Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

দশম শ্রেণী - ভৌতবিজ্ঞান - পরিবেশের জন্য ভাবনা - নোটস (Concern About Our Environment)

পরিবেশের জন্য ভাবনা (Concern About Our Environment) ১. বায়ুমণ্ডলের গঠন (Structure of the Atmosphere) উচ্চতা ও উষ্ণতার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ (Details of the city planning of the Harappan civilization)

🧱 হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ

           হরপ্পা সভ্যতা (আনুমানিক ২৬০০ - ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), যা সিন্ধু সভ্যতা নামেও পরিচিত, প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম উন্নত এবং সুপরিকল্পিত নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। হরপ্পা, মহেন-জো-দারো, লোথাল, কালিবঙ্গান এবং ধোলাভিরা-এর মতো স্থানগুলিতে খননকার্যের ফলে যে নগর পরিকল্পনা উন্মোচিত হয়েছে, তা এই সভ্যতার প্রকৌশল ও পৌর প্রশাসনের দক্ষতা প্রমাণ করে। এটি সমসাময়িক মিশরীয় বা মেসোপটেমীয় সভ্যতার নগর পরিকল্পনা থেকেও অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক ছিল।

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার নিম্নলিখিত প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লক্ষ্যণীয়:

১. সুনির্দিষ্ট দ্বিখণ্ডিত নগর এলাকা (The Twin Settlement Plan)

অধিকাংশ হরপ্পা নগরীর একটি সুনির্দিষ্ট দ্বিখণ্ডিত কাঠামো ছিল, যা নগর প্রশাসন ও সামাজিক বিভাজনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

  • পশ্চিমে দুর্গ এলাকা (Citadel Area): এটি অপেক্ষাকৃত উঁচু টিলার ওপর তৈরি হত এবং সাধারণত ছোট এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। এই অংশটি পুরু ইটের প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল।

    • ব্যবহার: এখানে শাসকশ্রেণী বা কর্তাব্যক্তিরা বাস করতেন। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সম্ভবত ধর্মীয় কাঠামো, যেমন মহেন-জো-দারোর মহা-স্নানাগার ও শস্যাগার, এই দুর্গ এলাকাতেই আবিষ্কৃত হয়েছে। এই প্রাচীর নির্মাণ প্রমাণ করে যে নিরাপত্তার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হতো।

  • পূর্বে নিম্নাঞ্চল (Lower Town): এটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং নিচু এলাকায় অবস্থিত ছিল।

    • ব্যবহার: এখানে সাধারণ নাগরিক, কারিগর এবং ব্যবসায়ীরা বাস করতেন। বাড়িগুলি গ্রিড-প্যাটার্নে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত ছিল।

    • ব্যতিক্রম: লোথালে পুরো শহরটিই একটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল, যেখানে দুর্গ এবং নিম্নাঞ্চল আলাদাভাবে প্রাচীরবেষ্টিত ছিল না। আবার, ধোলাভিরাতে শহরটি তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল (দুর্গ, মধ্যম শহর এবং নিম্নাঞ্চল)।

২. জ্যামিতিক গ্রিড ব্যবস্থা ও রাজপথ (The Grid System and Roads)

হরপ্পা নগর পরিকল্পনার সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যমূলক দিক হলো এর জ্যামিতিক গ্রিড ব্যবস্থা।

  • রাস্তা বিন্যাস: শহরের প্রধান রাস্তাগুলি (৯ ফুট থেকে ৩৪ ফুট পর্যন্ত চওড়া) উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম বরাবর একে অপরের সাথে সমকোণে ছেদ করত। এর ফলে গোটা শহরটিই ছোট-বড় আয়তাকার খণ্ডে (ব্লকে) বিভক্ত হয়ে যেত।

  • সুবিধা: এই ব্যবস্থা বায়ু চলাচলের সুবিধা দিত এবং শহরকে দ্রুত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করত। এটিকে ‘চেকার বোর্ড’ বা ‘গ্রিড প্যাটার্ন’ পরিকল্পনা বলা হয়।

