Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতীয় সভ্যতার বিবর্তন(The Evolution of Indian Civilization)

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

                   ১৮৯৮ খ্রীষ্টাব্দের ২৪ শে জুলাই বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম। পিতা হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা প্রভাবতী দেবী পূণ্যলগ্নে জন্ম দিয়েছিলেন এই বিশ্ববরেণ্য বাংলা সাহিত্যিকের।


            তারাশঙ্কর বাবু এখন আমাদের মধ্যে জীবিত না থাকলেও তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে সাহিত্য পিপাসু প্রতিটি বাঙালীর অন্তরে তিনি জীবিত আছেন। তাঁর নব নব সাহিত্যসৃষ্টির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে উত্তর শরৎচন্দ্র যুগের তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী। শুধুমাত্র বাংলা বা বাঙালী নয়, তারাশঙ্কর বাবু জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বাংলার বাইরে ভিন্ন প্রদেশের ভিন্নভাষাভাষী পাঠক-পাঠিকাদের কাছেও।


         যৌবনে বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথের প্রভাব তারাশঙ্করের উপর পড়েছিল। তাই, জমিদার-পুত্র হয়েও তিনি জমিদার হতে চাননি। হয়েছিলেন সমাজসেবী, মানুষের বন্ধু। আর তা হতে চেয়েই শেষপর্যন্ত হয়ে গেলেন এক বিশিষ্ট সাহিত্যিক। চেনা জগতের জানা মানুষগুলাের সুখ-দুঃখ, প্রীতি-বিদ্বেষের কথা বাস্তবসম্মত করেই দেশ-কাল নিরপেক্ষ মানুষের কাছে তুলে ধরলেন। অভিজ্ঞতাই যে তাঁকে একাজে সহায়তা করেছে তা বলাই বাহুল্য। জীবনে মিশেছেন নানান শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে। নিম্ন বর্ণের মানুষের সান্নিধ্যেও সময় কাটিয়েছেন। কাহার, দুলে, বাগদি, বেদে প্রভৃতি মানুষের জীবনচর্চার সঙ্গে তিনি পরিচিত ছিলেন। সেজন্যই তাঁর গল্পে উপন্যাসে তাদের চরিত্র চিত্রণ অত্যন্ত সজীব এবং বিশ্বাসযােগ্য হয়ে উঠেছে।


               তারাশঙ্করের জীবনদর্শন গড়ে উঠেছিল সক্রিয় রাজনীতি, বীরভূমের গ্রাম্য প্রকৃতি, শিক্ষিত রিয়েলিষ্টিক মনােভাব এবং তার-ই পাশাপাশি জমিদার বংশের ঐতিহ্য সচেতনাতাকে কেন্দ্র করে। নতুন যুগের শিক্ষাকে তিনি অস্বীকার করেননি কিন্তু রক্ষণশীল কিছু সংস্কার ও জমিদার বংশের অহংকারের প্রতি ছিল তার দুর্বলতা।


               তারাশঙ্করের আবির্ভাব কল্লোলের পাতায় ‘রসকলি’ গল্পের স্রষ্টা হিসাবে। কিন্তু পরে তিনি নিজের প্রতিভা ও স্বাতন্ত্র সম্বন্ধে সচেতন হন। রহস্যে ভরা মানব জীবনই যে তার লেখবার বিষয়, তা তিনি শীঘ্র উপলব্ধি করলেন। তাই তিনি ‘কল্লোল’-এর সংকীর্ণতার খােলস ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন মানব জীবনের অপার রহস্য উদঘাটনের জন্য নব সাহিত্যের, নব ঢঙের, নবীন কেতন উড়িয়ে। কল্লোলীয়দের সঙ্গে এখানেই তার মূলগত প্রভেদ। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় তার ‘বাংলা গল্প বিচিত্রা’র ‘পশু প্রেম, ধ্রুবতারা’ পরিচ্ছেদে বলেছেন— “যে কোনাে বড় শিল্পীই প্রেরণায় অঙ্কুরিত, সাধনায় পল্লবিত এবং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবদর্শনের বিস্তৃত ক্ষেত্রে ফলবান....।”


