Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 12

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাজ্যসভার সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ—   উত্তরঃ ৬ বছর। প্রশ্নঃ রাজ্যপালকে কে শপথ বাক্য পাঠ করান? উত্তরঃ   সংশ্লিষ্ট রাজ্য যে হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত সেই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ (Details of the city planning of the Harappan civilization)

🧱 হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ

           হরপ্পা সভ্যতা (আনুমানিক ২৬০০ - ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), যা সিন্ধু সভ্যতা নামেও পরিচিত, প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম উন্নত এবং সুপরিকল্পিত নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। হরপ্পা, মহেন-জো-দারো, লোথাল, কালিবঙ্গান এবং ধোলাভিরা-এর মতো স্থানগুলিতে খননকার্যের ফলে যে নগর পরিকল্পনা উন্মোচিত হয়েছে, তা এই সভ্যতার প্রকৌশল ও পৌর প্রশাসনের দক্ষতা প্রমাণ করে। এটি সমসাময়িক মিশরীয় বা মেসোপটেমীয় সভ্যতার নগর পরিকল্পনা থেকেও অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক ছিল।

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার নিম্নলিখিত প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লক্ষ্যণীয়:

১. সুনির্দিষ্ট দ্বিখণ্ডিত নগর এলাকা (The Twin Settlement Plan)

অধিকাংশ হরপ্পা নগরীর একটি সুনির্দিষ্ট দ্বিখণ্ডিত কাঠামো ছিল, যা নগর প্রশাসন ও সামাজিক বিভাজনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

  • পশ্চিমে দুর্গ এলাকা (Citadel Area): এটি অপেক্ষাকৃত উঁচু টিলার ওপর তৈরি হত এবং সাধারণত ছোট এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। এই অংশটি পুরু ইটের প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল।

    • ব্যবহার: এখানে শাসকশ্রেণী বা কর্তাব্যক্তিরা বাস করতেন। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সম্ভবত ধর্মীয় কাঠামো, যেমন মহেন-জো-দারোর মহা-স্নানাগার ও শস্যাগার, এই দুর্গ এলাকাতেই আবিষ্কৃত হয়েছে। এই প্রাচীর নির্মাণ প্রমাণ করে যে নিরাপত্তার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হতো।

  • পূর্বে নিম্নাঞ্চল (Lower Town): এটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং নিচু এলাকায় অবস্থিত ছিল।

    • ব্যবহার: এখানে সাধারণ নাগরিক, কারিগর এবং ব্যবসায়ীরা বাস করতেন। বাড়িগুলি গ্রিড-প্যাটার্নে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত ছিল।

    • ব্যতিক্রম: লোথালে পুরো শহরটিই একটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল, যেখানে দুর্গ এবং নিম্নাঞ্চল আলাদাভাবে প্রাচীরবেষ্টিত ছিল না। আবার, ধোলাভিরাতে শহরটি তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল (দুর্গ, মধ্যম শহর এবং নিম্নাঞ্চল)।

২. জ্যামিতিক গ্রিড ব্যবস্থা ও রাজপথ (The Grid System and Roads)

হরপ্পা নগর পরিকল্পনার সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যমূলক দিক হলো এর জ্যামিতিক গ্রিড ব্যবস্থা।

  • রাস্তা বিন্যাস: শহরের প্রধান রাস্তাগুলি (৯ ফুট থেকে ৩৪ ফুট পর্যন্ত চওড়া) উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম বরাবর একে অপরের সাথে সমকোণে ছেদ করত। এর ফলে গোটা শহরটিই ছোট-বড় আয়তাকার খণ্ডে (ব্লকে) বিভক্ত হয়ে যেত।

  • সুবিধা: এই ব্যবস্থা বায়ু চলাচলের সুবিধা দিত এবং শহরকে দ্রুত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করত। এটিকে ‘চেকার বোর্ড’ বা ‘গ্রিড প্যাটার্ন’ পরিকল্পনা বলা হয়।

  • আলোর ব্যবস্থা: রাজপথের দু-পাশে সারিবদ্ধভাবে প্রদীপ বা লণ্ঠন রাখার ব্যবস্থা ছিল, যা রাতের বেলায় নাগরিকদের সুবিধা দিত।

