Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

দশম শ্রেণী - ভৌতবিজ্ঞান - পরিবেশের জন্য ভাবনা - নোটস (Concern About Our Environment)

পরিবেশের জন্য ভাবনা (Concern About Our Environment) ১. বায়ুমণ্ডলের গঠন (Structure of the Atmosphere) উচ্চতা ও উষ্ণতার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবনের বিস্তারিত পরিচয় (A detailed introduction to the social life of the inhabitants of the Harappan civilization)

🗿 হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবনের বিস্তারিত পরিচয়

          হরপ্পা সভ্যতা বা সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবন সম্পর্কে জানার প্রধান উৎস হলো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত নগর পরিকল্পনা, সমাধিক্ষেত্র, মৃৎপাত্র, মূর্তি, অলংকার এবং অন্যান্য নিদর্শনসমূহ। এই নিদর্শনের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞানীরা হরপ্পা সমাজের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরেছেন:

১. সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস এবং ক্ষমতা কাঠামো

          নগর পরিকল্পনার দ্বিখণ্ডিত কাঠামো (দুর্গ এলাকা ও নিম্নাঞ্চল) এবং বিভিন্ন প্রকারের বসতবাড়ির আকারভেদে সমাজে শ্রেণিবিন্যাস ছিল বলে অনুমান করা হয়।

  • শ্রেণিবিভাজন: ঐতিহাসিক দামোদর ধর্মানন্দ কোশাম্বীর মতো পণ্ডিতেরা মনে করেন, হরপ্পা সমাজকে প্রধানত চারটি স্তরে ভাগ করা যেত:

    1. শাসক ও পুরোহিতগোষ্ঠী: এরা সম্ভবত দুর্গ এলাকায় বসবাস করতেন এবং প্রশাসনিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। মহেন-জো-দারোর 'পুরোহিতের মূর্তি' (Priest King) এদের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    2. যোদ্ধা বা সামরিক শ্রেণি: সমাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাণিজ্যপথ সুরক্ষিত রাখার জন্য বেতনভুক্ত যোদ্ধা সম্প্রদায় ছিল। গর্ডন চাইল্ড মনে করেন, অভিজাত শাসকশ্রেণি ধাতু নির্মিত ভারী অস্ত্রের জোরে সমাজে অন্য সকলকে দমিয়ে রাখত।

    3. বণিক, কারিগর ও ভূস্বামী: এরা ছিলেন সমাজের মধ্যবিত্ত বা বিত্তশালী অংশ। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের জন্য বণিকরা সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন।

    4. শ্রমিক, চাষি ও দীনদরিদ্র: এরা নিম্নাঞ্চলের প্রান্তে খুপরি জাতীয় কামরায় বাস করত এবং কৃষি ও দৈনন্দিন শ্রমের মাধ্যমে সমাজের ভিত্তি তৈরি করত। হরপ্পায় শস্যাগারের পাশে শ্রমিকদের কোয়ার্টারের অস্তিত্ব এর প্রমাণ।

  • ক্ষমতা কাঠামো: এই সমাজে পুরোহিতদের প্রভাব ছিল না সামরিক শক্তির প্রভাব—তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে নগর পরিকল্পনার শৃঙ্খলা দেখে অনুমান করা যায়, এখানে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা পৌরসংস্থা বিদ্যমান ছিল।

২. সমাজ ও পরিবারের প্রকৃতি

  • মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা: সিন্ধু উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য পোড়ামাটির নারীমূর্তি (Terracotta Figurines) আবিষ্কৃত হয়েছে। এই মূর্তিগুলির বিপুল আধিক্য দেখে ঐতিহাসিকদের (যেমন: এ. এল. ব্যাসাম) অনুমান যে, হরপ্পা সমাজে সম্ভবত মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রচলিত ছিল অথবা মাতৃদেবী বা উর্বরতা দেবীর পূজা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।

  • পরিবার: বাড়ির আকার এবং বিন্যাস দেখে মনে করা হয় যে এখানে একান্নবর্তী বা যৌথ পরিবার প্রথা প্রচলিত ছিল। প্রতিটি বাড়িতেই কেন্দ্রীয় উঠোন, স্নানাগার ও কুয়োর উপস্থিতি ছিল।

৩. পোশাক-পরিচ্ছদ, অলংকার ও প্রসাধন

  • পোশাক: উৎখননের ফলে পাওয়া মানবমূর্তি (যেমন: 'পুরোহিত মূর্তি') এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে অনুমান করা হয় যে, নারী ও পুরুষ উভয়েই দু-খণ্ড বস্ত্র ব্যবহার করত:

    • শরীরের নিম্নাংশে ধুতি বা স্কার্টের মতো পোশাক।

    • শরীরের ঊর্ধ্বাংশে শাল বা চাদরের মতো আবরণ, যা বাঁ কাঁধের ওপর দিয়ে ডান হাতের নিচ পর্যন্ত ঝোলানো থাকত।

  • বস্ত্রের উপকরণ: পোশাকের জন্য প্রধানত সুতি (কার্পাস) এবং পশম (বিশেষত শীতকালে) ব্যবহৃত হতো। সিন্ধু সভ্যতার মানুষই প্রথম তুলা চাষ শুরু করেছিল বলে মনে করা হয়।

