Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন  বায়ুমণ্ডলের স্তর ও গঠন Q. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?   Α. পৃথিবী পৃষ্ঠকে আবৃত করে কয়েক হাজার কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলে. Q.  বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ৭৮.০৯%. Q.  বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ২০.৯৫%. Q.  বায়ুমণ্ডলে আর্গন গ্যাসের শতকরা ভাগ কত?   Α.  ০.৯৩%. Q.  বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত?   Α.  ০.০৩%. Q.  বায়ুর প্রকৃতি অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে কটি স্তরে ভাগ করা যায়?   Α.  ছয়টি. Q.  ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত?   Α.  প্রায় ১৬-১৮ কিমি. Q.  উচ্চতা বাড়লে ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর চাপের কী পরিবর্তন হয়?   Α.  বায়ুর চাপ কমে যায়. Q.  ট্রপোপজ কাকে বলে?   Α.  ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের দিকের স্থির উষ্ণতার অঞ্চলকে (১০-১৬ কিমি) ট্রপোপজ বলে. Q.  স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উচ্চতা কত?   Α.  ২০ থেকে ৪৫ কিমি পর্যন...

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

ভারতীয় সভ্যতার বিবর্তন - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ( Evolution of Indian Civilization - Short Questions and Answers )

ভারতীয় সভ্যতার বিবর্তন - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ( Evolution of Indian Civilization - Short Questions and Answers )


১। প্রস্তরযুগ বলতে কী বোঝো? প্রস্তরযুগকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?

         যে যুগে মানুষ পাথরের হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করত, সেই যুগকে প্রস্তরযুগ বলা হয়। 
প্রস্তরযুগকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- 
(১) প্রাচীন প্রস্তরযুগ, 
(২) মধ্য প্রস্তরযুগ, 
(৩) নব্য প্রস্তরযুগ।


২। প্রাচীন প্রস্তরযুগ, মধ্য প্রস্তরযুগ ও নব্য প্রস্তরযুগের একটা করে বৈশিষ্ট্য দাও।

প্রাচীন প্রস্তরযুগ: 
প্রাচীন প্রস্তরযুগে মানুষ ছিল খাদ্য-সংগ্রাহক। বলা যেতে পারে-Age of Food-gathering Man.

মধ্য প্রস্তরযুগ: 
মধ্য প্রস্তরযুগে মানুষ খাদ্য-উৎপাদকে পরিণত হয়। এসময়কে বলা হয়-Age of Food-producing Man.

নব্য প্রস্তরযুগ: 
এসময় মানুষ নগর সভ্যতার সাথে পরিচিত হয়। ধাতুর যুগ শুরু হয়। ঐতিহাসিক গর্ডন চাইল্ড এসময়কে বলেছেন-Age of Urban Culture.

৩। মেহেরগড় সভ্যতা কে, কবে আবিষ্কার করেন?
        
          ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে জেন ফ্রাঁসোয়া জারিজ ও রিচার্ড মিডো মেহেরগড় সভ্যতা অবিষ্কার করেন।


৪। মেহেরগড় সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা কোন পরীক্ষণ পদ্ধতিতে করা হয়?

          মেহেরগড় সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ মূলত দুটো পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে 
(১) 'ড্রেনড্রো-ক্রোনোলজি', 
(২) 'রেডিয়ো কার্বন-১৪'


৫। মেহেরগড় কোথায় অবস্থিত? কবে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?

        বোলান গিরিপথের কাছে, কোয়েটা শহর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে কাচ্চির সমতল ভূমিতে মেহেরগড় সভ্যতার জন্ম হয়। আনুমানিক ৭০০০ থেকে ৬০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।


৬। মেহেরগড় সভ্যতা কতদূর বিস্তৃত ছিল?

          মেহেরগড় সভ্যতার আবিষ্কর্তা জেন ফ্রাঁসোয়া জারিজের মতে, প্রায় ৫০০ একর বা ১৫০০ বিঘা জমির ওপর এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এই সভ্যতার পূর্বদিকে অবস্থান করছে হিমালয় পর্বতমালা ও থর মরুভূমি; পশ্চিম দিকে ইরান, ইরাক, উত্তরদিকে কারাকোরাম, ককেশাস  ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা; দক্ষিণ দিকে মহেন-জো-দারো অবস্থান করছে।


৭। কে. কবে, কোথায় হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কার করেন?

         ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধিকর্তা স্যার জন মার্শাল-এর তত্ত্বাবধানে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সিন্ধুপ্রদেশের লারকানা জেলার মহেন-জো-দারোতে এবং পাঞ্জাবের মন্টগোমারি জেলার হরপ্পাতে দয়ারাম সাহানি হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কার করেন।


৮। হরপ্পা সভ্যতাকে 'তাম্র-ব্রোঞ্জযুগীয় সভ্যতা' বলা হয় কেন?

         হরপ্পার মানুষ তামা ও টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরি করে এবং তামা ও ব্রোঞ্জের বহুল প্রচলন করেন। তাই, এই সভ্যতাকে 'তাম্র-ব্রোঞ্জযুগীয় সভ্যতা' বলা হয়।


৯। হরপ্পা কোথায় এবং কোন্ নদীর তীরে অবস্থিত?

          হরপ্পা পাঞ্জাবের মন্টগোমারি জেলায় সিন্ধুনদের তীরে অবস্থিত।


১০। সিন্ধু সভ্যতাকে 'হরপ্পা সভ্যতা' বলা হয় কেন?

          সিন্ধুনদের তীরে প্রথম এই সভ্যতার আবিষ্কার হওয়ায় এর নামকরণ হয় সিন্ধুসভ্যতা। পরবর্তীকালে খননকার্য চালিয়ে দেখা যায় যে, হরপ্পা অঞ্চলে অনেক বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বর্তমান। আর, সে কারণে মনে হয় যে, হরপ্পাকে কেন্দ্র করেই এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। তাই, এই সভ্যতাকে পরবর্তী ক্ষেত্রে 'হরপ্পা সভ্যতা' বলে চিহ্নিত করা হয়।


১১। বিশ্বদরবারে হরপ্পা সভ্যতার অবদান কী?

         অতি প্রাচীনকালে সৃষ্টি হলেও এই সভ্যতা বিশ্বদরবারে বেশ কিছু অবদান রেখেছে। যেমন-
(১) প্রথম নগর-পরিকল্পনা, 
(২) প্রথম পৌরসংস্থা গঠন, 
(৩) প্রথম জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনাগ্রহণ, 
(৪) প্রথম নগরকেন্দ্রিক-সভ্যতা প্রভৃতি।


১২। হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন কোথায় কোথায় পাওয়া গিয়েছে?

        হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে- 
(১) পাঞ্জাবের চানহুদড়ো, 
(২) লোথাল, 
(৩) সৌরাষ্ট্র, 
(৪) কাথিয়াবাড়, 
(৫) বালাকোট, 
(৬) বালুচিস্তান, 
(৭) কালিবঙ্গান, 
(৮) আলমগিরপুর, 
(৯) রূপার, 
(১০) রাজস্থান 
প্রভৃতি স্থানে। ভারতের বাইরে ইরান পর্যন্ত এই সভ্যতা বিস্তৃত ছিল।


১৩। হরপ্পা সভ্যতার শিল্প সম্পর্কে লেখো।

          হরপ্পা সভ্যতার মানুষ সাধারণত তামা, ব্রোঞ্জ ও পাথর দিয়ে শিল্পকর্ম করত। এগুলো দিয়ে অস্ত্রও নির্মিত হত, যেমন- বর্শা, কুঠার প্রভৃতি। পাথর দিয়ে শৌখিন অলংকার বানানো হত।


১৪। হরপ্পা সভ্যতায় শাসক, ধনী ও দরিদ্র শ্রেণি কোথায় বাস করত?

           হরপ্পা সমাজের শাসকশ্রেণি দুর্গ অঞ্চলে বসবাস করত। শহরের মধ্যবর্তী দ্বিতল বাড়িগুলোতে বাস করত ধনী ও বণিক সম্প্রদায়; আর দরিদ্র ও শ্রমিক সম্প্রদায় বাস করত খুপ্রি জাতীয় ঘরগুলোতে।


১৫। সিন্ধুর বণিকরা কী নামে পরিচিত ছিল?