  • গলি পথ: মূল রাস্তাগুলি ছাড়াও বাড়িগুলির মাঝে সরু গলি পথ ছিল, যার সঙ্গে বাড়ির দরজা সংযুক্ত থাকত।

৩. উন্নত পয়ঃপ্রণালী ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা (The Advanced Drainage System)

পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা ছিল হরপ্পা সভ্যতার শ্রেষ্ঠ অর্জন, যা নাগরিক স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি তাদের সচেতনতা প্রমাণ করে।

  • বাড়ির নর্দমা: প্রতিটি বাড়ির স্নানঘর ও শৌচাগারের নোংরা জল পোড়া মাটির তৈরি নল বা ছোট নালা দিয়ে নিষ্কাশিত হয়ে পাশের সরু গলির নালাতে পড়ত।

  • প্রধান নর্দমা: গলির নালাগুলি শহরের প্রধান রাস্তার পাশে থাকা বড়, ঢাকা নর্দমার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই নর্দমাগুলি সাধারণত পোড়া ইট এবং চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি ছিল এবং slab বা ইট দিয়ে ঢাকা থাকত।

  • পরিষ্কারের ব্যবস্থা: নর্দমাগুলিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে ম্যানহোল বা পরিদর্শনের ছিদ্র (Inspection Hole) রাখা হতো, যাতে প্রয়োজনে নর্দমা পরিষ্কার করা যায়।

  • নিষ্কাশন: শহরের সমস্ত নোংরা জল একটি প্রধান নর্দমার মাধ্যমে শহরের বাইরে জনবসতিহীন এলাকায় নিষ্কাশিত হতো।

  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ড. এ. এল. ব্যাসামের মতো ঐতিহাসিকেরা মন্তব্য করেছেন যে, রোমান সভ্যতার উত্থানের আগে বিশ্বের অন্য কোনো প্রাচীন সভ্যতায় এত উন্নত ও সুসংগঠিত পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়নি।

৪. নির্মাণ সামগ্রী ও স্থাপত্যশৈলী (Building Materials and Architecture)

  • ইট ব্যবহার: হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল পোড়া ইটের (Baked Bricks) ব্যাপক ব্যবহার। ইটগুলি ছিল সুনির্দিষ্ট ও মানসম্মত মাপের (সাধারণত ৪:২:১ অনুপাতে), যা উচ্চমানের প্রকৌশল জ্ঞান প্রমাণ করে। কালিবঙ্গানে অবশ্য রোদ-শুকানো ইটের ব্যবহার দেখা যায়।

  • আবাসিক কাঠামো:

    • বৈচিত্র্য: ধনী-দরিদ্রের জন্য একতলা থেকে দোতলা-তিনতলা পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের বাড়ি পাওয়া গেছে।

    • পরিকল্পনা: প্রতিটি বাড়িতে সাধারণত একটি খোলা উঠোন (Courtyard), শোয়ার ঘর, রান্নাঘর, স্নানঘর এবং ব্যক্তিগত কুয়ো (Wells) থাকত।

    • গোপনীয়তা: বেশিরভাগ বাড়ির দরজা-জানালা সদর রাস্তার দিকে না রেখে পাশের সরু গলির দিকে রাখা হতো, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রতি গুরুত্ব দিত।

  • শ্রমিকদের আবাস: শহরের নিম্নাঞ্চলের একেবারে শেষ প্রান্তে বা গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণস্থলের কাছে খুপরি জাতীয় ছোট কামরাগুলির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যেখানে শ্রমিক বা দরিদ্র মানুষেরা বাস করত।

৫. গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বা গণ-কাঠামো (Public Structures)

হরপ্পা সভ্যতায় সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর ইঙ্গিত দিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গণ-স্থাপত্যের সন্ধান মিলেছে:

  • মহা-স্নানাগার (The Great Bath): মহেন-জো-দারোর দুর্গ এলাকায় আবিষ্কৃত এই সুবিশাল কাঠামোটি (প্রায় ১২ মি x ৭ মি x ২.৪ মি) সম্ভবত ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক স্নানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। এটি নিখুঁত জলরোধী (water-tight) কাঠামো ছিল। মার্টিমার হুইলার এর ধর্মীয় ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।

