Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 10

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে—   উত্তরঃ  সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন?    উত্তরঃ  ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন?    উত্তরঃ  নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন?    উত্তরঃ  রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন?    উত্তরঃ  অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন—   উত্তরঃ  উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন—   উত্তরঃ  লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন—   উত্তরঃ  রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি?    উত্তরঃ  চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবনের বিস্তারিত পরিচয় (A detailed introduction to the social life of the inhabitants of the Harappan civilization)

🗿 হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবনের বিস্তারিত পরিচয়

          হরপ্পা সভ্যতা বা সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবন সম্পর্কে জানার প্রধান উৎস হলো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত নগর পরিকল্পনা, সমাধিক্ষেত্র, মৃৎপাত্র, মূর্তি, অলংকার এবং অন্যান্য নিদর্শনসমূহ। এই নিদর্শনের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞানীরা হরপ্পা সমাজের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরেছেন:

১. সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস এবং ক্ষমতা কাঠামো

          নগর পরিকল্পনার দ্বিখণ্ডিত কাঠামো (দুর্গ এলাকা ও নিম্নাঞ্চল) এবং বিভিন্ন প্রকারের বসতবাড়ির আকারভেদে সমাজে শ্রেণিবিন্যাস ছিল বলে অনুমান করা হয়।

  • শ্রেণিবিভাজন: ঐতিহাসিক দামোদর ধর্মানন্দ কোশাম্বীর মতো পণ্ডিতেরা মনে করেন, হরপ্পা সমাজকে প্রধানত চারটি স্তরে ভাগ করা যেত:

    1. শাসক ও পুরোহিতগোষ্ঠী: এরা সম্ভবত দুর্গ এলাকায় বসবাস করতেন এবং প্রশাসনিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। মহেন-জো-দারোর 'পুরোহিতের মূর্তি' (Priest King) এদের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    2. যোদ্ধা বা সামরিক শ্রেণি: সমাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাণিজ্যপথ সুরক্ষিত রাখার জন্য বেতনভুক্ত যোদ্ধা সম্প্রদায় ছিল। গর্ডন চাইল্ড মনে করেন, অভিজাত শাসকশ্রেণি ধাতু নির্মিত ভারী অস্ত্রের জোরে সমাজে অন্য সকলকে দমিয়ে রাখত।

    3. বণিক, কারিগর ও ভূস্বামী: এরা ছিলেন সমাজের মধ্যবিত্ত বা বিত্তশালী অংশ। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের জন্য বণিকরা সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন।

    4. শ্রমিক, চাষি ও দীনদরিদ্র: এরা নিম্নাঞ্চলের প্রান্তে খুপরি জাতীয় কামরায় বাস করত এবং কৃষি ও দৈনন্দিন শ্রমের মাধ্যমে সমাজের ভিত্তি তৈরি করত। হরপ্পায় শস্যাগারের পাশে শ্রমিকদের কোয়ার্টারের অস্তিত্ব এর প্রমাণ।

  • ক্ষমতা কাঠামো: এই সমাজে পুরোহিতদের প্রভাব ছিল না সামরিক শক্তির প্রভাব—তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে নগর পরিকল্পনার শৃঙ্খলা দেখে অনুমান করা যায়, এখানে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা পৌরসংস্থা বিদ্যমান ছিল।

২. সমাজ ও পরিবারের প্রকৃতি

  • মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা: সিন্ধু উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য পোড়ামাটির নারীমূর্তি (Terracotta Figurines) আবিষ্কৃত হয়েছে। এই মূর্তিগুলির বিপুল আধিক্য দেখে ঐতিহাসিকদের (যেমন: এ. এল. ব্যাসাম) অনুমান যে, হরপ্পা সমাজে সম্ভবত মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রচলিত ছিল অথবা মাতৃদেবী বা উর্বরতা দেবীর পূজা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।

  • পরিবার: বাড়ির আকার এবং বিন্যাস দেখে মনে করা হয় যে এখানে একান্নবর্তী বা যৌথ পরিবার প্রথা প্রচলিত ছিল। প্রতিটি বাড়িতেই কেন্দ্রীয় উঠোন, স্নানাগার ও কুয়োর উপস্থিতি ছিল।

৩. পোশাক-পরিচ্ছদ, অলংকার ও প্রসাধন

  • পোশাক: উৎখননের ফলে পাওয়া মানবমূর্তি (যেমন: 'পুরোহিত মূর্তি') এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে অনুমান করা হয় যে, নারী ও পুরুষ উভয়েই দু-খণ্ড বস্ত্র ব্যবহার করত:

    • শরীরের নিম্নাংশে ধুতি বা স্কার্টের মতো পোশাক।

    • শরীরের ঊর্ধ্বাংশে শাল বা চাদরের মতো আবরণ, যা বাঁ কাঁধের ওপর দিয়ে ডান হাতের নিচ পর্যন্ত ঝোলানো থাকত।

