Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 12

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাজ্যসভার সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ—   উত্তরঃ ৬ বছর। প্রশ্নঃ রাজ্যপালকে কে শপথ বাক্য পাঠ করান? উত্তরঃ   সংশ্লিষ্ট রাজ্য যে হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত সেই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

ভারতবর্ষের নামকরণ-সংক্রান্ত বিতর্ক

 ভারতবর্ষের নামকরণ-সংক্রান্ত বিতর্ক


            আমাদের দেশ 'ভারতবর্ষ' নামে পরিচিত হলেও এই নামকরণের উৎস নিয়ে ঐতিহাসিক ও পণ্ডিতদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য বা বিতর্ক রয়েছে। প্রধানত পৌরাণিক কাহিনি, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ বিষয়ে একাধিক মত প্রচলিত আছে।

১. পৌরাণিক উৎস (রাজা ভরতের প্রসঙ্গ)

'ভারতবর্ষ' নামটির সঙ্গে 'ভরত' নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তবে পুরাণে একাধিক 'ভরত'-এর উল্লেখ থাকায় এ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে:

দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র: 

মহাভারত ও অভিজ্ঞানশকুন্তলম অনুযায়ী, কুরুবংশীয় রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র ভরত ছিলেন একজন প্রবল পরাক্রমশালী সম্রাট। তাঁর নামানুসারেই এই দেশের নাম হয় 'ভারতবর্ষ'।

ঋষভনাথের পুত্র: 

বিষ্ণু পুরাণ ও ভাগবত পুরাণ অনুসারে, সায়ম্ভুব মনুর বংশধর তথা প্রথম জৈন তীর্থংকর ঋষভনাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন ভরত। তিনি রাজ্যলিপ্সা ত্যাগ করে তপস্যায় মগ্ন হন। অনেকে মনে করেন, এই ভরতের নামানুসারেই দেশটির নামকরণ হয়েছে।

২. ঐতিহাসিক ও ঋগ্বৈদিক উৎস

আধুনিক ঐতিহাসিকরা, যেমন—ড. রোমিলা থাপার ও ড. রামশরণ শর্মা, পৌরাণিক কাহিনির চেয়ে ঋগ্বৈদিক তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ঋগ্বেদে 'ভরত' (Bharata) নামে এক শক্তিশালী আর্য গোষ্ঠীর উল্লেখ আছে। 'দশরাজার যুদ্ধে' (Battle of Ten Kings) এই গোষ্ঠী জয়লাভ করে এবং আর্যাবর্তে নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করে। ঐতিহাসিকদের মতে, এই শক্তিশালী জনজাতীয় গোষ্ঠীর নাম থেকেই দেশটির নাম কালক্রমে 'ভারত' বা 'ভারতবর্ষ' হয়েছে।

৩. ভৌগোলিক সংজ্ঞা (বিষ্ণু পুরাণ)

বিষ্ণু পুরাণে ভারতবর্ষের একটি সুস্পষ্ট ভৌগোলিক সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা নামকরণের সপক্ষে যুক্তি দেয়:

"উত্তরম্ যৎ সমুদ্রস্য হিমাদ্রেশ্চৈব দক্ষিণম্। বর্ষম্ তদ্ ভারতম্ নাম ভারতী যত্র সন্ততিঃ।।"

অর্থাৎ, সমুদ্রের উত্তরে এবং হিমালয়ের দক্ষিণে যে ভূখণ্ড অবস্থিত, তার নাম 'ভারত' এবং সেখানকার অধিবাসীরা হলো 'ভারতী' বা ভরতের বংশধর।

৪. বিদেশিদের দেওয়া নাম (ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান)

ভারতবর্ষ নামটি অভ্যন্তরীণ হলেও, বিদেশিরা ভৌগোলিক কারণে এই দেশকে ভিন্ন নামে ডেকেছে:

হিন্দুস্তান: 

প্রাচীন পারসিকরা সিন্ধু নদের 'স' উচ্চারণ করতে না পেরে 'হ' উচ্চারণ করত। ফলে 'সিন্ধু' থেকে 'হিন্দু' এবং কালক্রমে তা 'হিন্দুস্তান' (হিন্দুর বাসভূমি) নাম ধারণ করে।

ইন্ডিয়া: 

গ্রিকরা সিন্ধু নদকে বলত 'ইন্দোস' (Indos)। রোমান ও পরবর্তীকালে ইংরেজরা এর অনুকরণে দেশটির নাম দেয় 'ইন্ডিয়া' (India)।

             পরিশেষে বলা যায়, ভারতবর্ষের নামকরণ কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণে হয়নি; বরং পৌরাণিক ঐতিহ্য, আর্য জাতির বিস্তার এবং ভৌগোলিক পরিচিতি—সব মিলিয়েই এই মহান দেশটির নাম হয়েছে 'ভারতবর্ষ'। সংবিধানের ১ নং অনুচ্ছেদেও এই ঐতিহাসিক বিতর্ক এড়াতে বলা হয়েছে— "India, that is Bharat..."