     সিন্ধুর বণিকরা 'পানি' নামে পরিচিত ছিল।


১৬। হরপ্পা সভ্যতার সময়কাল কত?

          'রেডিয়ো কার্বন-১৪' পরীক্ষণ পদ্ধতি অনুযায়ী হরপ্পা সভ্যতার সময়কাল ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। তবে সর্বসম্মত অভিমত হল-৩০০০ খিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ।


১৭। লোথাল কোথায় অবস্থিত?

           বর্তমান গুজরাট রাজ্যে লোথাল বন্দরটি অবস্থিত ছিল।


১৮। হরপ্পায় প্রাপ্ত স্নানাগারটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কত?

          হরপ্পায় যে স্নানাগারটি পাওয়া গিয়েছে, তার দৈর্ঘ্য হল ১৮০ ফুট এবং প্রস্থ ১০৮ ফুট।


১৯। বৈদিক সাহিত্য বলতে কী বোঝো?

          বৈদিক সাহিত্য হল-
(১) ঋগ্বেদ, 
(২) সামবেদ, 
(৩) যজুর্বেদ ও 
(৪) অথর্ব বেদ। 
এ ছাড়া সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, উপনিষদ ও বেদাঙ্গ নিয়ে বৈদিক সাহিত্য গড়ে উঠেছে।


২০। বেদ 'অপৌরুষেয়' কেন?

          হিন্দুগণ বিশ্বাস করেন যে, বেদ কোনো মানুষ রচনা করেনি, বেদ স্বয়ং ঈশ্বরের বাণী, যা প্রাচীন ঋষিগণ শুনেছিলেন। এজন্য বেদকে 'নিত্য' ও 'অপৌরুষেয়' বলা হয়।


২১। বেদকে 'শ্রুতি' বলা হয় কেন?

          বেদ ঈশ্বরের বাণী। শুনে শুনে মনে রাখতে হত বলে বেদকে শ্রুতি বলা হয়।


২২। বৈদিক সমাজে কয়টি শ্রেণি ছিল ও কী কী?

           বৈদিক সমাজে চারটি শ্রেণি ছিল। এগুলো হল- 
(১) ব্রাহ্মণ, 
(২) ক্ষত্রিয়, 
(৩) বৈশ্য, 
(৪) শূদ্র।


২৩। ঋগ্বেদে উল্লিখিত 'সপ্তসিন্ধু' বলতে কী বোঝো?

          ঋগ্বেদ উল্লিখিত সপ্তসিন্ধু হল- 
(১) শতদ্রু, 
(২) ইরাবতী, 
(৩) বিপাশা, 
(৪) চন্দ্রভাগা, 
(৫) সরস্বতী, 
(৬) বিতস্তা ও 
(৭) সিন্ধু অববাহিকাকে বলা হয় সপ্তসিন্ধু।


২৪। উপনিষদ কী? উপনিষদকে কেন 'বেদান্ত' বলা হয়?

          বেদের শেষ ভাগকে উপনিষদ বলা হয়। বৈদিক সাহিত্যে চারটি বেদ আছে। এগুলো হল-ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ব বেদ। প্রত্যেকটি বেদের আবার চারটি ভাগ আছে। এগুলো হল- 
(১) সংহিতা, 
(২) ব্রাহ্মণ, 
(৩) আরণ্যক, 
(৪) উপনিষদ। 
বেদগুলোর শেষাংশ 'উপনিষদ' হওয়ার জন্য উপনিষদকে 'বেদান্ত' বলা হয়।


২৫। 'সভা' ও 'সমিতি' কীজন্য ও কাদের নিয়ে গঠিত হয়?

          বৈদিক যুগে রাজা বা রাজন যাতে স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে না-পারে, সেজন্য 'সভা' ও 'সমিতি' নামক দুটো জনসভা রাজশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করত।
রাজ্যের বয়স্কদের নিয়ে গঠিত হত 'সভা' এবং 'সমিতি'তে থাকত সাধারণ মানুষ।


২৬। চতুরাশ্রমের বিভিন্ন পর্যায়গুলো কী কী?