                       তাঁর উপন্যাসে মুমূর্ষু সামন্ততান্ত্রিক ব্যক্তি, জীবন ও সমাজের ছবিটি অপূর্ব করুণায় ও মমতায় বর্ণিত হয়েছে। একটা যুগের অবসান হচ্ছে, আর একটা যুগ আসছে। পুরাতন গ্রামীণ জমিদারী আবহাওয়া চলে যাচ্ছে, আর সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে আসছে শিল্পপতির দল। যন্ত্রদানবের লম্বা-পা রাতারাতি গ্রাস করছে গ্রাম জনপদ। কারখানা আধুনিক ভাষায় শিল্প যার চিমনি থেকে নির্গত রাশিরাশি সভ্যতার ধোঁয়া গ্রামের সুনীল আকাশ, সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা প্রকৃতি আর প্রবহমান পবিত্র বাতাস ও জলকে মারছে বিষাক্ত ছােবল। পৃথিবীর এই আবিলতা ও মলিনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মলিনতা বাড়ছে আমাদের মনে, আমাদের ব্যবহারে, আমাদের আচার আচরণ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে। দিকভ্রষ্ট, পথভ্রষ্ট ও চরিত্রভ্রষ্ট নরনারী বিত্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যের সন্ধানে গাঁয়ের রাঙা মাটির পথ ভুলে কারখানার কালিঝুলি মাখছে। নতুন যুগের শিক্ষাকে তিনি অস্বীকার করেননি অথচ রক্ষণশীল কিছু সংস্কার ও জমিদার বংশের অহংকারের প্রতি ছিল তাঁর দুর্বলতা। তারাশঙ্কর অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে সেই সামাজিক পরিবর্তন ও মূল্যবােধের পার্থক্য তাঁর লেখার মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন। একদিকে তিনি নবজীবনের চিত্র এঁকেছেন, অন্যদিকে অজগাঁয়ের অতি সাধারণ শ্রেণীর বেদিয়া, সাঁওতাল, বাজিকর, বৈষ্ণব, আউল-বাউল প্রভৃতি রহস্যময় ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে মেলামেশা করে তাদের জীবনের যে পরিচয় তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন, তা এতদিন আমাদের অভিজ্ঞতার বাইরে ছিল।


                এইসব সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথাই তারাশঙ্কর তাঁর গল্পে বলেছেন– পরম মমতায়, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর গভীর প্রকৃতিচেতনা। স্মৃতিমেদুরতা, প্রকৃতিপ্রেম, বাস্তব বর্ণনা ও সততা তার গল্পগুলিকে সার্থক করে তুলেছে।


               তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ ‘কল্লোল’-এ প্রকাশিত হলেও কল্লোলের সঙ্গে তার মানসিকতা মেলেনি। ‘রসকলি’, ‘হারানাে সুর’ ও আরও দু একটি গল্প ‘কল্লোল’ ও ‘কালিকলম’-এ প্রকাশিত হলেও–তাঁর বেশিরভাগ গল্প প্রকাশিত হয় ‘বঙ্গশ্রী’ ও ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায়।


