Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 10

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে—   উত্তরঃ  সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন?    উত্তরঃ  ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন?    উত্তরঃ  নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন?    উত্তরঃ  রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন?    উত্তরঃ  অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন—   উত্তরঃ  উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন—   উত্তরঃ  লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন—   উত্তরঃ  রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি?    উত্তরঃ  চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ (Details of the city planning of the Harappan civilization)

🧱 হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ

           হরপ্পা সভ্যতা (আনুমানিক ২৬০০ - ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), যা সিন্ধু সভ্যতা নামেও পরিচিত, প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম উন্নত এবং সুপরিকল্পিত নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। হরপ্পা, মহেন-জো-দারো, লোথাল, কালিবঙ্গান এবং ধোলাভিরা-এর মতো স্থানগুলিতে খননকার্যের ফলে যে নগর পরিকল্পনা উন্মোচিত হয়েছে, তা এই সভ্যতার প্রকৌশল ও পৌর প্রশাসনের দক্ষতা প্রমাণ করে। এটি সমসাময়িক মিশরীয় বা মেসোপটেমীয় সভ্যতার নগর পরিকল্পনা থেকেও অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক ছিল।

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার নিম্নলিখিত প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লক্ষ্যণীয়:

১. সুনির্দিষ্ট দ্বিখণ্ডিত নগর এলাকা (The Twin Settlement Plan)

অধিকাংশ হরপ্পা নগরীর একটি সুনির্দিষ্ট দ্বিখণ্ডিত কাঠামো ছিল, যা নগর প্রশাসন ও সামাজিক বিভাজনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

  • পশ্চিমে দুর্গ এলাকা (Citadel Area): এটি অপেক্ষাকৃত উঁচু টিলার ওপর তৈরি হত এবং সাধারণত ছোট এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। এই অংশটি পুরু ইটের প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল।

    • ব্যবহার: এখানে শাসকশ্রেণী বা কর্তাব্যক্তিরা বাস করতেন। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সম্ভবত ধর্মীয় কাঠামো, যেমন মহেন-জো-দারোর মহা-স্নানাগার ও শস্যাগার, এই দুর্গ এলাকাতেই আবিষ্কৃত হয়েছে। এই প্রাচীর নির্মাণ প্রমাণ করে যে নিরাপত্তার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হতো।

  • পূর্বে নিম্নাঞ্চল (Lower Town): এটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং নিচু এলাকায় অবস্থিত ছিল।

    • ব্যবহার: এখানে সাধারণ নাগরিক, কারিগর এবং ব্যবসায়ীরা বাস করতেন। বাড়িগুলি গ্রিড-প্যাটার্নে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত ছিল।

    • ব্যতিক্রম: লোথালে পুরো শহরটিই একটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল, যেখানে দুর্গ এবং নিম্নাঞ্চল আলাদাভাবে প্রাচীরবেষ্টিত ছিল না। আবার, ধোলাভিরাতে শহরটি তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল (দুর্গ, মধ্যম শহর এবং নিম্নাঞ্চল)।

২. জ্যামিতিক গ্রিড ব্যবস্থা ও রাজপথ (The Grid System and Roads)

হরপ্পা নগর পরিকল্পনার সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যমূলক দিক হলো এর জ্যামিতিক গ্রিড ব্যবস্থা।

  • রাস্তা বিন্যাস: শহরের প্রধান রাস্তাগুলি (৯ ফুট থেকে ৩৪ ফুট পর্যন্ত চওড়া) উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম বরাবর একে অপরের সাথে সমকোণে ছেদ করত। এর ফলে গোটা শহরটিই ছোট-বড় আয়তাকার খণ্ডে (ব্লকে) বিভক্ত হয়ে যেত।

  • সুবিধা: এই ব্যবস্থা বায়ু চলাচলের সুবিধা দিত এবং শহরকে দ্রুত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করত। এটিকে ‘চেকার বোর্ড’ বা ‘গ্রিড প্যাটার্ন’ পরিকল্পনা বলা হয়।