READ MORE👇














Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ঐতিহাসিক তথ্য সরবরাহে সাহিত্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যের অবদান বিস্তারিত আলোচনা করো।

ঐতিহাসিক তথ্য সরবরাহে সাহিত্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যের অবদান বিস্তারিত আলোচনা করো।           ইতিহাস হলো মানব সভ্যতার অগ্রগতির প্রামাণ্য দলিল। কিন্তু প্রাচীন ভারতে হেরোডোটাস বা থুকিডিডিসের মতো কোনো প্রথাগত ঐতিহাসিক ছিলেন না। এ কারণেই একসময় আল-বিরুনি মন্তব্য করেছিলেন যে, "ভারতীয়দের কোনো ইতিহাস চেতনা নেই।" কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ সত্য নয়। প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষি এবং কবিরা সরাসরি ইতিহাস না লিখলেও, তাঁদের রচিত বিপুল সাহিত্যরাশির মধ্যে ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের মহামূল্যবান উপাদান। এই উপাদানগুলিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করলেই প্রাচীন ভারতের লুপ্ত ইতিহাস পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 12

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাজ্যসভার সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ—   উত্তরঃ ৬ বছর। প্রশ্নঃ রাজ্যপালকে কে শপথ বাক্য পাঠ করান? উত্তরঃ   সংশ্লিষ্ট রাজ্য যে হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত সেই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

[MCQ]Environment।।Man & Environment।।মানুষ ও পরিবেশ।।সেট ১

মানুষ ও পরিবেশ ➤ প্রশ্ন:১ W.T.O. সম্পূর্ণ নাম হলাে— (a) World Transport Organization. (b) World Tobacco Organization. (c) World Trade Organization.

[VSQ]Geography।।সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ভূগোল VSQs।।সেট ৮

ভূগোলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পূর্ববর্তী সেটের জন্য এখানে ক্লিক করুন।👈  প্রশ্নঃ১ মৃত্তিকাকে উর্বর কে করে ? উঃ   জৈব পদার্থ ।

ষাঁড়াষাঁড়ি বান

ষাঁড়াষাঁড়ি বান              বর্ষাকালে স্বাভাবিক কারণেই নদীতে জলের পরিমাণ ও বেগ বেশি থাকে। এই সময় জোয়ারের জল নদীর    মোহানায় প্রবেশ করলে জোয়ার ও নদীস্রোত—এই বিপরীতমুখী দুই স্রোতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর ফলে নদীর জল প্রবল শব্দ সহকারে প্রচণ্ড স্ফীত হয়ে ওঠে।  

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি 🗇 "নারীর প্রেম পুরুষের কাছে শুধু আশ্রয়, কিন্তু পুরুষের প্রেম নারীর কাছে জীবন।" 🗇 "সংসারে কেউ কাউকে ভালোবাসে না, শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে।" 🗇 "যে জন ভালোবাসে, সে জন জানে ভালোবাসার মূল্য।" 🗇 "পুরুষের মনস্তত্ত্বই এই, তারা যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকেই বেশি কষ্ট দেয়।" 🗇 "স্নেহ ভালোবাসার কাঙাল, তাই দুর্বলকে সে বেশি টানে।"

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চিরস্মরণীয় কিছু উক্তি

          বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। অগ্নিবীণা হাতে তার প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তার প্রকাশ। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে – কাজেই "বিদ্রোহী কবি"

ইতিহাসের উপাদান বলতে কী বোঝো? ইতিহাসের উপাদানগুলির শ্রেণিবিভাগ করো। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় মুদ্রার গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করো।

ইতিহাসের উপাদান বলতে কী বোঝো? ইতিহাসের উপাদানগুলির শ্রেণিবিভাগ করো। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় মুদ্রার গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করো। ১. ইতিহাসের উপাদান             ইতিহাস হলো মানব সভ্যতার অগ্রগতির ধারাবাহিক বিবরণ। কিন্তু এই বিবরণ কল্পনাপ্রসূত নয়; এটি নির্ভর করে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ওপর। যে সমস্ত উৎস, সাক্ষ্য বা প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিকরা অতীত দিনের ঘটনাবলী পুনর্গঠন করেন, তাকেই 'ইতিহাসের উপাদান' (Sources of History) বলা হয়। উপাদান ছাড়া ইতিহাস রচনা করা অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার শামিল। ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ বা আর. সি. মজুমদার সকলেই একমত যে, প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের ক্ষেত্রে উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম। ২. ইতিহাসের উপাদানের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Historical Sources)           ইতিহাসের উপাদানগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—  (ক) সাহিত্যিক উপাদান এবং  (খ) প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান।  তবে আধুনিক যুগে এর সাথে আরও কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে। নিচে এর বিস্তারিত দেওয়া হলো: ক) সাহিত্যিক উপাদান (Literary Sources):...

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।