  • অলংকার: এই সভ্যতাবাসী নারী-পুরুষ উভয়েই অলংকার ব্যবহার করত।

    • নারীদের অলংকার: চুড়ি, কানের দুল, হার, কোমরবন্ধ, আংটি, নুপুর ইত্যাদি।

    • পুরুষদের অলংকার: আঙুলে আংটি ও গলায় হার পরার চল ছিল।

    • উপাদান: ধনীরা সোনা, রূপা, হাতির দাঁত ও মূল্যবান পাথর (যেমন: কার্নেলিয়ান) দিয়ে তৈরি অলংকার পরত। দরিদ্ররা তামা, শঙ্খ এবং পোড়ামাটির অলংকার ব্যবহার করত।

  • প্রসাধন: চান-হু-দারো-তে প্রসাধন সামগ্রীর কারখানা আবিষ্কৃত হয়েছে। লিপস্টিক, কাজল, তামা বা ব্রোঞ্জের তৈরি আয়না ও চিরুনির ব্যবহার ছিল।

৪. খাদ্যাভ্যাস ও জীবিকা

  • প্রধান জীবিকা: হরপ্পাবাসীদের প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি, পশুপালন, উন্নত কারিগরি শিল্প এবং অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য। লোথাল-এ প্রাপ্ত ডকইয়ার্ড বা পোতাশ্রয় বাণিজ্যের গুরুত্ব প্রমাণ করে।

  • খাদ্যাভ্যাস: তারা শস্য এবং আমিষ উভয় প্রকার খাদ্য গ্রহণ করত।

    • শস্য: গম, যব (বার্লি), ধান (বিশেষত লোথাল ও রঙ্গপুরে প্রমাণ মেলে), ডাল, সরিষা ও তিল।

    • অন্যান্য: ফলমূল (যেমন: খেজুর), দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য।

    • আমিষ: মাছ, কচ্ছপের মাংস, ভেড়া, শূকর ও মুরগির মাংস খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

৫. বিনোদন ও খেলাধুলা

          সামাজিক জীবনে বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল।

  • অভ্যন্তরীণ বিনোদন: পাশা খেলা (Dice Game) ছিল অন্যতম জনপ্রিয় খেলা, যার প্রমাণ হিসেবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা পাশার গুটি আবিষ্কার করেছেন।

  • খোলা বিনোদন: নাচ-গান (মহেন-জো-দারোর 'নৃত্যরতা বালিকার মূর্তি' এর প্রমাণ), পশুশিকার, মাছ ধরা এবং ষাঁড়ের লড়াই ছিল তাদের অন্যতম বিনোদনের মাধ্যম।

  • শিশুদের খেলনা: পোড়ামাটির তৈরি ছোট ছোট পশুর মডেল, সিটি, চাকার গাড়ি ইত্যাদি খেলনা আবিষ্কৃত হয়েছে।

৬. শেষকৃত্য (Funeral Practices)

         সমাধিক্ষেত্রগুলি সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। হরপ্পাবাসীরা মূলত তিনটি পদ্ধতিতে শেষকৃত্য করত:

  1. সম্পূর্ণ সমাধি (Complete Burial): মৃতদেহকে উত্তর-দক্ষিণ দিকে রেখে কবরে শুইয়ে দেওয়া হতো। কবরের সঙ্গে মৃৎপাত্র, অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রীও দেওয়া হতো, যা পরজন্মের বিশ্বাসকে ইঙ্গিত করে।

  2. আংশিক সমাধি (Partial Burial): মৃতদেহকে পশু-পাখির খাদ্যের জন্য রেখে দেওয়ার পর অবশিষ্ট হাড়গোড় সংগ্রহ করে সমাধি দেওয়া হতো।

  3. দাহকার্য (Cremation): মৃতদেহকে দাহ করার পর ভস্মাবশেষ পাত্রে রেখে কবর দেওয়া হতো।

🎯 উপসংহার

          হরপ্পা সভ্যতার সামাজিক জীবন ছিল যথেষ্ট উন্নত, সংগঠিত এবং বিলাসিতামূলক। সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ছিল সুস্পষ্ট, যেখানে শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল। মাতৃতান্ত্রিক সমাজের ইঙ্গিত, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর জোর (উন্নত স্যানিটেশন) এবং সমৃদ্ধ জীবনযাত্রার প্রমাণ (পোশাক ও অলংকার) থেকে বোঝা যায় যে, এই সভ্যতা একটি বুর্জোয়া (Bourgeois) সভ্যতার ছাপ বহন করত, যেমনটি মার্টিমার হুইলার উল্লেখ করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এই সমাজকে প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য

  নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য Sl. No. নদী উপত্যকা হিমবাহ উপত্যকা 1 মেরু প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কেবলমাত্র বরফে ঢাকা উঁচু পার্বত্য অঞ্চল এবং হিমশীতল মেরু অঞ্চলেই হিমবাহ উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 2 পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা প্রধানত ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়। হিমবাহ উপত্যকা ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়। 3 পার্বত্য ও উচ্চ সমভূমি অঞ্চলে নদী স্রোতের গতিবেগ প্রবল হয়, নিম্নভূমিতে নদী স্রোতের গতি ধীরে ধীরে কমে আসে। বেশিরভাগ সময়েই হিমবাহ অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়। 4 নদী উপত্যকা আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয়। হিমবাহ উপত্যকা সোজা পথে অগ্রসর হয়। 5 সাধারণত নদী উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য বেশি হয়। হিমবাহ উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য কম হয়। 6 নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে নদী উপত্যকায় প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। ...