  • আলোর ব্যবস্থা: রাজপথের দু-পাশে সারিবদ্ধভাবে প্রদীপ বা লণ্ঠন রাখার ব্যবস্থা ছিল, যা রাতের বেলায় নাগরিকদের সুবিধা দিত।

  • গলি পথ: মূল রাস্তাগুলি ছাড়াও বাড়িগুলির মাঝে সরু গলি পথ ছিল, যার সঙ্গে বাড়ির দরজা সংযুক্ত থাকত।

৩. উন্নত পয়ঃপ্রণালী ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা (The Advanced Drainage System)

পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা ছিল হরপ্পা সভ্যতার শ্রেষ্ঠ অর্জন, যা নাগরিক স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি তাদের সচেতনতা প্রমাণ করে।

  • বাড়ির নর্দমা: প্রতিটি বাড়ির স্নানঘর ও শৌচাগারের নোংরা জল পোড়া মাটির তৈরি নল বা ছোট নালা দিয়ে নিষ্কাশিত হয়ে পাশের সরু গলির নালাতে পড়ত।

  • প্রধান নর্দমা: গলির নালাগুলি শহরের প্রধান রাস্তার পাশে থাকা বড়, ঢাকা নর্দমার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই নর্দমাগুলি সাধারণত পোড়া ইট এবং চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি ছিল এবং slab বা ইট দিয়ে ঢাকা থাকত।

  • পরিষ্কারের ব্যবস্থা: নর্দমাগুলিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে ম্যানহোল বা পরিদর্শনের ছিদ্র (Inspection Hole) রাখা হতো, যাতে প্রয়োজনে নর্দমা পরিষ্কার করা যায়।

  • নিষ্কাশন: শহরের সমস্ত নোংরা জল একটি প্রধান নর্দমার মাধ্যমে শহরের বাইরে জনবসতিহীন এলাকায় নিষ্কাশিত হতো।

  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ড. এ. এল. ব্যাসামের মতো ঐতিহাসিকেরা মন্তব্য করেছেন যে, রোমান সভ্যতার উত্থানের আগে বিশ্বের অন্য কোনো প্রাচীন সভ্যতায় এত উন্নত ও সুসংগঠিত পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়নি।

৪. নির্মাণ সামগ্রী ও স্থাপত্যশৈলী (Building Materials and Architecture)

  • ইট ব্যবহার: হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল পোড়া ইটের (Baked Bricks) ব্যাপক ব্যবহার। ইটগুলি ছিল সুনির্দিষ্ট ও মানসম্মত মাপের (সাধারণত ৪:২:১ অনুপাতে), যা উচ্চমানের প্রকৌশল জ্ঞান প্রমাণ করে। কালিবঙ্গানে অবশ্য রোদ-শুকানো ইটের ব্যবহার দেখা যায়।

  • আবাসিক কাঠামো:

    • বৈচিত্র্য: ধনী-দরিদ্রের জন্য একতলা থেকে দোতলা-তিনতলা পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের বাড়ি পাওয়া গেছে।

    • পরিকল্পনা: প্রতিটি বাড়িতে সাধারণত একটি খোলা উঠোন (Courtyard), শোয়ার ঘর, রান্নাঘর, স্নানঘর এবং ব্যক্তিগত কুয়ো (Wells) থাকত।

    • গোপনীয়তা: বেশিরভাগ বাড়ির দরজা-জানালা সদর রাস্তার দিকে না রেখে পাশের সরু গলির দিকে রাখা হতো, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রতি গুরুত্ব দিত।

  • শ্রমিকদের আবাস: শহরের নিম্নাঞ্চলের একেবারে শেষ প্রান্তে বা গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণস্থলের কাছে খুপরি জাতীয় ছোট কামরাগুলির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যেখানে শ্রমিক বা দরিদ্র মানুষেরা বাস করত।

৫. গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বা গণ-কাঠামো (Public Structures)

