Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 12

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাজ্যসভার সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ—   উত্তরঃ ৬ বছর। প্রশ্নঃ রাজ্যপালকে কে শপথ বাক্য পাঠ করান? উত্তরঃ   সংশ্লিষ্ট রাজ্য যে হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত সেই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারত-ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য

বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারত-ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য


এক মহাদেশের সারাংশ (Epitome of the World)

                       ভারতবর্ষ শুধুমাত্র একটি দেশ নয়, এটি একটি উপ-মহাদেশের সমতুল্য। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতা এবং সাংস্কৃতিক বিপুলতা সত্ত্বেও এই ভূখণ্ডের হাজার বছরের ইতিহাসে যে "অন্তর্নিহিত মৌলিক ঐক্য" (Fundamental Unity) বারবার প্রকাশিত হয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে যথার্থই "India offers unity in diversity" বা "বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য" বলে আখ্যা দিয়েছেন। যুগে যুগে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও ভাষাভাষী মানুষের মিলনকেন্দ্র হওয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতবর্ষকে "মহামানবের সাগরতীর" নামে অভিহিত করেছেন।

ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যের স্বরূপ (The Nature of Diversity)

                 ভারতের বৈচিত্র্যকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

ক) প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক বৈচিত্র্য:

ভূ-প্রকৃতি: 

                  উত্তরে হিমালয়ের সুউচ্চ পর্বতমালা, দক্ষিণে সুবিশাল উপকূল রেখা, পশ্চিমে রাজস্থানের বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তর এবং পূর্বে মেঘালয়ের মৌসিনরামের মতো বৃষ্টিবহুল অঞ্চল একই ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।

জলবায়ু: 

                 এই বৈচিত্র্যের কারণে কাশ্মীরের বরফ থেকে শুরু করে দাক্ষিণাত্যের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া পর্যন্ত সবরকম জলবায়ুই ভারতে বর্তমান।

নদনদী: 

             সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, কাবেরী, গোদাবরী—প্রত্যেকটি নদী উপত্যকা তার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছে।

খ) মানবীয় বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য:

নৃতাত্ত্বিক: 

                প্রাচীনকালে নেগ্রিটো, প্রোটো-অস্ট্রালয়েড থেকে শুরু করে আর্য, গ্রিক, শক, হুণ, কুশান, এবং আধুনিক যুগে মোগল, আফগান, পর্তুগিজ, ইংরেজ—বহু জাতিগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ঘটেছে। এই কারণেই ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' (Ethnological Museum) বলেছেন।

ভাষাগত: 

                 সরকারিভাবে ১৮টিরও বেশি ভাষা স্বীকৃত এবং উপভাষা সহ মোট ভাষার সংখ্যা প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা (হিন্দি, বাংলা) ও দ্রাবিড় ভাষা (তামিল, তেলুগু) প্রধান দুটি ভিন্ন ভাষা পরিবার ভারতে সহাবস্থান করে।

পোশাক ও জীবনধারা: 

                   কাশ্মীরের পশমের পোশাক থেকে কেরালার লুঙ্গি বা ধুতি এবং পঞ্জাবের সর্ষে খেত থেকে বাংলার মাছ-ভাত—খাদ্যাভ্যাস, পোশাক ও জীবনধারায় বিপুল ভিন্নতা রয়েছে।

ঐক্যের ক্ষেত্র বা সমন্বয়ের বাঁধন (The Factors of Unity and Synthesis)

              এত ব্যাপক ভিন্নতা সত্ত্বেও নিম্নোক্ত উপাদানগুলি ভারতবর্ষকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে:

ক) ভৌগোলিক ঐক্য (Geographical Unity)

              যদিও ভারতে বৈচিত্র্য বিদ্যমান, তবুও 'ভারতবর্ষ' নামক ধারণাটি কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক একক।

হিমালয় পর্বতমালা এবং তিন দিকের সমুদ্র ভারতকে অবশিষ্ট এশিয়া থেকে পৃথক করে একটি সুগঠিত একক হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

প্রাচীনকাল থেকেই এই সমগ্র ভূখণ্ড 'ভারতবর্ষ' বা 'জম্বুদ্বীপ' নামে পরিচিত ছিল, যা এখানকার অধিবাসীদের মনে জন্মস্থান হিসেবে এক মৌলিক ঐক্যবোধ সঞ্চার করেছে।

খ) সাংস্কৃতিক সমন্বয় ও মিলন (Cultural Synthesis)

             ঐক্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকাশ ঘটেছে সংস্কৃতিতে। বিভিন্ন জাতির আগমন ও সহাবস্থান সত্ত্বেও ভারতীয় সংস্কৃতি কোনোদিন ভেঙে পড়েনি, বরং তা সমৃদ্ধ হয়েছে।

ধর্মীয় সমন্বয়: 

                হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, খ্রিস্টান—বিভিন্ন ধর্ম একই মাটিতে সহাবস্থান করেছে। মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্য, কবীর, নানক প্রমুখ ধর্মপ্রচারকরা ধর্মীয় ভেদ ভেঙে আন্তঃসাম্প্রদায়িক ঐক্যের জন্ম দিয়েছেন। ভিনসেন্ট স্মিথ মন্তব্য করেন, "India is verily a museum of cults and customs..."।

