Skip to main content

সাম্প্রতিক পোস্ট

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

প্রাকৃতিক ভূগোলের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর-বায়ুমণ্ডল, সেট-৭

বায়ুমণ্ডল

প্রশ্ন:১
হ্যারিকেন কী ?

উত্তর: 

পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ সংলগ্ন ক্যারিবিয়ান সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারিকেন’ নামে পরিচিত। সমুদ্রের জলরাশি উষ্ণ হলে (২৭° বা তার বেশি) তার ওপর গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় এবং ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ব্যাস হয় ২০০-৬০০ কিমি এবং বাতাসের গতিবেগ হয় ঘণ্টায় প্রায় ১৫০-২০০ কিমি। হ্যারিকেন খুবই বিধ্বংসী ঝড়। এই ঝড়ের প্রভাবে মেক্সিকো ও পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে প্রচুর পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতও ঘটে। তবে নিম্নচাপ কেন্দ্রের ঠিক মাঝখানে ১০-৫০ কিমি ব্যাসযুক্ত একটি শান্ত ও বৃষ্টিহীন অঞ্চল অবস্থান করে। অঞ্চলটিকে ‘ঝড়ের চোখ’ বলে।


প্রশ্ন:২
অধঃক্ষেপণ বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: 

ঊর্ধ্বগামী জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু অতিরিক্ত শীতলতার সংস্পর্শে এলে ঘনীভূত হয় এবং জলকণা ও তুষারকণায় পরিণত হয়। এই ক্ষুদ্র জলকণা ও তুষারকণাগুলি ক্রমশ আয়তনে বড়াে ও ওজনে ভারী হলে মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। সুতরাং, জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ুশীতল ও ঘনীভূত হয়ে, কঠিন বা তরল আকারে মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠে পতিত হলে তাকে একত্রে অধঃক্ষেপণ বলে। বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি প্রভৃতি হল অধঃক্ষেপণের ভিন্ন ভিন্ন রূপ।


প্রশ্ন:৩
টর্নেডাে কী ?

উত্তর: 

স্পেনীয় শব্দ ‘টর্নেডাে’-র অর্থ ‘বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টি’। টর্নেডাে পৃথিবীর প্রবলতম ঝড়। যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপকূল ও মিসিসিপি নদী অববাহিকায় প্রবলতম ঝড় টর্নেডাে নামে পরিচিত। অতি অল্পস্থান জুড়ে অত্যন্ত শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে টর্নেডোর উৎপত্তি হয়। টর্নেডাের কেন্দ্রে ঘন কালাে মেঘ ফানেলের মতাে বা কালাে থামের মতাে আকৃতি ধারণ করে ভূমি থেকে ঊর্ধ্বাকাশে অবস্থান করে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ব্যাস হয় ১০০-৫০০ কিমির মধ্যে। বাতাস কুণ্ডলী আকারে ঘুরতে ঘুরতে নিম্নচাপ কেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং প্রায় ৪০ কিমি পর্যন্ত ওপরে ওঠে। এর স্থায়িত্ব মাত্র কয়েক মিনিট হলেও, বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৩০০-৫০০ কিমি পর্যন্ত হওয়ায় প্রবাহিত অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। এর প্রভাবে সমুদ্রে জলস্তম্ভের সৃষ্টি হয়।


প্রশ্ন:৪
আঁধি কী ?

উত্তর: 

‘আঁধি’ হল ধূলিঝড়। দীর্ঘ, শুষ্ক গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রায় ৭০-১০০ কিমি বেগে ধূলিঝড় সৃষ্টি হয়। ধূলিঝড়ে আকাশ যেন আঁধার হয়ে আসে, তাই এর এরূপ নাম।


প্রশ্ন:৫
আয়ন বায়ু কাকে বলে ?

উত্তর: 

উভয় গােলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপবলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপবলয়ের দিকে যে নিয়ত বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে আয়ন বায়ু বলে। সাধারণত উভয় গােলার্ধে ৫°-১০° অক্ষরেখার মধ্যে আয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়। ফেরেলের সূত্র অনুসারে, আয়ন বায়ু উত্তর গােলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গােলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যথাক্রমে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুরূপে প্রবাহিত হয়।


প্রশ্ন:৬
পম্পেরাে কী ?

উত্তর: 

বসন্তকালে দক্ষিণ আমেরিকায় আন্দিজ পর্বতের পাদদেশ থেকে যে উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু আর্জেন্টিনার পম্পাস তৃণভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে ‘পম্পেরাে’ বলে।


প্রশ্ন:৭
সাইক্লোন কী ?

উত্তর: 

বঙ্গোপসাগর, আরবসাগর ও ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সাইক্লোন নামে পরিচিত। এই ঝড়ের প্রভাবে ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরে দু-বার অর্থাৎ মে-জুন এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এই ঝড়ের সৃষ্টি হয়। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের ওপর শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে সাইক্লোন ঝড়ের উৎপত্তি হয়। এর প্রভাবে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে। সাইক্লোনের প্রভাবে উপকূল অঞ্চলে জলােচ্ছ্বাস ঘটে এবং ব্যাপক সম্পত্তি ও জীবনহানি ঘটে। আরবসাগর অপেক্ষা বঙ্গোপসাগরের উপর বেশি সংখ্যায় সাইক্লোন সৃষ্টি হয়। ভারতে—পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অন্ধপ্রদেশ ব্যাপকভাবে সাইক্লোনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


প্রশ্ন:৮
চিনুক কী ?