হরপ্পা সভ্যতায় সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর ইঙ্গিত দিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গণ-স্থাপত্যের সন্ধান মিলেছে:

  • মহা-স্নানাগার (The Great Bath): মহেন-জো-দারোর দুর্গ এলাকায় আবিষ্কৃত এই সুবিশাল কাঠামোটি (প্রায় ১২ মি x ৭ মি x ২.৪ মি) সম্ভবত ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক স্নানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। এটি নিখুঁত জলরোধী (water-tight) কাঠামো ছিল। মার্টিমার হুইলার এর ধর্মীয় ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।

  • শস্যাগার (Granaries): হরপ্পা ও মহেন-জো-দারোতে আবিষ্কৃত বিশাল শস্যাগার বা শস্য মজুত করার স্থানগুলি ছিল শহরের আবশ্যকীয় খাদ্যের মজুত ভান্ডার। হরপ্পার শস্যাগারগুলির পাশে শ্রমিকদের ছোট আবাস থাকার প্রমাণ মিলেছে। এই শস্যাগারগুলি সম্ভবত কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো।

  • সভাকক্ষ/কলেজ (Assembly Hall/College): মহেন-জো-দারোতে স্তম্ভযুক্ত একটি বিশাল হল-এর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত প্রশাসনিক আলোচনা বা ধর্মীয় জমায়েতের জন্য ব্যবহৃত হতো।

৬. বন্দরের প্রমাণ (Evidence of Ports - লোথাল)

          গুজরাটের লোথালে একটি সুপরিকল্পিত কৃত্রিম ডকইয়ার্ড (Dockyard) বা পোতাশ্রয়ের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, যা এই সভ্যতার সমুদ্র-বাণিজ্যের গুরুত্ব প্রমাণ করে। এর গঠনশৈলী দেখায় যে এটি জোয়ারের জল ধরে রাখার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

🎯 পরিসমাপ্তি ও বিশ্লেষণ

          হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল এক সুশৃঙ্খল, মানসম্মত এবং অত্যন্ত প্রগতিশীল ব্যবস্থা। এর প্রধান সাফল্যগুলি ছিল:

  • মানসম্মত নির্মাণ: ইট এবং অন্যান্য নির্মাণ উপাদানের সুনির্দিষ্ট ও অভিন্ন মাপের ব্যবহার।

  • পৌর প্রশাসন: এত উন্নত নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দক্ষ পৌরসংস্থা বা কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উপস্থিতি অনিবার্য ছিল।

  • স্বাস্থ্য সচেতনতা: উন্নত পয়ঃপ্রণালী ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা তাদের নাগরিক স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উচ্চ সচেতনতা প্রতিফলিত করে।

          এই নগর পরিকল্পনা কেবল বাসস্থান নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল একটি সুসংগঠিত সমাজ, শক্তিশালী প্রশাসন এবং উন্নত প্রযুক্তির সুস্পষ্ট প্রতিফলন। বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলির ইতিহাসে হরপ্পা সভ্যতার এই নগর পরিকল্পনা একটি অনন্য নজির হয়ে আছে।

Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

[MCQ]Environment।।Man & Environment।।মানুষ ও পরিবেশ।।সেট ১

মানুষ ও পরিবেশ ➤ প্রশ্ন:১ W.T.O. সম্পূর্ণ নাম হলাে— (a) World Transport Organization. (b) World Tobacco Organization. (c) World Trade Organization.