শিল্প ও স্থাপত্য: 

                 মোগল যুগে ইন্দো-ফার্সি মিশ্র শিল্পরীতি (Indo-Persian Art) তৈরি হয়েছে (যেমন—তাজমহল)। এটি প্রমাণ করে যে, বিদেশী রীতিনীতিও ভারতীয় মাটিতে মিশে গিয়ে এক নতুন সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।

ভাষার প্রভাব: 

                সংস্কৃত, ফার্সি ও আঞ্চলিক ভাষাগুলির পারস্পরিক আদান-প্রদান থেকেই উর্দু, হিন্দি ও বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হয়েছে।

গ) ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐক্য (Religious and Spiritual Unity)

তীর্থস্থান: 

                দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জ্যোতির্লিঙ্গ, শক্তিপীঠ বা চার ধামগুলির (বদ্রীনাথ, দ্বারকা, পুরী, রামেশ্বরম) তীর্থযাত্রা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

আদর্শের ঐক্য: 

                    বেদে বা উপনিষদে বর্ণিত 'বসুধৈব কুটুম্বকম্' (সমগ্র বিশ্ব একটি পরিবার) বা অহিংসার মতো সার্বজনীন নীতিগুলি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ভারতীয় সমাজকে প্রভাবিত করেছে।

ঘ) রাজনৈতিক ঐক্য ও প্রশাসন (Political Unity and Administration)

                 রাজনৈতিকভাবে ভারতের ঐক্য বারবার বিঘ্নিত হলেও, বৃহৎ সাম্রাজ্যগুলি এই ঐক্যকে সুদৃঢ় করেছে:

প্রাচীন যুগ: 

                 মৌর্য সম্রাট অশোক এবং গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য প্রায় সমগ্র ভারতকে এক ছাতার তলায় এনেছিল, যা 'চক্রবর্তী রাজা' ধারণাকে শক্তিশালী করেছিল।

মধ্যযুগ: 

                মোগল সম্রাট আকবর এবং ঔরঙ্গজেবের সাম্রাজ্য ভারতের বিশাল অংশকে একটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসে।

আধুনিক যুগ: 

              ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসন (Colonial Rule) এই ঐক্যকে আরও দৃঢ় করে। একক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, একই আইন, একই মুদ্রা এবং রেল ও ডাক বিভাগের মতো যোগাযোগের ব্যবস্থার মাধ্যমে ইংরেজরা পরোক্ষভাবে সমগ্র ভারতকে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে।

জাতীয়তাবাদী আন্দোলন: 

              ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত স্বাধীনতা সংগ্রাম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতীয়কে একটি অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে চালিত করে।

ঙ) অন্তরের ঐক্য (Internal Unity)

               ড. যদুনাথ সরকার যেমনটা বলেছেন, দীর্ঘকাল ধরে একই আবহাওয়ায় বসবাস, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং একই অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে থেকে ভারতীয়দের মধ্যে এক আন্তরিক সমন্বয় তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জাতির মানুষ তাদের নিজস্বতা হারালেও, তারা সবাই সম্মিলিতভাবে 'ভারতীয়' পরিচিতি লাভ করেছে।

                 ভারতের বৈচিত্র্য কেবল বৈচিত্র্য নয়, এটি হলো এক গভীর ঐক্যের ভিত্তি। এই ঐক্য কোনো জোর করে চাপানো রাজনৈতিক ঐক্য নয়, বরং এটি হলো সাংস্কৃতিক সমন্বয় ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে অর্জিত 'অন্তঃসলিলা ঐক্য'। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশীয় রাজ্যগুলির স্বেচ্ছায় ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত হওয়া এই ঐক্যেরই শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

              সকল বিভেদ সত্ত্বেও, 'ভারতবর্ষ' নামক ধারণাই হলো এর জনগণের গভীর আন্তরিকতা ও মৌলিক ঐক্যবোধের প্রতীক। তাই ভিনসেন্ট স্মিথের মন্তব্যেই শেষ করা যায়—

"All over the great expanse of the Indian continent, the essential unity is a reality." (ভারতের বিশাল মহাদেশ জুড়ে, এই মৌলিক ঐক্যই হলো চরম সত্য।)

          এই মৌলিক ঐক্যের কারণেই ভারতবর্ষ হাজার হাজার বছর ধরে তার সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে।






READ MORE👇














Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জীববিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর-উদ্ভিদ ও প্রাণীর গঠনগত অঙ্গসংস্থান, সেট-১০