  • শস্যাগার (Granaries): হরপ্পা ও মহেন-জো-দারোতে আবিষ্কৃত বিশাল শস্যাগার বা শস্য মজুত করার স্থানগুলি ছিল শহরের আবশ্যকীয় খাদ্যের মজুত ভান্ডার। হরপ্পার শস্যাগারগুলির পাশে শ্রমিকদের ছোট আবাস থাকার প্রমাণ মিলেছে। এই শস্যাগারগুলি সম্ভবত কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো।

  • সভাকক্ষ/কলেজ (Assembly Hall/College): মহেন-জো-দারোতে স্তম্ভযুক্ত একটি বিশাল হল-এর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত প্রশাসনিক আলোচনা বা ধর্মীয় জমায়েতের জন্য ব্যবহৃত হতো।

৬. বন্দরের প্রমাণ (Evidence of Ports - লোথাল)

          গুজরাটের লোথালে একটি সুপরিকল্পিত কৃত্রিম ডকইয়ার্ড (Dockyard) বা পোতাশ্রয়ের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, যা এই সভ্যতার সমুদ্র-বাণিজ্যের গুরুত্ব প্রমাণ করে। এর গঠনশৈলী দেখায় যে এটি জোয়ারের জল ধরে রাখার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

🎯 পরিসমাপ্তি ও বিশ্লেষণ

          হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল এক সুশৃঙ্খল, মানসম্মত এবং অত্যন্ত প্রগতিশীল ব্যবস্থা। এর প্রধান সাফল্যগুলি ছিল:

  • মানসম্মত নির্মাণ: ইট এবং অন্যান্য নির্মাণ উপাদানের সুনির্দিষ্ট ও অভিন্ন মাপের ব্যবহার।

  • পৌর প্রশাসন: এত উন্নত নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দক্ষ পৌরসংস্থা বা কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উপস্থিতি অনিবার্য ছিল।

  • স্বাস্থ্য সচেতনতা: উন্নত পয়ঃপ্রণালী ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা তাদের নাগরিক স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উচ্চ সচেতনতা প্রতিফলিত করে।

          এই নগর পরিকল্পনা কেবল বাসস্থান নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল একটি সুসংগঠিত সমাজ, শক্তিশালী প্রশাসন এবং উন্নত প্রযুক্তির সুস্পষ্ট প্রতিফলন। বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলির ইতিহাসে হরপ্পা সভ্যতার এই নগর পরিকল্পনা একটি অনন্য নজির হয়ে আছে।

Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জীববিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর-উদ্ভিদ ও প্রাণীর গঠনগত অঙ্গসংস্থান, সেট-১০

উদ্ভিদ ও প্রাণীর গঠনগত অঙ্গসংস্থান প্রশ্ন:১ বালব্ বা কন্দ কাকে বলে ? উত্তর:  যে সব মৃদগত কাণ্ড সর্বাপেক্ষা ছােটো চাকতির মতাে এবং সঞ্চিত খাদ্যবিহীন, কাণ্ডে পর্ব ও সংকুচিত পর্বমধ্য থাকে এবং রসালাে শল্কপত্রযুক্ত হয়, কাণ্ডের নীচে অসংখ্য গুচ্ছমূল থাকে এবং অনুকূল ঋতুতে ভৌমপুষ্পদণ্ড সৃষ্টি হয়, তাদের বালব্ বা কন্দ বলে। পেয়াজ, রসুন ইত্যাদির কাণ্ড এই রকমের। প্রশ্ন:২ পর্ণকাণ্ড বা ফাইলােক্ল্যাড কাকে বলে ? উত্তর:  যেসব কাণ্ড খর্ব, স্থূল, রসালাে এবং পাতার মতাে চ্যাপটা ও সবুজ, তাদের পর্ণকাণ্ড বলে। ফণীমনসা উদ্ভিদে পর্ণকাণ্ড দেখা যায়।

ভারতীয় সভ্যতার বিবর্তন(The Evolution of Indian Civilization)