  • বস্ত্রের উপকরণ: পোশাকের জন্য প্রধানত সুতি (কার্পাস) এবং পশম (বিশেষত শীতকালে) ব্যবহৃত হতো। সিন্ধু সভ্যতার মানুষই প্রথম তুলা চাষ শুরু করেছিল বলে মনে করা হয়।

  • অলংকার: এই সভ্যতাবাসী নারী-পুরুষ উভয়েই অলংকার ব্যবহার করত।

    • নারীদের অলংকার: চুড়ি, কানের দুল, হার, কোমরবন্ধ, আংটি, নুপুর ইত্যাদি।

    • পুরুষদের অলংকার: আঙুলে আংটি ও গলায় হার পরার চল ছিল।

    • উপাদান: ধনীরা সোনা, রূপা, হাতির দাঁত ও মূল্যবান পাথর (যেমন: কার্নেলিয়ান) দিয়ে তৈরি অলংকার পরত। দরিদ্ররা তামা, শঙ্খ এবং পোড়ামাটির অলংকার ব্যবহার করত।

  • প্রসাধন: চান-হু-দারো-তে প্রসাধন সামগ্রীর কারখানা আবিষ্কৃত হয়েছে। লিপস্টিক, কাজল, তামা বা ব্রোঞ্জের তৈরি আয়না ও চিরুনির ব্যবহার ছিল।

৪. খাদ্যাভ্যাস ও জীবিকা

  • প্রধান জীবিকা: হরপ্পাবাসীদের প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি, পশুপালন, উন্নত কারিগরি শিল্প এবং অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য। লোথাল-এ প্রাপ্ত ডকইয়ার্ড বা পোতাশ্রয় বাণিজ্যের গুরুত্ব প্রমাণ করে।

  • খাদ্যাভ্যাস: তারা শস্য এবং আমিষ উভয় প্রকার খাদ্য গ্রহণ করত।

    • শস্য: গম, যব (বার্লি), ধান (বিশেষত লোথাল ও রঙ্গপুরে প্রমাণ মেলে), ডাল, সরিষা ও তিল।

    • অন্যান্য: ফলমূল (যেমন: খেজুর), দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য।

    • আমিষ: মাছ, কচ্ছপের মাংস, ভেড়া, শূকর ও মুরগির মাংস খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

৫. বিনোদন ও খেলাধুলা

          সামাজিক জীবনে বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল।

  • অভ্যন্তরীণ বিনোদন: পাশা খেলা (Dice Game) ছিল অন্যতম জনপ্রিয় খেলা, যার প্রমাণ হিসেবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা পাশার গুটি আবিষ্কার করেছেন।

  • খোলা বিনোদন: নাচ-গান (মহেন-জো-দারোর 'নৃত্যরতা বালিকার মূর্তি' এর প্রমাণ), পশুশিকার, মাছ ধরা এবং ষাঁড়ের লড়াই ছিল তাদের অন্যতম বিনোদনের মাধ্যম।

  • শিশুদের খেলনা: পোড়ামাটির তৈরি ছোট ছোট পশুর মডেল, সিটি, চাকার গাড়ি ইত্যাদি খেলনা আবিষ্কৃত হয়েছে।

৬. শেষকৃত্য (Funeral Practices)

         সমাধিক্ষেত্রগুলি সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। হরপ্পাবাসীরা মূলত তিনটি পদ্ধতিতে শেষকৃত্য করত:

  1. সম্পূর্ণ সমাধি (Complete Burial): মৃতদেহকে উত্তর-দক্ষিণ দিকে রেখে কবরে শুইয়ে দেওয়া হতো। কবরের সঙ্গে মৃৎপাত্র, অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রীও দেওয়া হতো, যা পরজন্মের বিশ্বাসকে ইঙ্গিত করে।

  2. আংশিক সমাধি (Partial Burial): মৃতদেহকে পশু-পাখির খাদ্যের জন্য রেখে দেওয়ার পর অবশিষ্ট হাড়গোড় সংগ্রহ করে সমাধি দেওয়া হতো।

  3. দাহকার্য (Cremation): মৃতদেহকে দাহ করার পর ভস্মাবশেষ পাত্রে রেখে কবর দেওয়া হতো।

🎯 উপসংহার

          হরপ্পা সভ্যতার সামাজিক জীবন ছিল যথেষ্ট উন্নত, সংগঠিত এবং বিলাসিতামূলক। সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ছিল সুস্পষ্ট, যেখানে শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল। মাতৃতান্ত্রিক সমাজের ইঙ্গিত, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর জোর (উন্নত স্যানিটেশন) এবং সমৃদ্ধ জীবনযাত্রার প্রমাণ (পোশাক ও অলংকার) থেকে বোঝা যায় যে, এই সভ্যতা একটি বুর্জোয়া (Bourgeois) সভ্যতার ছাপ বহন করত, যেমনটি মার্টিমার হুইলার উল্লেখ করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এই সমাজকে প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

[MCQ]Environment।।Man & Environment।।মানুষ ও পরিবেশ।।সেট ১

মানুষ ও পরিবেশ ➤ প্রশ্ন:১ W.T.O. সম্পূর্ণ নাম হলাে— (a) World Transport Organization. (b) World Tobacco Organization. (c) World Trade Organization.

