Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন

দশম শ্রেণী-ভৌতবিজ্ঞান-পরিবেশের জন্য ভাবনা-ভৌতবিজ্ঞান ও পরিবেশ-এক নম্বরের প্রশ্ন  বায়ুমণ্ডলের স্তর ও গঠন Q. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?   Α. পৃথিবী পৃষ্ঠকে আবৃত করে কয়েক হাজার কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলে. Q.  বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ৭৮.০৯%. Q.  বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?   Α.  ২০.৯৫%. Q.  বায়ুমণ্ডলে আর্গন গ্যাসের শতকরা ভাগ কত?   Α.  ০.৯৩%. Q.  বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত?   Α.  ০.০৩%. Q.  বায়ুর প্রকৃতি অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে কটি স্তরে ভাগ করা যায়?   Α.  ছয়টি. Q.  ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত?   Α.  প্রায় ১৬-১৮ কিমি. Q.  উচ্চতা বাড়লে ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর চাপের কী পরিবর্তন হয়?   Α.  বায়ুর চাপ কমে যায়. Q.  ট্রপোপজ কাকে বলে?   Α.  ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের দিকের স্থির উষ্ণতার অঞ্চলকে (১০-১৬ কিমি) ট্রপোপজ বলে. Q.  স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উচ্চতা কত?   Α.  ২০ থেকে ৪৫ কিমি পর্যন...

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারত-ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য

বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারত-ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য


এক মহাদেশের সারাংশ (Epitome of the World)

                       ভারতবর্ষ শুধুমাত্র একটি দেশ নয়, এটি একটি উপ-মহাদেশের সমতুল্য। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতা এবং সাংস্কৃতিক বিপুলতা সত্ত্বেও এই ভূখণ্ডের হাজার বছরের ইতিহাসে যে "অন্তর্নিহিত মৌলিক ঐক্য" (Fundamental Unity) বারবার প্রকাশিত হয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে যথার্থই "India offers unity in diversity" বা "বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য" বলে আখ্যা দিয়েছেন। যুগে যুগে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও ভাষাভাষী মানুষের মিলনকেন্দ্র হওয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতবর্ষকে "মহামানবের সাগরতীর" নামে অভিহিত করেছেন।

ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যের স্বরূপ (The Nature of Diversity)

                 ভারতের বৈচিত্র্যকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

ক) প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক বৈচিত্র্য:

ভূ-প্রকৃতি: 

                  উত্তরে হিমালয়ের সুউচ্চ পর্বতমালা, দক্ষিণে সুবিশাল উপকূল রেখা, পশ্চিমে রাজস্থানের বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তর এবং পূর্বে মেঘালয়ের মৌসিনরামের মতো বৃষ্টিবহুল অঞ্চল একই ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।

জলবায়ু: 

                 এই বৈচিত্র্যের কারণে কাশ্মীরের বরফ থেকে শুরু করে দাক্ষিণাত্যের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া পর্যন্ত সবরকম জলবায়ুই ভারতে বর্তমান।

নদনদী: 

             সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, কাবেরী, গোদাবরী—প্রত্যেকটি নদী উপত্যকা তার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছে।

খ) মানবীয় বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য:

নৃতাত্ত্বিক: 

                প্রাচীনকালে নেগ্রিটো, প্রোটো-অস্ট্রালয়েড থেকে শুরু করে আর্য, গ্রিক, শক, হুণ, কুশান, এবং আধুনিক যুগে মোগল, আফগান, পর্তুগিজ, ইংরেজ—বহু জাতিগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ঘটেছে। এই কারণেই ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' (Ethnological Museum) বলেছেন।

ভাষাগত: 

                 সরকারিভাবে ১৮টিরও বেশি ভাষা স্বীকৃত এবং উপভাষা সহ মোট ভাষার সংখ্যা প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা (হিন্দি, বাংলা) ও দ্রাবিড় ভাষা (তামিল, তেলুগু) প্রধান দুটি ভিন্ন ভাষা পরিবার ভারতে সহাবস্থান করে।

পোশাক ও জীবনধারা: 

                   কাশ্মীরের পশমের পোশাক থেকে কেরালার লুঙ্গি বা ধুতি এবং পঞ্জাবের সর্ষে খেত থেকে বাংলার মাছ-ভাত—খাদ্যাভ্যাস, পোশাক ও জীবনধারায় বিপুল ভিন্নতা রয়েছে।