ভারতীয় সভ্যতার বিবর্তন: প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত এক মহাকাব্যিক যাত্রা           ভারতীয় সভ্যতা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং নিরন্তর প্রবাহমান সভ্যতা। এর বিবর্তন একটি বিশাল মহাকাব্যিক যাত্রা, যা প্রায় দশ হাজার বছর ধরে বহু যুগ, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাম্রাজ্য এবং মতাদর্শের উত্থান-পতনের সাক্ষী। এই বিবর্তন শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রা, প্রযুক্তি, শিল্পকলা, দর্শন এবং আধ্যাত্মিক চেতনার নিরবচ্ছিন্ন রূপান্তরকেও নির্দেশ করে।

সমভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

সমভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অল্প উঁচু এবং সামান্য ঢালযুক্ত বিস্তৃত সমতল ক্ষেত্রকে সমভূমি বলে। তবে পৃথিবীর অধিকাংশ সমভূমিই সমুদ্র সমতল থেকে ৩০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থান করে। সমভূমির বৈশিষ্ট্য—

গ্রস্ত উপত্যকা

গ্রস্ত উপত্যকা : ১. গ্রস্ত উপত্যকার সংজ্ঞা :                দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গেলে যে অবনমিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।              এছাড়া, মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণ বলের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের কঠিন শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুনরায় ভূ-আন্দোলন ঘটলে বা ভূ-আলোড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাটল রেখা বরাবর শিলার একটি অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ খাড়াভাবে নীচে বসে যায়। অবনমিত, ওই অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। 

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

গ্রিনহাউস গ্যাস ও গ্রিনহাউস প্রভাব

গ্রিনহাউস গ্যাস ও গ্রিনহাউস প্রভাব          গ্রিনহাউস প্রভাব হল দূষিত পরিবেশের অন্যতম ফল। বায়ুমণ্ডলে মূলত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনাকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। কাচঘরের কাচ যেমন ঘরের ভিতরের তাপকে বিকিরিত হয়ে বাইরে নির্গত হতে বাধা দেয়, বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাসগুলিও পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপকে শোষণ করে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। এই ঘটনাটিকেই গ্রিনহাউস এফেক্ট বা সবুজ ঘর প্রভাব বলে।

লোয়েস সমভূমি

লোয়েস সমভূমি                   বায়ুর পরিবহনও অবক্ষেপণের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল লোয়েস সমভূমি। ‘লোয়েস’ কথাটির অর্থ ‘স্থানচ্যুত বস্তু’ বায়ুপ্রবাহিত অতিসূক্ষ্ম বালিকণা, মাটির কণা বা মৃত্তিকা ‘লোয়েস’ নামে পরিচিত। ০.০৫ মিলিমিটার ব্যাসের সূক্ষ্ম বালিকণা, মাটির কণা প্রভৃতি বায়ুর সঙ্গে বহুদূর উড়ে যেতে পারে। অতিসূক্ষ্ম বালিকণা, মাটির কণা বা মৃত্তিকা বায়ুর দ্বারা পরিবাহিত হয়ে কোনো নীচু স্থানে জমা হয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকে লোয়েস সমভূমি বলে। কখনও কখনও মরুভূমির বালি বায়ু দ্বারা অপসারিত হয়ে পার্শ্ববর্তী কোনো উর্বর কৃষিভূমিকে ক্রমশ ঢেকে ফেলে জমিটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে দেয় এবং ধীরে ধীরে কৃষিভূমিটিকে মরুভূমি গ্রাস করে ফেলে।

চিনুক

চিনুক           চিনুক একপ্রকার স্থানীয় বায়ু। বসন্তকালে উত্তর আমেরিকার রকি পার্বত্য অঞ্চল থেকে প্রেইরি অঞ্চলের দিকে এক রকমের উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে, একে চিনুক বলে। উত্তর আমেরিকায় রকি পর্বতের পূর্বঢালে প্রবাহিত উষ্ণ শুষ্ক পার্বত্য বায়ুপ্রবাহ বা ক্যাটাবেটিক বায়ুপ্রবাহ চিনুক নামে পরিচিত।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...