Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

দশম শ্রেণী - ভৌতবিজ্ঞান - পরিবেশের জন্য ভাবনা - নোটস (Concern About Our Environment)

পরিবেশের জন্য ভাবনা (Concern About Our Environment) ১. বায়ুমণ্ডলের গঠন (Structure of the Atmosphere) উচ্চতা ও উষ্ণতার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

ঐতিহাসিক তথ্য সরবরাহে সাহিত্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যের অবদান বিস্তারিত আলোচনা করো।

ঐতিহাসিক তথ্য সরবরাহে সাহিত্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যের অবদান বিস্তারিত আলোচনা করো।


          ইতিহাস হলো মানব সভ্যতার অগ্রগতির প্রামাণ্য দলিল। কিন্তু প্রাচীন ভারতে হেরোডোটাস বা থুকিডিডিসের মতো কোনো প্রথাগত ঐতিহাসিক ছিলেন না। এ কারণেই একসময় আল-বিরুনি মন্তব্য করেছিলেন যে, "ভারতীয়দের কোনো ইতিহাস চেতনা নেই।" কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ সত্য নয়। প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষি এবং কবিরা সরাসরি ইতিহাস না লিখলেও, তাঁদের রচিত বিপুল সাহিত্যরাশির মধ্যে ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের মহামূল্যবান উপাদান। এই উপাদানগুলিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করলেই প্রাচীন ভারতের লুপ্ত ইতিহাস পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

ঐতিহাসিক সাহিত্যের শ্রেণিবিন্যাস (Classification of Literary Sources)

ঐতিহাসিকভাবে তথ্য সরবরাহের উৎসের ওপর ভিত্তি করে সাহিত্যিক উপাদানকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

(ক) দেশীয় সাহিত্য (Indigenous Literature): 

ভারতীয় লেখকদের রচিত ধর্মগ্রন্থ, জীবনী ও অন্যান্য সাহিত্য।

(খ) বৈদেশিক বিবরণী (Foreign Accounts): 

গ্রিক, রোমান, চীনা, তিব্বতীয় ও আরব পর্যটকদের বিবরণ।

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যের অবদান

          প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যই হলো প্রধান স্তম্ভ। আলোচনার সুবিধার্থে দেশীয় সাহিত্যকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়: 
(ক) ধর্মীয় সাহিত্য 
(খ) ধর্মনিরপেক্ষ বা লৌকিক সাহিত্য 
(গ) জীবনচরিত বা আধা-ঐতিহাসিক সাহিত্য 
(ঘ) আঞ্চলিক ইতিহাস ও রাজবংশাবলি

নিচে প্রতিটি ভাগের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

(ক) ধর্মীয় সাহিত্য (Religious Literature)

প্রাচীন ভারতের মানুষের জীবন ছিল ধর্মকেন্দ্রিক। তাই ধর্মগ্রন্থগুলির পাতায় পাতায় জড়িয়ে আছে তৎকালীন সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতির চিত্র।

১. বৈদিক সাহিত্য:

ঋগ্বেদ: 
এটি আর্যদের প্রাচীনতম গ্রন্থ। এখান থেকে আমরা 'দশরাাজার যুদ্ধ' (রাজনৈতিক), আর্যদের ভৌগোলিক বিস্তার (সপ্তসিন্ধু অঞ্চল), সভা ও সমিতির মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কথা জানতে পারি।

পরবর্তী বৈদিক সাহিত্য: 
সাম, যজু, অথর্ববেদ, ব্রাহ্মণ ও উপনিষদ থেকে আর্যদের গাঙ্গেয় উপত্যকায় বসতি স্থাপন, বর্ণপ্রথা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির বিবর্তন সম্পর্কে জানা যায়। সূত্র সাহিত্য (ধর্মসূত্র, গৃহ্যসূত্র) থেকে তৎকালীন আইন-কানুন ও বিবাহ রীতির পরিচয় পাওয়া যায়।

২. মহাকাব্য (রামায়ণ ও মহাভারত): 

মহাকাব্য দুটিতে বর্ণিত ঘটনাগুলির ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, এগুলি থেকে আর্যদের দাক্ষিণাত্য অভিযান (রামায়ণ) এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের (মহাভারত) মাধ্যমে এক বিশাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এছাড়া তৎকালীন রাজতন্ত্র, সমাজ ব্যবস্থা ও নৈতিক আদর্শের পরিচয় এতে মেলে।

৩. পুরাণ: 