                তাঁর গল্প গ্রন্থ ৩৫ টি—গল্পসংখ্যা ১৯০। ‘ছলনাময়ী’, ‘জলসাঘর’, ‘রসকলি’, ‘তিন শূন্য’, ‘বেদিনী’, ‘হারানােসুর’, ‘স্থলপদ্ম’, ‘পৌষলক্ষ্মী’ ইত্যাদি উল্লেখযােগ্য গল্পসংকলন। তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসগুলি হল— ‘রাইকমল’ (১৯৩৪) ‘ধাত্রীদেবতা’ (১৯৩৯), ‘কালিন্দী’ (১৯৪০), ‘গণদেবতা’ (১৯৪২), ‘পঞ্চগ্রাম’ (১৯৪৪), ‘কবি’ (১৯৪৪), ‘অভিযান’ (১৯৪৬), ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ (১৯৪৭), ‘পদচিহ্ন’ (১৯৫০), ‘নাগিনী কন্যার কাহিনী’ (১৯৫২), ‘আরােগ্য নিকেতন’ (১৯৫৩), ‘চাপাডাঙার বৌ’ (১৯৫৪), ‘বিচারক’ (১৯৫৭), ‘সপ্তপদী’ (১৯৫৭), ‘রাধা’ (১৯৫৮) ‘নিশিপদ্ম’ (১৯৬২), ‘গন্নাবেগম’ (১৯৬৫), ‘মণি বউদি’ (১৯৬৭) প্রভৃতি। লিখেছেন আরাে অনেক উপন্যাস, এবং অসংখ্য গল্প। উপন্যাসের সংখ্যা প্রায় ষাট। আধুনিককালে রচিত তাঁর আরও অনেক উপন্যাসে আধুনিক যুগের, বাংলাদেশের সমগ্র জীবনচিত্র অঙ্কিত হয়েছে।


                  বাংলা আঞ্চলিক উপন্যাসের শ্রেষ্ঠ শিল্পী তারাশঙ্কর। তার অধিকাংশ উপন্যাসেই আঞ্চলিকতার উপাদান রয়েছে। তবে, ‘কবি’, ‘গণদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’, ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’, ‘নাগিনী কন্যার কাহিনী’ প্রভৃতি উপন্যাসে আঞ্চলিকতার লক্ষণ বেশি ফুটে উঠেছে। এই উপন্যাসগুলি যে পাঠকের মনােযােগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে সে এদের আঞ্চলিকতার লক্ষণের জন্যই। আঞ্চলিক আখ্যানকে তারাশঙ্করই সর্বপ্রথম সর্বাঙ্গীন সাহিত্যের মহিমায় মণ্ডিত করে তুলেছেন।


                         ‘ধাত্রীদেবতা’র নায়ক শিবু লেখকেরই যেন প্রতিরূপ। সেও জমিদার পুত্র, কিন্তু জমিদার নয়, সমাজসেবী, রাজনীতি কর্মী বিপ্লবী। ব্যক্তিত্বময়ী পিসির শাসন আর স্নেহময়ী মায়ের প্রশ্রয় এই দুয়ের মধ্যে দিয়ে শিবুর বেড়ে ওঠা একটা বিশেষ অঞ্চলের পরিবেশেই। ‘কালিন্দী’, ‘গণদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’ এই তিনটি উপন্যাস যেন ধারাবাহিক আখ্যানের মতাে। ‘গণদেবতা’, আর ‘পঞ্চগ্রাম’-এ পরিবর্তনশীল গ্রাম্য সমাজ চিত্র ফুটিয়ে তােলা হয়েছে। ‘কবি’ উপন্যাসে ফুটিয়ে তােলা হয়েছে নিতাই কবিয়াল নামে এক দরিদ্র অন্ত্যজ স্বভাব কবির বৃত্তান্ত। ঠাকুর-ঝি আর ঝুমুর গায়িকা বসনের সঙ্গে নিতাইয়ের প্রণয় বৃত্তান্তই উপন্যাসটির মুখ্য উপজীব্য।