          ঋগ্বেদিক যুগের শেষ দিকে আর্যসমাজে চতুরাশ্রম প্রথার উদ্ভব ঘটে। এখানে আর্যসন্তানের জীবনকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে- 
(ক) ব্রহ্মচর্য, 
(খ) গার্হস্থ্য, 
(গ) বানপ্রস্থ,
(ঘ) সন্ন্যাস। 
ব্রহ্মচর্য পর্বে আর্যবালক গুরুগৃহে ব্রহ্মচর্য পালন ও বিদ্যাচর্চা করত। গার্হস্থ্য পর্বে সংসারধর্ম পালন করতে হয়। বানপ্রস্থ পর্বে সংসার ত্যাগ করে অরণ্যে গিয়ে ঈশ্বরচিন্তা করতে হত। সবশেষে সন্ন্যাস পর্বে সংসার ত্যাগ করে পরমার্থ চিন্তায় কালাতিপাত করতে হত।


২৭। আদি বৈদিক যুগের প্রধান শিল্প কী ছিল?

          বস্ত্রবয়ন শিল্প ছিল ঋগ্‌বৈদিক যুগের উন্নত শিল্প। এছাড়া রথ ও যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ শিল্প।


২৮। আর্য কারা?

          হরপ্পা-পরবর্তী যুগে 'বেদ' কে ভিত্তি করে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো, তাকে বৈদিক সভ্যতা বলে। এই সভ্যতার স্রষ্টাদের 'আর্য' বলা হয়।


২৯। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুটি বিশেষ পরিবর্তনের উল্লেখ করো।

          খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুটো পরিবর্তন হল-

(১) এসময় লোহার ব্যবহার শুরু হয়। লোহার যন্ত্রপাতি ও লাঙল দিয়ে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষির সম্প্রসারণ ঘটে। ফলে, কৃষিনির্ভর শিল্প ও ব্যাবসাবাণিজ্যের প্রসার ঘটে। শিল্প-বাণিজ্যের সাথে সাথে 'নিগম' বা বণিক সংঘ গড়ে ওঠে।

(২) লোহার ব্যবহার শুরু হওয়ায় পূর্ববর্তী যুগের তুলনায় কৃষির উন্নতি ঘটে, ঋতু অনুযায়ী শস্য-রোপণের জ্ঞান সুস্পষ্ট হয়। ফলে, কৃষিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে ওঠে। সেই সাথে কৃষিক্ষেত্রে গৃহপালিত পশুর ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে গো-ধন অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে ওঠে।


৩০। প্রতিবাদী আন্দোলন বলতে কী বোঝো?

          খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের যাগযজ্ঞ-সর্বস্ব ধর্মমতের বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদ দেখা দেয়। ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে নতুনভাবে জন্ম নেয় প্রায় ৬৩টি প্রতিবাদী ধর্মমত। তবে এগুলোর মধ্যে জৈন ও বৌদ্ধধর্ম উল্লেখযোগ্য ছিল।


৩১। 'ব্রাত্য' ও 'নিষাদ' কী?

          বৈদিক যুগের শেষদিকে আর্য-বর্ণব্যবস্থার বাইরে দুটো জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এরা হল 'ব্রাত্য' ও 'নিষাদ'। বনের ফল ও পশুপাখির মাংস ছিল তাদের জীবিকা অর্জনের পথ। ব্রাত্যগণ আর্য হলেও শিবের পূজা করত; আর নিষাদরা ছিল অনার্য।


৩২। দ্বাদশ অঙ্গ কী?

          ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পাটলিপুত্রের এক ধর্ম সংগীতিতে (সম্মেলনে) বর্ধমান মহাবীর যে উপদেশ প্রদান করেন, তা তাঁর অনুগামীগণ ১২টি খণ্ডে লিপিবদ্ধ করেন। এই ১২টি খণ্ডকে 'দ্বাদশ অঙ্গ' বলা হয়।


৩৩। তীর্থঙ্কর কাদের বলা হয়? প্রথম ও শেষ তীর্থঙ্কর কে?