ঐক্যের ক্ষেত্র বা সমন্বয়ের বাঁধন (The Factors of Unity and Synthesis)

              এত ব্যাপক ভিন্নতা সত্ত্বেও নিম্নোক্ত উপাদানগুলি ভারতবর্ষকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে:

ক) ভৌগোলিক ঐক্য (Geographical Unity)

              যদিও ভারতে বৈচিত্র্য বিদ্যমান, তবুও 'ভারতবর্ষ' নামক ধারণাটি কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক একক।

হিমালয় পর্বতমালা এবং তিন দিকের সমুদ্র ভারতকে অবশিষ্ট এশিয়া থেকে পৃথক করে একটি সুগঠিত একক হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

প্রাচীনকাল থেকেই এই সমগ্র ভূখণ্ড 'ভারতবর্ষ' বা 'জম্বুদ্বীপ' নামে পরিচিত ছিল, যা এখানকার অধিবাসীদের মনে জন্মস্থান হিসেবে এক মৌলিক ঐক্যবোধ সঞ্চার করেছে।

খ) সাংস্কৃতিক সমন্বয় ও মিলন (Cultural Synthesis)

             ঐক্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকাশ ঘটেছে সংস্কৃতিতে। বিভিন্ন জাতির আগমন ও সহাবস্থান সত্ত্বেও ভারতীয় সংস্কৃতি কোনোদিন ভেঙে পড়েনি, বরং তা সমৃদ্ধ হয়েছে।

ধর্মীয় সমন্বয়: 

                হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, খ্রিস্টান—বিভিন্ন ধর্ম একই মাটিতে সহাবস্থান করেছে। মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্য, কবীর, নানক প্রমুখ ধর্মপ্রচারকরা ধর্মীয় ভেদ ভেঙে আন্তঃসাম্প্রদায়িক ঐক্যের জন্ম দিয়েছেন। ভিনসেন্ট স্মিথ মন্তব্য করেন, "India is verily a museum of cults and customs..."।

শিল্প ও স্থাপত্য: 

                 মোগল যুগে ইন্দো-ফার্সি মিশ্র শিল্পরীতি (Indo-Persian Art) তৈরি হয়েছে (যেমন—তাজমহল)। এটি প্রমাণ করে যে, বিদেশী রীতিনীতিও ভারতীয় মাটিতে মিশে গিয়ে এক নতুন সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।

ভাষার প্রভাব: 

                সংস্কৃত, ফার্সি ও আঞ্চলিক ভাষাগুলির পারস্পরিক আদান-প্রদান থেকেই উর্দু, হিন্দি ও বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হয়েছে।

গ) ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐক্য (Religious and Spiritual Unity)

তীর্থস্থান: 

                দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জ্যোতির্লিঙ্গ, শক্তিপীঠ বা চার ধামগুলির (বদ্রীনাথ, দ্বারকা, পুরী, রামেশ্বরম) তীর্থযাত্রা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

আদর্শের ঐক্য: 

                    বেদে বা উপনিষদে বর্ণিত 'বসুধৈব কুটুম্বকম্' (সমগ্র বিশ্ব একটি পরিবার) বা অহিংসার মতো সার্বজনীন নীতিগুলি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ভারতীয় সমাজকে প্রভাবিত করেছে।

ঘ) রাজনৈতিক ঐক্য ও প্রশাসন (Political Unity and Administration)

                 রাজনৈতিকভাবে ভারতের ঐক্য বারবার বিঘ্নিত হলেও, বৃহৎ সাম্রাজ্যগুলি এই ঐক্যকে সুদৃঢ় করেছে:

প্রাচীন যুগ: 

                 মৌর্য সম্রাট অশোক এবং গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য প্রায় সমগ্র ভারতকে এক ছাতার তলায় এনেছিল, যা 'চক্রবর্তী রাজা' ধারণাকে শক্তিশালী করেছিল।

মধ্যযুগ: 

                মোগল সম্রাট আকবর এবং ঔরঙ্গজেবের সাম্রাজ্য ভারতের বিশাল অংশকে একটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসে।

আধুনিক যুগ: 

              ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসন (Colonial Rule) এই ঐক্যকে আরও দৃঢ় করে। একক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, একই আইন, একই মুদ্রা এবং রেল ও ডাক বিভাগের মতো যোগাযোগের ব্যবস্থার মাধ্যমে ইংরেজরা পরোক্ষভাবে সমগ্র ভারতকে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে।