                    ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ থেকেই তারাশঙ্করের উপন্যাস নতুন পথে অগ্রসর হয়েছে। আঞ্চলিক উপন্যাসের যথার্থ রূপ এখান থেকেই ফুটে উঠতে থাকে। ‘নাগিনী কন্যার কাহিনী’ আর একটি স্মরণীয় আঞ্চলিক উপন্যাস। ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’য় কাহার সম্প্রদায়ের জীবনচর্চা, যৌন জীবন, অর্থনীতি, ধর্ম বিশ্বাস, সংস্কার সব ফুটিয়ে তােলা হয়েছে। বনোয়ারী, করালী, পাখী, এরাই এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। ‘নাগিনী কন্যার কাহিনী’র প্রধান চরিত্রগুলি বেদে। সাপুড়ে, সাপধরা, সাপের খেলা দেখানাে, সাপের বিষ বিক্রি করা—এই ধরনের কাজের মধ্যে দিয়েই তাদের জীবিকা এবং জীবন। লেখক নিখুঁতভাবে তাদের জীবনচিত্র অঙ্কন করেছেন। অন্তরঙ্গভাবে ঘনিষ্ঠ না হতে পারলে এভাবে কেউ একটা সমাজের ছবি ফুটিয়ে তুলতে পারেন না। তারাশঙ্করের অন্যান্য উপন্যাসগুলিও কোনাে না কোনাে দিক থেকে পাঠককে মুগ্ধ করে। সবগুলিকেই উৎকৃষ্ট বলা যাবে না, কিন্তু একজন মানুষ এত উপন্যাস ও গল্প যে লিখতে পারেন এটাও বিস্ময়কর।


                 তারাশঙ্করের গল্পে প্রাধান্য পেয়েছে রাঢ়ের দরিদ্র মানুষ ও রাঢ় অঞ্চল। সমাজের একেবারে নীচুতলার মানুষেরা যেমন এসেছে তাঁর গল্পে তেমননি এসেছে ক্ষয়িষ্ণু জমিদার সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তাঁর গল্পে সামাজিক বা রাজনৈতিক টানাপােড়েনও যেমন এসেছে, পাশাপাশি এসেছে বৈষ্ণব সমাজের যুক্তপ্রেম, প্রেমের আদর্শ ও বাস্তবের সংঘাত-প্রসঙ্গও। এসেছে ‘ডাইনি’র মতাে নিঃসঙ্গ, হতভাগিনী নারীর প্রসঙ্গ, ‘যাদুকরী’ বা ‘বেদেনী’র মতাে উদ্দাম প্রবৃত্তিসম্পন্ন নারীদের কথা আবার শ্মশানচারী, কন্যাহার কেনারাম চাটুজ্যের দুঃখও দৃষ্টি এড়ায়নি।

Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।           সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু ও বহুদূর বিস্তৃত শিলাময় স্তূপ যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, ভূমির ঢাল বেশ খাড়া এবং গিরিশৃঙ্গ ও উপত্যকা বর্তমান তাকে পর্বত বলে৷ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি হল—

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য

  আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য Sl. No. আবহবিকার ক্ষয়ীভবন 1 আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন—উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, জলীয় বাষ্প, তুষারপাত ও বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান দ্বার শিলাসমূহের চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া বা বিয়োজনকে আবহবিকার বলে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন—নদী, বায়ু, হিমবাহ, ইত্যাদি দ্বারা আবহবিকারপ্রাপ্ত চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহের অপসারণকে ক্ষয়ীভবন বলে। 2 আবহবিকারের ফলে মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের (গঠন, আকৃতি, খনিজের আণবিক সজ্জা প্রভৃতি) পরিবর্তন ঘটে । ক্ষয়ীভবনের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয়। কিন্তু মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন সাধন হয় না। 3 আবহবিকার কোনোভাবে ক্ষয়ীভবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ক্ষয়ীভবন সম্পূর্ণরূপে আবহবিকারের ওপর নির্ভরশীল। আবহবিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে না। 4 আবহবিকারের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহ শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলাস্তরের ওপরেই অবস্থান করে। ক্ষয়ীভবনের ফলে আবহবিকার প্রাপ্ত শিলাচূর্ণ স্থানান্তরি...