          জৈনধর্মে মুক্তির পথনির্মাতাগণকে তীর্থঙ্কর বলা হয়। সর্বপ্রথম তীর্থঙ্কর হলেন ঋষভদেব এবং শেষ তীর্থঙ্কর হলেন বর্ধমান মহাবীর।


৩৪। চতুর্যাম কী?

          জৈনদের ত্রয়োবিংশ তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ যে চারটি শিক্ষা দিয়েছিলেন, তা 'চতুর্যাম' নামে পরিচিত। এই চারটি শিক্ষা হল- 
(১) অহিংসা, 
(২) সত্য, 
(৩) অচৌর্য,


৩৫। 'মহাপঞ্চব্রত' কী?

          পার্শ্বনাথ 'চতুর্যাম'-এর কথা বলেন। এই চতুর্যাম-এর সঙ্গে মহাবীর একটা নতুন শিক্ষা যোগ করেন, যা 'মহাপঞ্চব্রত' নামে পরিচিত। এই মহাপঞ্চব্রত হল- 
(১) অহিংসা, 
(২) সত্যবাদিতা, 
(৩) অচৌর্য, 
(৪) অপরিগ্রহ, 
(৫) ব্রহ্মচর্য।


৩৬। জৈনধর্মের ত্রিরত্ন কী?

          বর্ধমান মহাবীর আত্মার মুক্তির জন্য তিনটি পথের নির্দেশ দেন, যা ত্রিরত্ব নামে পরিচিত। এই ত্রিরত্ন হল- 
(১) সত্য বিশ্বাস, 
(২) সত্য জ্ঞান, 
(৩) সত্য আচরণ।


৩৭। জৈনধর্মের সর্বোত্তম বৃত্তি কী?

          জৈনধর্মের সর্বোত্তম বৃত্তি হল- 
(১) অহিংসা, 
(২) অপরিগ্রহ, 
(৩) কৃচ্ছসাধন, 
(৪) রিপুজয়।


৩৮। কয়েকজন জৈন দার্শনিকের নাম লেখো।

          কয়েকজন উল্লেখযোগ্য জৈন দার্শনিক হলেন- 
(১) ভদ্রবাহু, 
(২) হেমচন্দ্র, 
(৩) সিদ্ধসেন, 
(৪) হরিভদ্র প্রমুখ।


৩৯। গৌতম বুদ্ধ কবে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর বাল্যনাম কী?

          গৌতম বুদ্ধের জন্মকাল হল ৫৬৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, মতান্তরে ৫৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। তাঁর বাল্যনাম সিদ্ধার্থ।


৪০। সিদ্ধার্থ কত বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন, কবে দিব্যজ্ঞান লাভ করেন এবং কবে, কত বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন?

          সিদ্ধার্থ ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন। ৩৫ বছর বয়সে 'বোধি' বা দিব্যজ্ঞান লাভ করেন এবং গৌতম বুদ্ধ নামে পরিচিত হন। ৪৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, মতান্তরে ৪৮৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ৮০ বছর বয়সে তিনি দেহত্যাগ করেন।


৪১। বৃদ্ধদেব প্রচারিত চারটি আর্যসত্য কী?

          গৌতম বুদ্ধ চারটি আর্যসত্যের কথা বলেছেন। এগুলো হল- 
(১) জগৎ দুঃখময়; 
(২) কামনা,বাসনা, তৃষ্ণা ও আসক্তি হল দুঃখের কারণ; 
(৩) দুঃখের কারণ ধ্বংস করেই দুঃখের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়; 
(৪) দুঃখের হাত থেকে নিষ্কৃতির উপায় আছে।


৪২। ধর্মচক্র প্রবর্তন কী?

          বুদ্ধদেব ৩৫ বছর বয়সে বোধি বা দিব্যজ্ঞান লাভ করার পর সারনাথে প্রথম পাঁচজন ভিক্ষুর কাছে তাঁর ধর্মীয় উপদেশ প্রচার করেন। এই পাঁচজন ভিক্ষু 'পঞ্চভিক্ষু' এবং এই ঘটনা 'ধর্মচক্র প্রবর্তন' নামে পরিচিত।


৪৩। বুদ্ধদেব মধ্যপন্থা বা 'মঝঝিম' পন্থা বলতে কী বলেছেন?

