ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে— উত্তরঃ সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন? উত্তরঃ ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন? উত্তরঃ নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন? উত্তরঃ রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন? উত্তরঃ অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন— উত্তরঃ লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি? উত্তরঃ চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...
জাতীয় কংগ্রেসকে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপদ নিয়ামক’ (Safety Valve) বলা যায় কী ?
ব্রিটিশ সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম গোপন রিপোর্ট থেকে জানতে পারেন ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ওপর ভারতবাসী ক্ষুব্ধ এবং যে–কোনো সময় এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। তাই তিনি এই ক্ষোভকে প্রশমনের জন্য ব্রিটিশ সরকারের ‘সেফটি ভাল্ব’ হিসেবে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। কংগ্রেস সৃষ্টির এই তত্ত্ব ‘সেফটি ভাল্ব’ তত্ত্ব নামে পরিচিত।
জাতীয় কংগ্রেস—নিরাপদ নিয়ামক
সমর্থন—
ঐতিহাসিক রজনী পামদত্ত প্রমুখের মতে, ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে ‘নিরাপদ নিয়ামক’-এর কাজ করার জন্যই কংগ্রেস গঠিত হয়েছিল। কংগ্রেস গঠনের পশ্চাতে হিউমের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতবাসীর ক্রমবর্ধমান অসন্তোষজনিত বিক্ষোভের কবল থেকে ইংরেজ শাসনকে রক্ষা করা। কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে, ভারতবাসী ব্রিটিশ অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে–কোনো সময়ে বিদ্রোহ করতে পারে। তাই তিনি চেয়েছিলেন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে দেশের প্রগতিশীল অংশকে এই বিদ্রোহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে। কংগ্রেস ছিল ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের পক্ষপাতিত্বে গঠিত একটি গোপন–গভীর ষড়যন্ত্রের ফল।
বিরোধিতা—
অপরদিকে ড. এস. আর. মেহরোত্রা ও প্রমুখ ঐতিহাসিকের মতে, কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না বা এটি কোনো ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতিও নয়। ড. তারাচাঁদের মতে—“কংগ্রেস ছিল দেশবাসীর আশা–আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ”। ড. বিপান চন্দ্রের মতে—“১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা কোনো আকস্মিক ঘটনা কিংবা কোনো ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা ছিল না”।
বস্তুত ভারতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় রজনী পামদত্তের বক্তব্য যথাযথ নয়। কারণ জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার দশ বছর আগে থেকেই ভারতের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে উঠতে থাকে। তাই ওই সময়ে কেবলমাত্র নিরাপদ নিয়ামকের কাজ করার জন্য একটা সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান গঠন যে সফল হবে না, তা বোঝার মতো বুদ্ধি বোধহয় হিউমের ছিল।
🔗🔗🔗
Read More ::

Comments
Post a Comment