জাতীয়তাবাদী আন্দোলন: 

              ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত স্বাধীনতা সংগ্রাম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতীয়কে একটি অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে চালিত করে।

ঙ) অন্তরের ঐক্য (Internal Unity)

               ড. যদুনাথ সরকার যেমনটা বলেছেন, দীর্ঘকাল ধরে একই আবহাওয়ায় বসবাস, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং একই অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে থেকে ভারতীয়দের মধ্যে এক আন্তরিক সমন্বয় তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জাতির মানুষ তাদের নিজস্বতা হারালেও, তারা সবাই সম্মিলিতভাবে 'ভারতীয়' পরিচিতি লাভ করেছে।

                 ভারতের বৈচিত্র্য কেবল বৈচিত্র্য নয়, এটি হলো এক গভীর ঐক্যের ভিত্তি। এই ঐক্য কোনো জোর করে চাপানো রাজনৈতিক ঐক্য নয়, বরং এটি হলো সাংস্কৃতিক সমন্বয় ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে অর্জিত 'অন্তঃসলিলা ঐক্য'। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশীয় রাজ্যগুলির স্বেচ্ছায় ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত হওয়া এই ঐক্যেরই শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

              সকল বিভেদ সত্ত্বেও, 'ভারতবর্ষ' নামক ধারণাই হলো এর জনগণের গভীর আন্তরিকতা ও মৌলিক ঐক্যবোধের প্রতীক। তাই ভিনসেন্ট স্মিথের মন্তব্যেই শেষ করা যায়—

"All over the great expanse of the Indian continent, the essential unity is a reality." (ভারতের বিশাল মহাদেশ জুড়ে, এই মৌলিক ঐক্যই হলো চরম সত্য।)

          এই মৌলিক ঐক্যের কারণেই ভারতবর্ষ হাজার হাজার বছর ধরে তার সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে।






READ MORE👇














Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

হেটেরোস্ফিয়ার

হেটেরোস্ফিয়ার                      ‘হেটেরো’ শব্দের অর্থ ‘ বিষমবৈশিষ্ট্যপূর্ণ। বায়ুমণ্ডলের হোমোস্ফিয়ার স্তরের ওপরের অংশে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত এবং বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলো একই রকম থাকে না বলে ভূপৃষ্ঠের ওপরে ৯০ কিলোমিটার থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে হেটেরোস্ফিয়ার বা বিষমমণ্ডল বলা হয়।

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য

  নদী উপত্যকা এবং হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য Sl. No. নদী উপত্যকা হিমবাহ উপত্যকা 1 মেরু প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কেবলমাত্র বরফে ঢাকা উঁচু পার্বত্য অঞ্চল এবং হিমশীতল মেরু অঞ্চলেই হিমবাহ উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 2 পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা প্রধানত ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়। হিমবাহ উপত্যকা ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়। 3 পার্বত্য ও উচ্চ সমভূমি অঞ্চলে নদী স্রোতের গতিবেগ প্রবল হয়, নিম্নভূমিতে নদী স্রোতের গতি ধীরে ধীরে কমে আসে। বেশিরভাগ সময়েই হিমবাহ অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়। 4 নদী উপত্যকা আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয়। হিমবাহ উপত্যকা সোজা পথে অগ্রসর হয়। 5 সাধারণত নদী উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য বেশি হয়। হিমবাহ উপত্যকার মোট দৈর্ঘ্য কম হয়। 6 নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে নদী উপত্যকায় প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। ...

গিরিখাত এবং ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য

  গিরিখাত এবং ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য Sl. No. গিরিখাত ক্যানিয়ন 1 গিরিখাত আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বলে বহু উপনদী গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। ফলে নদীখাত সামান্য প্রশস্ত হয়। ক্যানিয়ন শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বলে ক্যানিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর সঙ্গে কোনো উপনদী মিলিত হয় না। ফলে নদীখাত একদম সংকীর্ণ হয়। 2 আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীতে গিরিখাতের সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মরু ও মরুপ্রায় উচ্চভূমিতে প্রবাহিত নদীতে ক্যানিয়নের সৃষ্টি হয়। 3 গিরিখাত গঠনের সময় অধিক নিম্নক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পার্শ্বক্ষয়ও হয়ে থাকে। ক্যানিয়ন গঠনের সময় পার্শ্বক্ষয় একদম হয় না শুধু নদীর নিম্নক্ষয়ই হয়ে থাকে। 4 গিরিখাতের আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো। ক্যানিয়নের আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘I’ অক্ষরের মতো। 5 যেহেতু আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে গিরিখাত সৃষ্টি হয়, সেহেতু বৃষ্টিপাতের জন্য নদীর দুই পাড়ের ক্ষয় সামা...