          বুদ্ধদেব মনে করেন যে, চরম ভোগবিলাস ও চরম কৃচ্ছসাধন হল আত্মার উন্নতির পথে বিঘ্নস্বরূপ। এজন্য তিনি এই চরমপন্থার মধ্যবর্তী একটা পন্থা গ্রহণের কথা বলেন, যা 'মঝঝিম' বা মধ্যপন্থা নামে পরিচিত।


৪৪। অষ্টাঙ্গিক মার্গ কী?

          গৌতম বুদ্ধ মানুষের আসক্তি, বিনাশ এবং দুঃখ থেকে নিবৃত্তিলাভের জন্য আটটি পথের কথা বলেন। বুদ্ধদেবের এই আটটি পথকে 'অষ্টাঙ্গিক মার্গ' বা 'অষ্টমার্গ' বলে। এই অষ্টমার্গগুলো হল- 
(১) সৎ বাক্য 
(২) সৎ কার্য 
(৩) সৎ জীবন 
(৪) সৎ চেষ্টা 
(৫) সৎ চিন্তা 
(৬) সৎ সংকল্প 
(৭) সৎ দৃষ্টি 
(৮) সৎ সমাধি। 
এই আটটি মার্গ অনুসরণ করলে পরম জ্ঞানের সঞ্চার হবে এবং তা থেকেই আসবে নির্বাণ।


৪৫। প্রাচীন ভারতে সেচ ব্যবস্থা কবে নাগাদ শুরু হয়?

          হরপ্পা সভ্যতা নগরকেন্দ্রিক হওয়ায় সেচব্যবস্থা বিশেষ লক্ষ করা যায়নি। সম্ভবত কৃষিভিত্তিক বৈদিক যুগে (খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে) সেচব্যবস্থার প্রসার ঘটে।


৪৬। নিষ্ক-কে 'পল' বলা হত কেন?

          নিষ্ক-র পরিমাপ ছিল চারি মাষা। আর পল হল পরিমাণবিশেষ, যা চার তোলার সমান। ওজনগত এই মিল থাকার কারণে সম্ভবত নিষ্ককে পল বলা হত।



Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি 🗇 "নারীর প্রেম পুরুষের কাছে শুধু আশ্রয়, কিন্তু পুরুষের প্রেম নারীর কাছে জীবন।" 🗇 "সংসারে কেউ কাউকে ভালোবাসে না, শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে।" 🗇 "যে জন ভালোবাসে, সে জন জানে ভালোবাসার মূল্য।" 🗇 "পুরুষের মনস্তত্ত্বই এই, তারা যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকেই বেশি কষ্ট দেয়।" 🗇 "স্নেহ ভালোবাসার কাঙাল, তাই দুর্বলকে সে বেশি টানে।"

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা             ‘মেখলা’ শব্দের মানে হল ‘কোমর বন্ধনী’। অসংখ্য আগ্নেয়গিরি মেখলা বা কোমর বন্ধনীর আকারে কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যখন অবস্থান করে, তখন তাকে ‘আগ্নেয় মেখলা’ বলা হয়।            ভূবিজ্ঞানীর মতে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে ও এশীয় মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে পাত সীমায় ফাটল বরাবর অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে এবং আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। 

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন আইন প্রবর্তনের কারণ ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয়তাবাদী নাটক রচনা করে ব্রিটিশের শোষণ ও অপশাসনের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়। অমৃতলাল বসুর ‘চা–কর দর্পণ’, দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকে অত্যাচারী শ্বেতাঙ্গ সাহেবদের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়। অমৃতলাল বসু ও উপেন্দ্রনাথ দাস ‘হনুমান চরিত’ নামক প্রহসন নাটকে ইংরেজের প্রতি ব্যঙ্গবিদ্রুপ প্রকাশ করেন। গ্রামেগঞ্জে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব সৃষ্টির কাজে নাটকগুলি সাফল্য পায়। সরকার দমনমূলক আইন জারি করে দেশাত্মবোধক নাটকের প্রচার বন্ধ করে দিতে উদ্যত হয়।