উদ্ভিদ ও প্রাণীর গঠনগত অঙ্গসংস্থান প্রশ্ন:১ বালব্ বা কন্দ কাকে বলে ? উত্তর:  যে সব মৃদগত কাণ্ড সর্বাপেক্ষা ছােটো চাকতির মতাে এবং সঞ্চিত খাদ্যবিহীন, কাণ্ডে পর্ব ও সংকুচিত পর্বমধ্য থাকে এবং রসালাে শল্কপত্রযুক্ত হয়, কাণ্ডের নীচে অসংখ্য গুচ্ছমূল থাকে এবং অনুকূল ঋতুতে ভৌমপুষ্পদণ্ড সৃষ্টি হয়, তাদের বালব্ বা কন্দ বলে। পেয়াজ, রসুন ইত্যাদির কাণ্ড এই রকমের। প্রশ্ন:২ পর্ণকাণ্ড বা ফাইলােক্ল্যাড কাকে বলে ? উত্তর:  যেসব কাণ্ড খর্ব, স্থূল, রসালাে এবং পাতার মতাে চ্যাপটা ও সবুজ, তাদের পর্ণকাণ্ড বলে। ফণীমনসা উদ্ভিদে পর্ণকাণ্ড দেখা যায়।

ভারতীয় সভ্যতার বিবর্তন(The Evolution of Indian Civilization)

ভারতীয় সভ্যতার বিবর্তন: প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত এক মহাকাব্যিক যাত্রা           ভারতীয় সভ্যতা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং নিরন্তর প্রবাহমান সভ্যতা। এর বিবর্তন একটি বিশাল মহাকাব্যিক যাত্রা, যা প্রায় দশ হাজার বছর ধরে বহু যুগ, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাম্রাজ্য এবং মতাদর্শের উত্থান-পতনের সাক্ষী। এই বিবর্তন শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রা, প্রযুক্তি, শিল্পকলা, দর্শন এবং আধ্যাত্মিক চেতনার নিরবচ্ছিন্ন রূপান্তরকেও নির্দেশ করে।

সমভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

সমভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অল্প উঁচু এবং সামান্য ঢালযুক্ত বিস্তৃত সমতল ক্ষেত্রকে সমভূমি বলে। তবে পৃথিবীর অধিকাংশ সমভূমিই সমুদ্র সমতল থেকে ৩০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থান করে। সমভূমির বৈশিষ্ট্য—

গ্রস্ত উপত্যকা

গ্রস্ত উপত্যকা : ১. গ্রস্ত উপত্যকার সংজ্ঞা :                দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গেলে যে অবনমিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।              এছাড়া, মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণ বলের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের কঠিন শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুনরায় ভূ-আন্দোলন ঘটলে বা ভূ-আলোড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাটল রেখা বরাবর শিলার একটি অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ খাড়াভাবে নীচে বসে যায়। অবনমিত, ওই অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। 

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

গ্রিনহাউস গ্যাস ও গ্রিনহাউস প্রভাব

গ্রিনহাউস গ্যাস ও গ্রিনহাউস প্রভাব          গ্রিনহাউস প্রভাব হল দূষিত পরিবেশের অন্যতম ফল। বায়ুমণ্ডলে মূলত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনাকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। কাচঘরের কাচ যেমন ঘরের ভিতরের তাপকে বিকিরিত হয়ে বাইরে নির্গত হতে বাধা দেয়, বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাসগুলিও পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপকে শোষণ করে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। এই ঘটনাটিকেই গ্রিনহাউস এফেক্ট বা সবুজ ঘর প্রভাব বলে।

লোয়েস সমভূমি

লোয়েস সমভূমি                   বায়ুর পরিবহনও অবক্ষেপণের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল লোয়েস সমভূমি। ‘লোয়েস’ কথাটির অর্থ ‘স্থানচ্যুত বস্তু’ বায়ুপ্রবাহিত অতিসূক্ষ্ম বালিকণা, মাটির কণা বা মৃত্তিকা ‘লোয়েস’ নামে পরিচিত। ০.০৫ মিলিমিটার ব্যাসের সূক্ষ্ম বালিকণা, মাটির কণা প্রভৃতি বায়ুর সঙ্গে বহুদূর উড়ে যেতে পারে। অতিসূক্ষ্ম বালিকণা, মাটির কণা বা মৃত্তিকা বায়ুর দ্বারা পরিবাহিত হয়ে কোনো নীচু স্থানে জমা হয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকে লোয়েস সমভূমি বলে। কখনও কখনও মরুভূমির বালি বায়ু দ্বারা অপসারিত হয়ে পার্শ্ববর্তী কোনো উর্বর কৃষিভূমিকে ক্রমশ ঢেকে ফেলে জমিটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে দেয় এবং ধীরে ধীরে কৃষিভূমিটিকে মরুভূমি গ্রাস করে ফেলে।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

পর্বতবেষ্টিত মালভূমি

পর্বতবেষ্টিত মালভূমি      ভূমিকম্পের ফলে ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণি সৃষ্টি হওয়ার সময় দুটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত নীচু স্থানগুলি কিছুটা উঁচু ও খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে মালভূমির আকৃতি নেয় । চারদিকে পর্বতবেষ্টিত হওয়ায় এই সব মালভূমিগুলিকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।           সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু ও বহুদূর বিস্তৃত শিলাময় স্তূপ যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, ভূমির ঢাল বেশ খাড়া এবং গিরিশৃঙ্গ ও উপত্যকা বর্তমান তাকে পর্বত বলে৷ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি হল—