us particulars about the locality over which they ruled." (মুদ্রা অনেক অজানা রাজার নাম সংরক্ষণ করেছে এবং তাঁরা কোন অঞ্চলে রাজত্ব করতেন সে সম্পর্কে আমাদের তথ্য দিয়েছে।)

              তাই ইতিহাস রচনায় সাহিত্য ও শিলালিপির পাশাপাশি মুদ্রাও এক অপরিহার্য এবং বিজ্ঞানসম্মত উপাদান।

 




READ MORE👇














Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি 🗇 "নারীর প্রেম পুরুষের কাছে শুধু আশ্রয়, কিন্তু পুরুষের প্রেম নারীর কাছে জীবন।" 🗇 "সংসারে কেউ কাউকে ভালোবাসে না, শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে।" 🗇 "যে জন ভালোবাসে, সে জন জানে ভালোবাসার মূল্য।" 🗇 "পুরুষের মনস্তত্ত্বই এই, তারা যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকেই বেশি কষ্ট দেয়।" 🗇 "স্নেহ ভালোবাসার কাঙাল, তাই দুর্বলকে সে বেশি টানে।"

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা             ‘মেখলা’ শব্দের মানে হল ‘কোমর বন্ধনী’। অসংখ্য আগ্নেয়গিরি মেখলা বা কোমর বন্ধনীর আকারে কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যখন অবস্থান করে, তখন তাকে ‘আগ্নেয় মেখলা’ বলা হয়।            ভূবিজ্ঞানীর মতে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে ও এশীয় মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে পাত সীমায় ফাটল বরাবর অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে এবং আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। 

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন আইন প্রবর্তনের কারণ ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয়তাবাদী নাটক রচনা করে ব্রিটিশের শোষণ ও অপশাসনের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়। অমৃতলাল বসুর ‘চা–কর দর্পণ’, দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকে অত্যাচারী শ্বেতাঙ্গ সাহেবদের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়। অমৃতলাল বসু ও উপেন্দ্রনাথ দাস ‘হনুমান চরিত’ নামক প্রহসন নাটকে ইংরেজের প্রতি ব্যঙ্গবিদ্রুপ প্রকাশ করেন। গ্রামেগঞ্জে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব সৃষ্টির কাজে নাটকগুলি সাফল্য পায়। সরকার দমনমূলক আইন জারি করে দেশাত্মবোধক নাটকের প্রচার বন্ধ করে দিতে উদ্যত হয়।

মেকলের প্রতিবেদন (মেকলে মিনিটস্) ও ইনফিলট্রেশন থিয়োরি—

মেকলের প্রতিবেদন (মেকলে মিনিটস্) ও ইনফিলট্রেশন থিয়োরি—                ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনে ভারতীয়দের জন্য শিক্ষার ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা ব্যয় করার কথা বলা হয়। সেই টাকা প্রাচ্য না পাশ্চাত্য কোন শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে ভারতীয় ও ইউরোপীয়রা প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধান কল্পে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক তাঁর আইন সচিব মেকলেকে ‘ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কমিটি ’র সভাপতি পদে নিয়োগ করেন। মেকলে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের স্বপক্ষে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এই প্রতিবেদন মেকলে মিনিটস নামে খ্যাত।

রামমোহন রায়কে কেন ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ মনে করা হয় ?

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের কথা বলেন। এ ছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক বিচার–বিশ্লেষণ তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ অভিধায় ভূষিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের মৃত্যুশতবর্ষে (১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “রামমোহন তাঁর আমলের বিশ্বের সমস্ত মানুষের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণরূপে আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন”।  রামমোহন রায়–ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ    (১) সমাজসংস্কারের প্রথম উদ্যোগের জন্য—  ‘সতীদাহ’ প্রথা রোধের লক্ষ্যে রামমোহন রায় সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত এক আবেদনপত্র বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে পাঠান। বেন্টিঙ্ক রামমোহনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৭ নং রেগুলেশন (Regulation–XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, কন্যাপণ, গঙ্গাসাগ...

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু                     পর্বত্য অঞ্চল থেকে সমভূমিতে প্রবেশ করলে নদীর গতিপথের ঢাল হ্রাস পায়। ফলে নদীর ক্ষমতাও কমে যায়। উচ্চপ্রবাহের ক্ষয়িত পদার্থসমূহ (শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি) সমভূমিতে প্রবেশের মুখে পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে শঙ্কু আকৃতির ভূমিরূপ গঠন করে। একে পলিশঙ্কু বলে। দেখতে হাত পাখার মতো হয় বলে একে পলল পাখা বা পলল ব্যজনীও বলে। 

[MCQ]Geography।।এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ।।সেট ১।।solve.org.in

এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ প্রশ্ন:১ গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয় : (a) উত্তর এশিয়ায় (b) মধ্য এশিয়ায় (c) দক্ষিণ এশিয়ায়

জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান কী ?

          বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–৯৪ খ্রি.) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অগ্রণী ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার। বঙ্কিমচন্দ্রের অধিকাংশ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল স্বদেশ ও দেশপ্রেম। বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টি ভারতীয় জাতীয়তাবোধের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর ‘বন্দেমাতরম্’–মন্ত্র ছিল বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র। অরবিন্দ ঘোষ তাই বঙ্কিমকে ‘জাতীয়তাবোধের ঋত্বিক’ বলেছেন।

গিরিখাত এবং ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য

  গিরিখাত এবং ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য Sl. No. গিরিখাত ক্যানিয়ন 1 গিরিখাত আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বলে বহু উপনদী গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। ফলে নদীখাত সামান্য প্রশস্ত হয়। ক্যানিয়ন শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বলে ক্যানিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর সঙ্গে কোনো উপনদী মিলিত হয় না। ফলে নদীখাত একদম সংকীর্ণ হয়। 2 আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীতে গিরিখাতের সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মরু ও মরুপ্রায় উচ্চভূমিতে প্রবাহিত নদীতে ক্যানিয়নের সৃষ্টি হয়। 3 গিরিখাত গঠনের সময় অধিক নিম্নক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পার্শ্বক্ষয়ও হয়ে থাকে। ক্যানিয়ন গঠনের সময় পার্শ্বক্ষয় একদম হয় না শুধু নদীর নিম্নক্ষয়ই হয়ে থাকে। 4 গিরিখাতের আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো। ক্যানিয়নের আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘I’ অক্ষরের মতো। 5 যেহেতু আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে গিরিখাত সৃষ্টি হয়, সেহেতু বৃষ্টিপাতের জন্য নদীর দুই পাড়ের ক্ষয় সামা...