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

মেকলের প্রতিবেদন (মেকলে মিনিটস্) ও ইনফিলট্রেশন থিয়োরি—

মেকলের প্রতিবেদন (মেকলে মিনিটস্) ও ইনফিলট্রেশন থিয়োরি—                ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনে ভারতীয়দের জন্য শিক্ষার ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা ব্যয় করার কথা বলা হয়। সেই টাকা প্রাচ্য না পাশ্চাত্য কোন শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে ভারতীয় ও ইউরোপীয়রা প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধান কল্পে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক তাঁর আইন সচিব মেকলেকে ‘ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কমিটি ’র সভাপতি পদে নিয়োগ করেন। মেকলে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের স্বপক্ষে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এই প্রতিবেদন মেকলে মিনিটস নামে খ্যাত।

রামমোহন রায়কে কেন ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ মনে করা হয় ?

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের কথা বলেন। এ ছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক বিচার–বিশ্লেষণ তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ অভিধায় ভূষিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের মৃত্যুশতবর্ষে (১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “রামমোহন তাঁর আমলের বিশ্বের সমস্ত মানুষের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণরূপে আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন”।  রামমোহন রায়–ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ    (১) সমাজসংস্কারের প্রথম উদ্যোগের জন্য—  ‘সতীদাহ’ প্রথা রোধের লক্ষ্যে রামমোহন রায় সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত এক আবেদনপত্র বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে পাঠান। বেন্টিঙ্ক রামমোহনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৭ নং রেগুলেশন (Regulation–XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, কন্যাপণ, গঙ্গাসাগ...

[MCQ]Geography।।এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ।।সেট ১।।solve.org.in

এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ প্রশ্ন:১ গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয় : (a) উত্তর এশিয়ায় (b) মধ্য এশিয়ায় (c) দক্ষিণ এশিয়ায়

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু                     পর্বত্য অঞ্চল থেকে সমভূমিতে প্রবেশ করলে নদীর গতিপথের ঢাল হ্রাস পায়। ফলে নদীর ক্ষমতাও কমে যায়। উচ্চপ্রবাহের ক্ষয়িত পদার্থসমূহ (শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি) সমভূমিতে প্রবেশের মুখে পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে শঙ্কু আকৃতির ভূমিরূপ গঠন করে। একে পলিশঙ্কু বলে। দেখতে হাত পাখার মতো হয় বলে একে পলল পাখা বা পলল ব্যজনীও বলে। 

গ্রস্ত উপত্যকা

গ্রস্ত উপত্যকা : ১. গ্রস্ত উপত্যকার সংজ্ঞা :                দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গেলে যে অবনমিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।              এছাড়া, মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণ বলের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের কঠিন শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুনরায় ভূ-আন্দোলন ঘটলে বা ভূ-আলোড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাটল রেখা বরাবর শিলার একটি অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ খাড়াভাবে নীচে বসে যায়। অবনমিত, ওই অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। 

নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য

  নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য Sl. No. নদী উপত্যকা হিমবাহ উপত্যকা 1 মেরু প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কেবলমাত্র বরফে ঢাকা উঁচু পার্বত্য অঞ্চল এবং হিমশীতল মেরু অঞ্চলেই হিমবাহ উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 2 পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা প্রধানত ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়। হিমবাহ উপত্যকা ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়। 3 পার্বত্য ও উচ্চ সমভূমি অঞ্চলে নদী স্রোতের গতিবেগ প্রবল হয়, নিম্নভূমিতে নদী স্রোতের গতি ধীরে ধীরে কমে আসে। বেশিরভাগ সময়েই হিমবাহ অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়। 4 নদী উপত্যকা আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয়। হিমবাহ উপত্যকা সোজা পথে অগ্রসর হয়। 5 সাধারণত নদী উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য বেশি হয়। হিমবাহ উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য কম হয়। 6 নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে নদী উপত্যকায় প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। ...