১৮টি মহাপুরাণের মধ্যে মৎস্য, বায়ু, বিষ্ণু, ব্রহ্মাণ্ড ও ভাগবত পুরাণ ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজবংশাবলি: 
পুরাণগুলিতে মৌর্য, শুঙ্গ, কান্ব, সাতবাহন এবং গুপ্ত রাজবংশের রাজাদের নাম ও বংশতালিকা দেওয়া আছে। ড. আর. সি. মজুমদার বলেন, "সাতবাহন বংশের ইতিহাস রচনার জন্য আমরা পুরাণের কাছে ঋণী।"

ভৌগোলিক তথ্য: 
প্রাচীন ভারতের নদনদী, পাহাড় ও জনপদের বিবরণ পুরাণে পাওয়া যায়।

৪. বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্য:

ত্রিপিটক ও জাতক: 
পালি ভাষায় রচিত বৌদ্ধ ত্রিপিটক এবং জাতকের গল্পগুলি থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার নিখুঁত ছবি পাওয়া যায়। বিশেষ করে 'অঙ্গুত্তর নিকায়' গ্রন্থ থেকে ষোড়শ মহাজনপদের (Sixteen Mahajanapadas) তালিকা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বে ইতিহাস জানা যায়।

জৈন গ্রন্থ: 
'ভগবতী সূত্র', 'পরিশিষ্টপার্বণ' এবং 'কল্পসূত্র' থেকে মহাবীরের জীবন এবং মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সম্পর্কে বহু তথ্য জানা যায়।

(খ) ধর্মনিরপেক্ষ বা লৌকিক সাহিত্য (Secular Literature)

শুধুমাত্র ধর্ম নয়, প্রাচীন ভারতে রাজনীতি, বিজ্ঞান, ব্যাকরণ ও নাটক রচনার এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ছিল, যা ইতিহাসের উপাদান হিসেবে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

১. অর্থশাস্ত্র (কৌটিল্য): 

মৌর্য যুগের ইতিহাস জানার জন্য চাণক্য বা কৌটিল্য রচিত 'অর্থশাস্ত্র' হলো সর্বশ্রেষ্ঠ উপাদান। এতে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের শাসনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, গুপ্তচর প্রথা, রাজস্ব নীতি এবং 'সপ্তাঙ্গ মতবাদ' বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে। এটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি মাস্টারপিস।

২. ব্যাকরণ গ্রন্থ:

অষ্টাধ্যায়ী: 
পাণিনির এই ব্যাকরণ গ্রন্থ থেকে মৌর্য-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক সংঘ বা 'গণরাজ্য'গুলির কথা জানা যায়।

মহাভাষ্য: 
পতঞ্জলি রচিত এই গ্রন্থে শুঙ্গ রাজাদের ইতিহাস এবং গ্রিক (যবন) আক্রমণের উল্লেখ পাওয়া যায়।

৩. নাটক ও কাব্য:

মুদ্রারাক্ষস: 
বিশাখদত্তের এই নাটকে নন্দ বংশের উচ্ছেদ এবং চাণক্য ও চন্দ্রগুপ্তের কৌশলের নাটকীয় বর্ণনা আছে।

কালিদাসের রচনাবলি: 
'রঘুবংশম', 'মালবিকাগ্নিমিত্রম' এবং 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' থেকে গুপ্ত যুগের স্বর্ণালি সংস্কৃতির পরিচয় এবং শুঙ্গ রাজা অগ্নিমিত্রের কথা জানা যায়।

মৃচ্ছকটিকম্: 
শূদ্রকের লেখা এই নাটকে তৎকালীন বিচার ব্যবস্থা ও সামাজিক দুর্নীতির বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

(গ) জীবনচরিত বা আধা-ঐতিহাসিক সাহিত্য (Biographical Literature)

প্রাচীন ভারতের সভাকবিরা তাঁদের আশ্রয়দাতা রাজাদের প্রশস্তি বা গুণকীর্তন করে যেসব কাব্য রচনা করেছেন, সেগুলিকে জীবনচরিত বলা হয়। যদিও এতে অতিরঞ্জন থাকে, তবুও এগুলি ইতিহাসের অমূল্য রত্ন।

১. হর্ষচরিত: 

বাণভট্ট রচিত এই গ্রন্থে সম্রাট হর্ষবর্ধনের বাল্যকাল, সিংহাসন আরোহণ, রাজ্যজয় এবং তৎকালীন থানেশ্বর ও কনৌজের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বর্ণনা রয়েছে।

২. রামচরিত: 

সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত এই কাব্যে দ্ব্যর্থবোধক শ্লোকের মাধ্যমে একদিকে রামায়ণের রামচন্দ্র এবং অন্যদিকে পাল রাজা রামপালের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এখান থেকেই আমরা বাংলায় 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' এবং ভীম-এর বীরত্বের কথা জানতে পারি।

৩. বিক্রমাঙ্কদেবচরিত: 

কাশ্মীরি কবি বিলহন এই কাব্যে চালুক্য রাজা ষষ্ঠ বিক্রমাদিত্যের রাজ্যজয়ের কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

৪. অন্যান্য: 

বাকপতিরাজের 'গৌড়বহ' (কনৌজ রাজ যশোবর্মণের কাহিনী), পদ্মগুপ্তের 'নবসাহশাঙ্কচরিত', এবং জয়সিংহের 'কুমারপালচরিত' উল্লেখযোগ্য।

(ঘ) আঞ্চলিক ইতিহাস ও রাজবংশাবলি

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ইতিহাস জানার জন্য কিছু বিশেষ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল।

১. রাজতরঙ্গিনী (কাশ্মীরের ইতিহাস): 

১১৫০ খ্রিস্টাব্দে কল্হন রচিত 'রাজতরঙ্গিনী' হলো প্রাচীন ভারতের একমাত্র গ্রন্থ যাকে আধুনিক অর্থে প্রকৃত ইতিহাস গ্রন্থ বলা যায়। এতে কাশ্মীরের রাজাদের ধারাবাহিক ইতিহাস, নিরপেক্ষ বিচার এবং কার্যকারণ সম্পর্ক নিরূপণের চেষ্টা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক কোসাম্বী একে ইতিহাসের অমূল্য দলিল বলেছেন।

২. সঙ্গম সাহিত্য (দক্ষিণ ভারত): 

তামিল ভাষায় রচিত বিপুল 'সঙ্গম সাহিত্য' (যেমন- শিলাপ্পাদিকরম, মণিমেখলাই) থেকে দক্ষিণ ভারতের চোল, চে, ও পাণ্ড্য রাজাদের ইতিহাস এবং তৎকালীন রোম-ভারত বাণিজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাস জানা যায়।

৩. গুজরাটের ইতিহাস: 

'রাসমালা' ও 'প্রবন্ধচিন্তামণি' নামক গ্রন্থগুলি থেকে গুজরাটের রাজবংশের ইতিহাস জানা যায়।

৪. দেশীয় সাহিত্যের সীমাবদ্ধতা (Limitations)

এত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও দেশীয় সাহিত্যের কিছু সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি রয়েছে:

কালপঞ্জির অভাব: 
ভারতীয় সাহিত্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটনার সঠিক সাল-তারিখ বা ক্রমানুসার (Chronology) পাওয়া যায় না।

অতিরঞ্জন: 
সভাকবিরা রাজাদের সন্তুষ্ট করার জন্য প্রায়শই তাঁদের গুণাবলী বাড়িয়ে লিখতেন এবং দোষগুলি গোপন করতেন।

ধর্মীয় প্রভাব: 
অধিকাংশ সাহিত্য ধর্মকে কেন্দ্র করে রচিত হওয়ায় তাতে অলৌকিক ও পৌরাণিক কাহিনীর প্রাধান্য বেশি, যা থেকে ইতিহাস পৃথক করা কঠিন।


          পরিশেষে বলা যায়, প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্য এক বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভাণ্ডার। যদিও এতে আধুনিক ইতিহাসের মতো তথ্যনিষ্ঠা সবসময় পাওয়া যায় না এবং ধর্মীয় কুয়াশায় অনেক সত্য ঢাকা পড়ে আছে, তবুও ঐতিহাসিকরা এই সাহিত্যকে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের (লিপি ও মুদ্রা) কষ্টিপাথরে যাচাই করে ভারতের ইতিহাসের কঙ্কালটিকে রক্তমাংস দিয়ে জীবন্ত করে তুলেছেন। তাই প্রাচীন ভারতের ইতিহাস পুনর্গঠনে দেশীয় সাহিত্যের অবদান অনস্বীকার্য এবং অপরিসীম।






READ MORE👇















Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।

জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান কী ?

          বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–৯৪ খ্রি.) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অগ্রণী ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার। বঙ্কিমচন্দ্রের অধিকাংশ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল স্বদেশ ও দেশপ্রেম। বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টি ভারতীয় জাতীয়তাবোধের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর ‘বন্দেমাতরম্’–মন্ত্র ছিল বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র। অরবিন্দ ঘোষ তাই বঙ্কিমকে ‘জাতীয়তাবোধের ঋত্বিক’ বলেছেন।

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু                     পর্বত্য অঞ্চল থেকে সমভূমিতে প্রবেশ করলে নদীর গতিপথের ঢাল হ্রাস পায়। ফলে নদীর ক্ষমতাও কমে যায়। উচ্চপ্রবাহের ক্ষয়িত পদার্থসমূহ (শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি) সমভূমিতে প্রবেশের মুখে পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে শঙ্কু আকৃতির ভূমিরূপ গঠন করে। একে পলিশঙ্কু বলে। দেখতে হাত পাখার মতো হয় বলে একে পলল পাখা বা পলল ব্যজনীও বলে। 

নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য

  নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য Sl. No. নদী উপত্যকা হিমবাহ উপত্যকা 1 মেরু প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কেবলমাত্র বরফে ঢাকা উঁচু পার্বত্য অঞ্চল এবং হিমশীতল মেরু অঞ্চলেই হিমবাহ উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 2 পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা প্রধানত ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়। হিমবাহ উপত্যকা ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়। 3 পার্বত্য ও উচ্চ সমভূমি অঞ্চলে নদী স্রোতের গতিবেগ প্রবল হয়, নিম্নভূমিতে নদী স্রোতের গতি ধীরে ধীরে কমে আসে। বেশিরভাগ সময়েই হিমবাহ অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়। 4 নদী উপত্যকা আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয়। হিমবাহ উপত্যকা সোজা পথে অগ্রসর হয়। 5 সাধারণত নদী উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য বেশি হয়। হিমবাহ উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য কম হয়। 6 নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে নদী উপত্যকায় প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। ...

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন আইন প্রবর্তনের কারণ ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয়তাবাদী নাটক রচনা করে ব্রিটিশের শোষণ ও অপশাসনের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়। অমৃতলাল বসুর ‘চা–কর দর্পণ’, দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকে অত্যাচারী শ্বেতাঙ্গ সাহেবদের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়। অমৃতলাল বসু ও উপেন্দ্রনাথ দাস ‘হনুমান চরিত’ নামক প্রহসন নাটকে ইংরেজের প্রতি ব্যঙ্গবিদ্রুপ প্রকাশ করেন। গ্রামেগঞ্জে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব সৃষ্টির কাজে নাটকগুলি সাফল্য পায়। সরকার দমনমূলক আইন জারি করে দেশাত্মবোধক নাটকের প্রচার বন্ধ করে দিতে উদ্যত হয়।

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

স্প্রিং তুলা ও সাধারণ তুলার মধ্যে পার্থক্য কী ?

স্প্রিং তুলা ও সাধারণ তুলার মধ্যে পার্থক্য - স্প্রিং তুলা সাধারণ তুলা 1. স্প্রিং তুলা দিয়ে বস্তুর ভার বা ওজন মাপা হয়। 1. সাধারণ তুলায় বস্তুর ভর মাপা হয়। 2. খুব ভারী বস্তুর ওজন মাপা যায় না। 2. ভারী বস্তুর ভর মাপা যায়। 3. স্প্রিং তুলায় একটি বস্তুর ওজনের পাঠ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হয়। 3. সাধারণ তুলায় একটি বস্তুর ভরের ক্ষেত্রে সব স্থানে একই পাঠ পাওয়া যায়। 4. স্প্রিং তুলা যে স্থানে অংশাঙ্কিত হয় শুধু সেই স্থানে সঠিক পাঠ দেয়। 4. সাধারণ তুলা সব স্থানে সঠিক পাঠ দেয়। 5. স্প্রিং তুলার কার্যনীতি পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের জন্য স্প্রিং-এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। 5. সাধারণ তুলা প্রথম শ্রেণির লিভারের নীতি অনুযায়ী কাজ করে।

রামমোহন রায়কে কেন ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ মনে করা হয় ?

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের কথা বলেন। এ ছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক বিচার–বিশ্লেষণ তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ অভিধায় ভূষিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের মৃত্যুশতবর্ষে (১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “রামমোহন তাঁর আমলের বিশ্বের সমস্ত মানুষের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণরূপে আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন”।  রামমোহন রায়–ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ    (১) সমাজসংস্কারের প্রথম উদ্যোগের জন্য—  ‘সতীদাহ’ প্রথা রোধের লক্ষ্যে রামমোহন রায় সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত এক আবেদনপত্র বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে পাঠান। বেন্টিঙ্ক রামমোহনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৭ নং রেগুলেশন (Regulation–XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, কন্যাপণ, গঙ্গাসাগ...