বার্খান

বার্খান             বায়ুর সঞ্চয়কাজের ফলে যেসব ভূমিরূপ গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে বালিয়াড়ি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।বালিয়াড়ির অন্যতম একটি বিশেষ শ্রেণি হল বাৰ্খান বা তির্যক বালিয়াড়ি। ‘বাৰ্খান’একটি তুর্কি শব্দ, এর অর্থ হল ‘কিরঘিজ স্টেপস্’ অঞ্চলের বালিয়াড়ি। উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের পথে আড়াআড়িভাবে গঠিত বালির স্তূপ বা বালিয়াড়িকে বাৰ্খান বলা হয়।

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু

পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু                     পর্বত্য অঞ্চল থেকে সমভূমিতে প্রবেশ করলে নদীর গতিপথের ঢাল হ্রাস পায়। ফলে নদীর ক্ষমতাও কমে যায়। উচ্চপ্রবাহের ক্ষয়িত পদার্থসমূহ (শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি) সমভূমিতে প্রবেশের মুখে পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে শঙ্কু আকৃতির ভূমিরূপ গঠন করে। একে পলিশঙ্কু বলে। দেখতে হাত পাখার মতো হয় বলে একে পলল পাখা বা পলল ব্যজনীও বলে। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ৫০টি উক্তি 🗇 "নারীর প্রেম পুরুষের কাছে শুধু আশ্রয়, কিন্তু পুরুষের প্রেম নারীর কাছে জীবন।" 🗇 "সংসারে কেউ কাউকে ভালোবাসে না, শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে।" 🗇 "যে জন ভালোবাসে, সে জন জানে ভালোবাসার মূল্য।" 🗇 "পুরুষের মনস্তত্ত্বই এই, তারা যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকেই বেশি কষ্ট দেয়।" 🗇 "স্নেহ ভালোবাসার কাঙাল, তাই দুর্বলকে সে বেশি টানে।"

মহীখাত

মহীখাত        জে.হল, জে.ডি.ডানা ও কোবার প্রথম মহীখাত বা Geosyncline ধারণার অবতারণা করেন। তাঁদের মতে, পৃথিবীর আদি ভূভাগ দ্বারা বেষ্টিত ভূপৃষ্ঠের সংকীর্ণ, অবনমিত ও অগভীর সমুদ্রখাত হল মহীখাত। অর্থাৎ, ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এখন যেসব জায়গায় ভঙ্গিল পর্বতগুলো অবস্থান করছে, অতি প্রাচীনকালে সেখানে ছিল বিস্তীর্ণ অবনত অঞ্চল— ভূতাত্ত্বিকগণের ভাষায় যার নাম মহীখাত বা অগভীর সমুদ্র।

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

স্প্রিং তুলা ও সাধারণ তুলার মধ্যে পার্থক্য কী ?

স্প্রিং তুলা ও সাধারণ তুলার মধ্যে পার্থক্য - স্প্রিং তুলা সাধারণ তুলা 1. স্প্রিং তুলা দিয়ে বস্তুর ভার বা ওজন মাপা হয়। 1. সাধারণ তুলায় বস্তুর ভর মাপা হয়। 2. খুব ভারী বস্তুর ওজন মাপা যায় না। 2. ভারী বস্তুর ভর মাপা যায়। 3. স্প্রিং তুলায় একটি বস্তুর ওজনের পাঠ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হয়। 3. সাধারণ তুলায় একটি বস্তুর ভরের ক্ষেত্রে সব স্থানে একই পাঠ পাওয়া যায়। 4. স্প্রিং তুলা যে স্থানে অংশাঙ্কিত হয় শুধু সেই স্থানে সঠিক পাঠ দেয়। 4. সাধারণ তুলা সব স্থানে সঠিক পাঠ দেয়। 5. স্প্রিং তুলার কার্যনীতি পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের জন্য স্প্রিং-এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। 5. সাধারণ তুলা প্রথম শ্রেণির লিভারের নীতি অনুযায়ী কাজ করে।