ক্ষয়জাত পর্বত

ক্ষয়জাত পর্বত       ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয় কাজের ফলে সবসময় ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এইভাবে অনেক সময় শক্ত শিলায় গঠিত জায়গা কম ক্ষয় পেয়ে যখন আশপাশের বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া নরম শিলায় গঠিত জায়গা থেকে আলাদা হয়ে উঁচুতে থেকে যায়, তখন তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে। কম ক্ষয় হওয়া অবশিষ্ট অংশ পর্বতে পরিণত হয় বলে একে অবশিষ্ট পর্বত-ও বলা হয়।

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।

ঘূর্ণবাত বৃষ্টি বা ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি

ঘূর্ণবাত বৃষ্টি বা ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি        জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত নিম্নচাপের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে ওপরে উঠে শীতল হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবাত বা ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি বলে। কোনো স্থানে প্রবল নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে চারদিক থেকে ছুটে আসা শুকনো, ঠান্ডা ও ভারী বাতাসের ওপর জলীয়বাষ্পপূর্ণ গরম বাতাস উঠে যাওয়ার জন্যই ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণবাত বৃষ্টি সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ঝিরঝির করে পড়ে। পৃথিবীর দুটি পৃথক অঞ্চলে ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি বৃষ্টি হয়ে থাকে।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।           সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু ও বহুদূর বিস্তৃত শিলাময় স্তূপ যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, ভূমির ঢাল বেশ খাড়া এবং গিরিশৃঙ্গ ও উপত্যকা বর্তমান তাকে পর্বত বলে৷ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি হল—

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য

  স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য Sl. No. স্থলবায়ু সমুদ্রবায়ু 1 স্থলবায়ু মূলত শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়। সমুদ্রবায়ু মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির হয়। 2 স্থলবায়ু প্রধানত রাত্রিবেলায় প্রবাহিত হয়। সমুদ্রবায়ু প্রধানত দিনেরবেলায় প্রবাহিত হয়। 3 সূর্যাস্তের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুর প্রবাহ শুরু হয় ও রাত্রির শেষদিকে বায়ুপ্রবাহের বেগ বৃদ্ধি পায়। সূর্যোদয়ের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুরপ্রবাহ শুরু হয় ও অপরাহ্নে বায়ুপ্রবাহে বেগ বৃদ্ধি পায়। 4 স্থলবায়ু উচ্চচাযুক্ত স্থলভাগ থেকে নিম্নচাপযুক্ত জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে স্থলবায়ুকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। সমুদ্রবায়ু উচ্চচাপযুক্ত সমুদ্র থেকে নিম্নচাপযুক্ত স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে সমুদ্রবায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। 5 স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবার দরুন বেগ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ প্রবাহিত হ...

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য

  আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য Sl. No. আবহবিকার ক্ষয়ীভবন 1 আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন—উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, জলীয় বাষ্প, তুষারপাত ও বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান দ্বার শিলাসমূহের চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া বা বিয়োজনকে আবহবিকার বলে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন—নদী, বায়ু, হিমবাহ, ইত্যাদি দ্বারা আবহবিকারপ্রাপ্ত চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহের অপসারণকে ক্ষয়ীভবন বলে। 2 আবহবিকারের ফলে মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের (গঠন, আকৃতি, খনিজের আণবিক সজ্জা প্রভৃতি) পরিবর্তন ঘটে । ক্ষয়ীভবনের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয়। কিন্তু মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন সাধন হয় না। 3 আবহবিকার কোনোভাবে ক্ষয়ীভবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ক্ষয়ীভবন সম্পূর্ণরূপে আবহবিকারের ওপর নির্ভরশীল। আবহবিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে না। 4 আবহবিকারের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহ শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলাস্তরের ওপরেই অবস্থান করে। ক্ষয়ীভবনের ফলে আবহবিকার প্রাপ্ত শিলাচূর্ণ স্থানান্তরি...

জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান কী ?

          বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–৯৪ খ্রি.) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অগ্রণী ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার। বঙ্কিমচন্দ্রের অধিকাংশ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল স্বদেশ ও দেশপ্রেম। বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টি ভারতীয় জাতীয়তাবোধের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর ‘বন্দেমাতরম্’–মন্ত্র ছিল বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র। অরবিন্দ ঘোষ তাই বঙ্কিমকে ‘জাতীয়তাবোধের ঋত্বিক’ বলেছেন।