গ্রস্ত উপত্যকা

গ্রস্ত উপত্যকা : ১. গ্রস্ত উপত্যকার সংজ্ঞা :                দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গেলে যে অবনমিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।              এছাড়া, মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণ বলের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের কঠিন শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুনরায় ভূ-আন্দোলন ঘটলে বা ভূ-আলোড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাটল রেখা বরাবর শিলার একটি অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ খাড়াভাবে নীচে বসে যায়। অবনমিত, ওই অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। 

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা             ‘মেখলা’ শব্দের মানে হল ‘কোমর বন্ধনী’। অসংখ্য আগ্নেয়গিরি মেখলা বা কোমর বন্ধনীর আকারে কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যখন অবস্থান করে, তখন তাকে ‘আগ্নেয় মেখলা’ বলা হয়।            ভূবিজ্ঞানীর মতে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে ও এশীয় মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে পাত সীমায় ফাটল বরাবর অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে এবং আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। 

স্প্রিং তুলা ও সাধারণ তুলার মধ্যে পার্থক্য কী ?

স্প্রিং তুলা ও সাধারণ তুলার মধ্যে পার্থক্য - স্প্রিং তুলা সাধারণ তুলা 1. স্প্রিং তুলা দিয়ে বস্তুর ভার বা ওজন মাপা হয়। 1. সাধারণ তুলায় বস্তুর ভর মাপা হয়। 2. খুব ভারী বস্তুর ওজন মাপা যায় না। 2. ভারী বস্তুর ভর মাপা যায়। 3. স্প্রিং তুলায় একটি বস্তুর ওজনের পাঠ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হয়। 3. সাধারণ তুলায় একটি বস্তুর ভরের ক্ষেত্রে সব স্থানে একই পাঠ পাওয়া যায়। 4. স্প্রিং তুলা যে স্থানে অংশাঙ্কিত হয় শুধু সেই স্থানে সঠিক পাঠ দেয়। 4. সাধারণ তুলা সব স্থানে সঠিক পাঠ দেয়। 5. স্প্রিং তুলার কার্যনীতি পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের জন্য স্প্রিং-এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। 5. সাধারণ তুলা প্রথম শ্রেণির লিভারের নীতি অনুযায়ী কাজ করে।

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য

  স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য Sl. No. স্থলবায়ু সমুদ্রবায়ু 1 স্থলবায়ু মূলত শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়। সমুদ্রবায়ু মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির হয়। 2 স্থলবায়ু প্রধানত রাত্রিবেলায় প্রবাহিত হয়। সমুদ্রবায়ু প্রধানত দিনেরবেলায় প্রবাহিত হয়। 3 সূর্যাস্তের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুর প্রবাহ শুরু হয় ও রাত্রির শেষদিকে বায়ুপ্রবাহের বেগ বৃদ্ধি পায়। সূর্যোদয়ের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুরপ্রবাহ শুরু হয় ও অপরাহ্নে বায়ুপ্রবাহে বেগ বৃদ্ধি পায়। 4 স্থলবায়ু উচ্চচাযুক্ত স্থলভাগ থেকে নিম্নচাপযুক্ত জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে স্থলবায়ুকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। সমুদ্রবায়ু উচ্চচাপযুক্ত সমুদ্র থেকে নিম্নচাপযুক্ত স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে সমুদ্রবায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। 5 স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবার দরুন বেগ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ প্রবাহিত হ...

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।

বার্খান

বার্খান             বায়ুর সঞ্চয়কাজের ফলে যেসব ভূমিরূপ গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে বালিয়াড়ি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।বালিয়াড়ির অন্যতম একটি বিশেষ শ্রেণি হল বাৰ্খান বা তির্যক বালিয়াড়ি। ‘বাৰ্খান’একটি তুর্কি শব্দ, এর অর্থ হল ‘কিরঘিজ স্টেপস্’ অঞ্চলের বালিয়াড়ি। উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের পথে আড়াআড়িভাবে গঠিত বালির স্তূপ বা বালিয়াড়িকে বাৰ্খান বলা হয়।