  • আলোর ব্যবস্থা: রাজপথের দু-পাশে সারিবদ্ধভাবে প্রদীপ বা লণ্ঠন রাখার ব্যবস্থা ছিল, যা রাতের বেলায় নাগরিকদের সুবিধা দিত।

  • গলি পথ: মূল রাস্তাগুলি ছাড়াও বাড়িগুলির মাঝে সরু গলি পথ ছিল, যার সঙ্গে বাড়ির দরজা সংযুক্ত থাকত।

৩. উন্নত পয়ঃপ্রণালী ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা (The Advanced Drainage System)

পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা ছিল হরপ্পা সভ্যতার শ্রেষ্ঠ অর্জন, যা নাগরিক স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি তাদের সচেতনতা প্রমাণ করে।

  • বাড়ির নর্দমা: প্রতিটি বাড়ির স্নানঘর ও শৌচাগারের নোংরা জল পোড়া মাটির তৈরি নল বা ছোট নালা দিয়ে নিষ্কাশিত হয়ে পাশের সরু গলির নালাতে পড়ত।

  • প্রধান নর্দমা: গলির নালাগুলি শহরের প্রধান রাস্তার পাশে থাকা বড়, ঢাকা নর্দমার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই নর্দমাগুলি সাধারণত পোড়া ইট এবং চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি ছিল এবং slab বা ইট দিয়ে ঢাকা থাকত।

  • পরিষ্কারের ব্যবস্থা: নর্দমাগুলিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে ম্যানহোল বা পরিদর্শনের ছিদ্র (Inspection Hole) রাখা হতো, যাতে প্রয়োজনে নর্দমা পরিষ্কার করা যায়।

  • নিষ্কাশন: শহরের সমস্ত নোংরা জল একটি প্রধান নর্দমার মাধ্যমে শহরের বাইরে জনবসতিহীন এলাকায় নিষ্কাশিত হতো।

  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ড. এ. এল. ব্যাসামের মতো ঐতিহাসিকেরা মন্তব্য করেছেন যে, রোমান সভ্যতার উত্থানের আগে বিশ্বের অন্য কোনো প্রাচীন সভ্যতায় এত উন্নত ও সুসংগঠিত পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়নি।

৪. নির্মাণ সামগ্রী ও স্থাপত্যশৈলী (Building Materials and Architecture)

  • ইট ব্যবহার: হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল পোড়া ইটের (Baked Bricks) ব্যাপক ব্যবহার। ইটগুলি ছিল সুনির্দিষ্ট ও মানসম্মত মাপের (সাধারণত ৪:২:১ অনুপাতে), যা উচ্চমানের প্রকৌশল জ্ঞান প্রমাণ করে। কালিবঙ্গানে অবশ্য রোদ-শুকানো ইটের ব্যবহার দেখা যায়।

  • আবাসিক কাঠামো:

    • বৈচিত্র্য: ধনী-দরিদ্রের জন্য একতলা থেকে দোতলা-তিনতলা পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের বাড়ি পাওয়া গেছে।

    • পরিকল্পনা: প্রতিটি বাড়িতে সাধারণত একটি খোলা উঠোন (Courtyard), শোয়ার ঘর, রান্নাঘর, স্নানঘর এবং ব্যক্তিগত কুয়ো (Wells) থাকত।

    • গোপনীয়তা: বেশিরভাগ বাড়ির দরজা-জানালা সদর রাস্তার দিকে না রেখে পাশের সরু গলির দিকে রাখা হতো, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রতি গুরুত্ব দিত।

  • শ্রমিকদের আবাস: শহরের নিম্নাঞ্চলের একেবারে শেষ প্রান্তে বা গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণস্থলের কাছে খুপরি জাতীয় ছোট কামরাগুলির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যেখানে শ্রমিক বা দরিদ্র মানুষেরা বাস করত।

৫. গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বা গণ-কাঠামো (Public Structures)

হরপ্পা সভ্যতায় সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর ইঙ্গিত দিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গণ-স্থাপত্যের সন্ধান মিলেছে:

  • মহা-স্নানাগার (The Great Bath): মহেন-জো-দারোর দুর্গ এলাকায় আবিষ্কৃত এই সুবিশাল কাঠামোটি (প্রায় ১২ মি x ৭ মি x ২.৪ মি) সম্ভবত ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক স্নানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। এটি নিখুঁত জলরোধী (water-tight) কাঠামো ছিল। মার্টিমার হুইলার এর ধর্মীয় ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।

  • শস্যাগার (Granaries): হরপ্পা ও মহেন-জো-দারোতে আবিষ্কৃত বিশাল শস্যাগার বা শস্য মজুত করার স্থানগুলি ছিল শহরের আবশ্যকীয় খাদ্যের মজুত ভান্ডার। হরপ্পার শস্যাগারগুলির পাশে শ্রমিকদের ছোট আবাস থাকার প্রমাণ মিলেছে। এই শস্যাগারগুলি সম্ভবত কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো।

  • সভাকক্ষ/কলেজ (Assembly Hall/College): মহেন-জো-দারোতে স্তম্ভযুক্ত একটি বিশাল হল-এর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত প্রশাসনিক আলোচনা বা ধর্মীয় জমায়েতের জন্য ব্যবহৃত হতো।

৬. বন্দরের প্রমাণ (Evidence of Ports - লোথাল)

          গুজরাটের লোথালে একটি সুপরিকল্পিত কৃত্রিম ডকইয়ার্ড (Dockyard) বা পোতাশ্রয়ের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, যা এই সভ্যতার সমুদ্র-বাণিজ্যের গুরুত্ব প্রমাণ করে। এর গঠনশৈলী দেখায় যে এটি জোয়ারের জল ধরে রাখার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

🎯 পরিসমাপ্তি ও বিশ্লেষণ

          হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল এক সুশৃঙ্খল, মানসম্মত এবং অত্যন্ত প্রগতিশীল ব্যবস্থা। এর প্রধান সাফল্যগুলি ছিল:

  • মানসম্মত নির্মাণ: ইট এবং অন্যান্য নির্মাণ উপাদানের সুনির্দিষ্ট ও অভিন্ন মাপের ব্যবহার।

  • পৌর প্রশাসন: এত উন্নত নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দক্ষ পৌরসংস্থা বা কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উপস্থিতি অনিবার্য ছিল।

  • স্বাস্থ্য সচেতনতা: উন্নত পয়ঃপ্রণালী ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা তাদের নাগরিক স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উচ্চ সচেতনতা প্রতিফলিত করে।

          এই নগর পরিকল্পনা কেবল বাসস্থান নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল একটি সুসংগঠিত সমাজ, শক্তিশালী প্রশাসন এবং উন্নত প্রযুক্তির সুস্পষ্ট প্রতিফলন। বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলির ইতিহাসে হরপ্পা সভ্যতার এই নগর পরিকল্পনা একটি অনন্য নজির হয়ে আছে।

Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য

  নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য Sl. No. নদী উপত্যকা হিমবাহ উপত্যকা 1 মেরু প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কেবলমাত্র বরফে ঢাকা উঁচু পার্বত্য অঞ্চল এবং হিমশীতল মেরু অঞ্চলেই হিমবাহ উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 2 পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা প্রধানত ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়। হিমবাহ উপত্যকা ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়। 3 পার্বত্য ও উচ্চ সমভূমি অঞ্চলে নদী স্রোতের গতিবেগ প্রবল হয়, নিম্নভূমিতে নদী স্রোতের গতি ধীরে ধীরে কমে আসে। বেশিরভাগ সময়েই হিমবাহ অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়। 4 নদী উপত্যকা আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয়। হিমবাহ উপত্যকা সোজা পথে অগ্রসর হয়। 5 সাধারণত নদী উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য বেশি হয়। হিমবাহ উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য কম হয়। 6 নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে নদী উপত্যকায় প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। ...