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু                     পর্বত্য অঞ্চল থেকে সমভূমিতে প্রবেশ করলে নদীর গতিপথের ঢাল হ্রাস পায়। ফলে নদীর ক্ষমতাও কমে যায়। উচ্চপ্রবাহের ক্ষয়িত পদার্থসমূহ (শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি) সমভূমিতে প্রবেশের মুখে পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে শঙ্কু আকৃতির ভূমিরূপ গঠন করে। একে পলিশঙ্কু বলে। দেখতে হাত পাখার মতো হয় বলে একে পলল পাখা বা পলল ব্যজনীও বলে। 

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি 🗇 "নারীর প্রেম পুরুষের কাছে শুধু আশ্রয়, কিন্তু পুরুষের প্রেম নারীর কাছে জীবন।" 🗇 "সংসারে কেউ কাউকে ভালোবাসে না, শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে।" 🗇 "যে জন ভালোবাসে, সে জন জানে ভালোবাসার মূল্য।" 🗇 "পুরুষের মনস্তত্ত্বই এই, তারা যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকেই বেশি কষ্ট দেয়।" 🗇 "স্নেহ ভালোবাসার কাঙাল, তাই দুর্বলকে সে বেশি টানে।"

গিরিখাত এবং ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য

  গিরিখাত এবং ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য Sl. No. গিরিখাত ক্যানিয়ন 1 গিরিখাত আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বলে বহু উপনদী গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। ফলে নদীখাত সামান্য প্রশস্ত হয়। ক্যানিয়ন শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বলে ক্যানিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর সঙ্গে কোনো উপনদী মিলিত হয় না। ফলে নদীখাত একদম সংকীর্ণ হয়। 2 আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীতে গিরিখাতের সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মরু ও মরুপ্রায় উচ্চভূমিতে প্রবাহিত নদীতে ক্যানিয়নের সৃষ্টি হয়। 3 গিরিখাত গঠনের সময় অধিক নিম্নক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পার্শ্বক্ষয়ও হয়ে থাকে। ক্যানিয়ন গঠনের সময় পার্শ্বক্ষয় একদম হয় না শুধু নদীর নিম্নক্ষয়ই হয়ে থাকে। 4 গিরিখাতের আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো। ক্যানিয়নের আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘I’ অক্ষরের মতো। 5 যেহেতু আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে গিরিখাত সৃষ্টি হয়, সেহেতু বৃষ্টিপাতের জন্য নদীর দুই পাড়ের ক্ষয় সামা...

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল ?

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল      ভারতীয় জাতীয় রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মূলত ভারতবাসীর আশা–আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও ব্রিটিশবিরোধী ক্ষোভের হাত থেকে ব্রিটিশ শাসনকে রক্ষা করার জন্যই।  জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য (১) কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন— উদ্দেশ্য ঘোষণা—বোম্বাইয়ের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজ হল জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে (১৮৮৫ খ্রি., ২৮ ডিসেম্বর) সভাপতির ভাষণে উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে চারটি মূল উদ্দেশ্যের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এগুলি হল—   (i) ভাষাগত ও ধর্মীয় বৈচিত্রে ভরা ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের দেশপ্রেমীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও একাত্মতা গড়ে তোলা, (ii) সম্প্রীতির দ্বারা জাতি, ধর্ম, প্রাদেশিকতার তুচ্ছ সংকীর্ণতা দূর করে জাতীয় সংহতির পথ প্রশস্ত করা, (iii) শিক্ষিতদের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ করে সামাজিক ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের উপায় নির্ণয় করা, (iv) ভারতের রাজনৈতিক অগ্রগতির জন্য ভবিষ্যৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা।

রামমোহন রায়কে কেন ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ মনে করা হয় ?

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের কথা বলেন। এ ছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক বিচার–বিশ্লেষণ তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ অভিধায় ভূষিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের মৃত্যুশতবর্ষে (১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “রামমোহন তাঁর আমলের বিশ্বের সমস্ত মানুষের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণরূপে আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন”।  রামমোহন রায়–ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ    (১) সমাজসংস্কারের প্রথম উদ্যোগের জন্য—  ‘সতীদাহ’ প্রথা রোধের লক্ষ্যে রামমোহন রায় সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত এক আবেদনপত্র বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে পাঠান। বেন্টিঙ্ক রামমোহনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৭ নং রেগুলেশন (Regulation–XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, কন্যাপণ, গঙ্গাসাগ...