ক্ষয়জাত পর্বত

ক্ষয়জাত পর্বত       ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয় কাজের ফলে সবসময় ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এইভাবে অনেক সময় শক্ত শিলায় গঠিত জায়গা কম ক্ষয় পেয়ে যখন আশপাশের বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া নরম শিলায় গঠিত জায়গা থেকে আলাদা হয়ে উঁচুতে থেকে যায়, তখন তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে। কম ক্ষয় হওয়া অবশিষ্ট অংশ পর্বতে পরিণত হয় বলে একে অবশিষ্ট পর্বত-ও বলা হয়।

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।

ঘূর্ণবাত বৃষ্টি বা ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি

ঘূর্ণবাত বৃষ্টি বা ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি        জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত নিম্নচাপের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে ওপরে উঠে শীতল হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবাত বা ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি বলে। কোনো স্থানে প্রবল নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে চারদিক থেকে ছুটে আসা শুকনো, ঠান্ডা ও ভারী বাতাসের ওপর জলীয়বাষ্পপূর্ণ গরম বাতাস উঠে যাওয়ার জন্যই ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণবাত বৃষ্টি সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ঝিরঝির করে পড়ে। পৃথিবীর দুটি পৃথক অঞ্চলে ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি বৃষ্টি হয়ে থাকে।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।           সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু ও বহুদূর বিস্তৃত শিলাময় স্তূপ যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, ভূমির ঢাল বেশ খাড়া এবং গিরিশৃঙ্গ ও উপত্যকা বর্তমান তাকে পর্বত বলে৷ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি হল—

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য

  স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য Sl. No. স্থলবায়ু সমুদ্রবায়ু 1 স্থলবায়ু মূলত শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়। সমুদ্রবায়ু মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির হয়। 2 স্থলবায়ু প্রধানত রাত্রিবেলায় প্রবাহিত হয়। সমুদ্রবায়ু প্রধানত দিনেরবেলায় প্রবাহিত হয়। 3 সূর্যাস্তের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুর প্রবাহ শুরু হয় ও রাত্রির শেষদিকে বায়ুপ্রবাহের বেগ বৃদ্ধি পায়। সূর্যোদয়ের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুরপ্রবাহ শুরু হয় ও অপরাহ্নে বায়ুপ্রবাহে বেগ বৃদ্ধি পায়। 4 স্থলবায়ু উচ্চচাযুক্ত স্থলভাগ থেকে নিম্নচাপযুক্ত জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে স্থলবায়ুকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। সমুদ্রবায়ু উচ্চচাপযুক্ত সমুদ্র থেকে নিম্নচাপযুক্ত স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে সমুদ্রবায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। 5 স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবার দরুন বেগ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ প্রবাহিত হ...

জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান কী ?

          বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–৯৪ খ্রি.) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অগ্রণী ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার। বঙ্কিমচন্দ্রের অধিকাংশ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল স্বদেশ ও দেশপ্রেম। বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টি ভারতীয় জাতীয়তাবোধের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর ‘বন্দেমাতরম্’–মন্ত্র ছিল বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র। অরবিন্দ ঘোষ তাই বঙ্কিমকে ‘জাতীয়তাবোধের ঋত্বিক’ বলেছেন।

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য

  আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য Sl. No. আবহবিকার ক্ষয়ীভবন 1 আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন—উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, জলীয় বাষ্প, তুষারপাত ও বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান দ্বার শিলাসমূহের চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া বা বিয়োজনকে আবহবিকার বলে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন—নদী, বায়ু, হিমবাহ, ইত্যাদি দ্বারা আবহবিকারপ্রাপ্ত চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহের অপসারণকে ক্ষয়ীভবন বলে। 2 আবহবিকারের ফলে মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের (গঠন, আকৃতি, খনিজের আণবিক সজ্জা প্রভৃতি) পরিবর্তন ঘটে । ক্ষয়ীভবনের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয়। কিন্তু মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন সাধন হয় না। 3 আবহবিকার কোনোভাবে ক্ষয়ীভবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ক্ষয়ীভবন সম্পূর্ণরূপে আবহবিকারের ওপর নির্ভরশীল। আবহবিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে না। 4 আবহবিকারের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহ শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলাস্তরের ওপরেই অবস্থান করে। ক্ষয়ীভবনের ফলে আবহবিকার প্রাপ্ত শিলাচূর্ণ স্থানান্তরি...