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু                     পর্বত্য অঞ্চল থেকে সমভূমিতে প্রবেশ করলে নদীর গতিপথের ঢাল হ্রাস পায়। ফলে নদীর ক্ষমতাও কমে যায়। উচ্চপ্রবাহের ক্ষয়িত পদার্থসমূহ (শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি) সমভূমিতে প্রবেশের মুখে পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে শঙ্কু আকৃতির ভূমিরূপ গঠন করে। একে পলিশঙ্কু বলে। দেখতে হাত পাখার মতো হয় বলে একে পলল পাখা বা পলল ব্যজনীও বলে। 

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি 🗇 "নারীর প্রেম পুরুষের কাছে শুধু আশ্রয়, কিন্তু পুরুষের প্রেম নারীর কাছে জীবন।" 🗇 "সংসারে কেউ কাউকে ভালোবাসে না, শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে।" 🗇 "যে জন ভালোবাসে, সে জন জানে ভালোবাসার মূল্য।" 🗇 "পুরুষের মনস্তত্ত্বই এই, তারা যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকেই বেশি কষ্ট দেয়।" 🗇 "স্নেহ ভালোবাসার কাঙাল, তাই দুর্বলকে সে বেশি টানে।"

গিরিখাত এবং ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য

  গিরিখাত এবং ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য Sl. No. গিরিখাত ক্যানিয়ন 1 গিরিখাত আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বলে বহু উপনদী গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। ফলে নদীখাত সামান্য প্রশস্ত হয়। ক্যানিয়ন শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বলে ক্যানিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর সঙ্গে কোনো উপনদী মিলিত হয় না। ফলে নদীখাত একদম সংকীর্ণ হয়। 2 আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীতে গিরিখাতের সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মরু ও মরুপ্রায় উচ্চভূমিতে প্রবাহিত নদীতে ক্যানিয়নের সৃষ্টি হয়। 3 গিরিখাত গঠনের সময় অধিক নিম্নক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পার্শ্বক্ষয়ও হয়ে থাকে। ক্যানিয়ন গঠনের সময় পার্শ্বক্ষয় একদম হয় না শুধু নদীর নিম্নক্ষয়ই হয়ে থাকে। 4 গিরিখাতের আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো। ক্যানিয়নের আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘I’ অক্ষরের মতো। 5 যেহেতু আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে গিরিখাত সৃষ্টি হয়, সেহেতু বৃষ্টিপাতের জন্য নদীর দুই পাড়ের ক্ষয় সামা...

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল ?

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল      ভারতীয় জাতীয় রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মূলত ভারতবাসীর আশা–আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও ব্রিটিশবিরোধী ক্ষোভের হাত থেকে ব্রিটিশ শাসনকে রক্ষা করার জন্যই।  জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য (১) কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন— উদ্দেশ্য ঘোষণা—বোম্বাইয়ের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজ হল জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে (১৮৮৫ খ্রি., ২৮ ডিসেম্বর) সভাপতির ভাষণে উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে চারটি মূল উদ্দেশ্যের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এগুলি হল—   (i) ভাষাগত ও ধর্মীয় বৈচিত্রে ভরা ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের দেশপ্রেমীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও একাত্মতা গড়ে তোলা, (ii) সম্প্রীতির দ্বারা জাতি, ধর্ম, প্রাদেশিকতার তুচ্ছ সংকীর্ণতা দূর করে জাতীয় সংহতির পথ প্রশস্ত করা, (iii) শিক্ষিতদের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ করে সামাজিক ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের উপায় নির্ণয় করা, (iv) ভারতের রাজনৈতিক অগ্রগতির জন্য ভবিষ্যৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা।

রামমোহন রায়কে কেন ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ মনে করা হয় ?

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের কথা বলেন। এ ছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক বিচার–বিশ্লেষণ তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ অভিধায় ভূষিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের মৃত্যুশতবর্ষে (১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “রামমোহন তাঁর আমলের বিশ্বের সমস্ত মানুষের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণরূপে আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন”।  রামমোহন রায়–ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ    (১) সমাজসংস্কারের প্রথম উদ্যোগের জন্য—  ‘সতীদাহ’ প্রথা রোধের লক্ষ্যে রামমোহন রায় সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত এক আবেদনপত্র বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে পাঠান। বেন্টিঙ্ক রামমোহনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৭ নং রেগুলেশন (Regulation–XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, কন্যাপণ, গঙ্গাসাগ...