উত্তর: 

প্রধানত শীতকাল ও বসন্ত ঋতুর প্রথমে, উত্তর আমেরিকায় রকি পর্বতের পূর্ব ঢাল বরাবর অধঃগামী উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুর স্থানীয় নাম ‘চিনুক’। উষ্ণ চিনুক বায়ুর প্রভাবে পর্বতের পাদদেশে ও প্রেইরি অঞ্চলের জমা বরফ গলে যায়। তাই স্থানীয় রেড-ইন্ডিয়ানরা এই বায়ুর নাম দিয়েছে ‘চিনুক’—যার অর্থ ‘তুষার ভক্ষক’।


প্রশ্ন:৯
লু কী ?

উত্তর: 

গ্রীষ্মকালে দিনেরবেলা উত্তর-পশ্চিম ভারতে একপ্রকার উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ু ‘লু’ নামে পরিচিত। এই বায়ুর উষ্ণতা ৪৫°-৫০° সেলসিয়াস-এর মধ্যে। আসলে, ‘লু’ একপ্রকার তাপপ্রবাহ। সন্ধ্যার পর এই বায়ুর তীব্রতা কমে।


প্রশ্ন:১০
টাইফুন কী ?

উত্তর: 

চিন-জাপান থেকে ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ হয়ে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সৃষ্ট বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় টাইফুন নামে পরিচিত। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চিন সাগরের ওপর গভীর ও শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হওয়ায় টাইফুন-এর সৃষ্টি হয়। বায়ু প্রবল গতিতে কুণ্ডলী আকারে ঘুরতে ঘুরতে নিম্নচাপ কেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং ১৩-১৪ কিমি পর্যন্ত ওপরে উঠে পড়ে। ঝড়ের গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিমির মতাে। এর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ঝড়ের স্থায়িত্ব অল্প হলেও, ঘূর্ণিঝড় শীতল স্থলভাগের দিকে তীব্রগতিতে আছড়ে পড়ার ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

   



 

Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান কী ?

          বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–৯৪ খ্রি.) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের অগ্রণী ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার। বঙ্কিমচন্দ্রের অধিকাংশ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল স্বদেশ ও দেশপ্রেম। বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টি ভারতীয় জাতীয়তাবোধের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর ‘বন্দেমাতরম্’–মন্ত্র ছিল বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র। অরবিন্দ ঘোষ তাই বঙ্কিমকে ‘জাতীয়তাবোধের ঋত্বিক’ বলেছেন।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো। সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু ও বহুদূর বিস্তৃত শিলাময় স্তূপ যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, ভূমির ঢাল বেশ খাড়া এবং গিরিশৃঙ্গ ও উপত্যকা বর্তমান তাকে পর্বত বলে৷ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি হল—

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তার বর্ণনা দাও।   অথবা,  একটি আদর্শ নদীর বিভিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।  অথবা,  নদীপ্রবাহের যে-কোনও একটি অংশে নদীর কার্যের বিবরণ দাও।             উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয় করা। এর সঙ্গে বহন ও অতি সামান্য পরিমান সঞ্চয়কার্য ও করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে এই অংশে নদীপথের ঢাল খুব বেশি হয়, ফলে নদীর স্রোতও খুব বেশি হয়। স্বভাবতই পার্বত্য অঞ্চলে নদী তার প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন পাথর বা শিলাখণ্ডকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ ও প্রস্তরখণ্ডকে সবেগে বহনও করে। উচ্চ প্রবাহে নদীর এই ক্ষয়কার্য প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়।  এই প্রক্রিয়া গুলি হলো - অবঘর্ষ ক্ষয়, ঘর্ষণ ক্ষয়, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও দ্রবণ ক্ষয়।  নদীর ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যেমন: (১) ইংরেজি "।" এবং "V" অক্ষরের মতো নদী উপত্যকা:       পার্বত্য গতিপথের প্রথম অবস্থায় প্রবল বেগে নদী তার গতিপথের ...

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য

  স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য Sl. No. স্থলবায়ু সমুদ্রবায়ু 1 স্থলবায়ু মূলত শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়। সমুদ্রবায়ু মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির হয়। 2 স্থলবায়ু প্রধানত রাত্রিবেলায় প্রবাহিত হয়। সমুদ্রবায়ু প্রধানত দিনেরবেলায় প্রবাহিত হয়। 3 সূর্যাস্তের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুর প্রবাহ শুরু হয় ও রাত্রির শেষদিকে বায়ুপ্রবাহের বেগ বৃদ্ধি পায়। সূর্যোদয়ের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুরপ্রবাহ শুরু হয় ও অপরাহ্নে বায়ুপ্রবাহে বেগ বৃদ্ধি পায়। 4 স্থলবায়ু উচ্চচাযুক্ত স্থলভাগ থেকে নিম্নচাপযুক্ত জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে স্থলবায়ুকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। সমুদ্রবায়ু উচ্চচাপযুক্ত সমুদ্র থেকে নিম্নচাপযুক্ত স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে সমুদ্রবায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। 5 স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবার দরুন বেগ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ প্রবাহিত হ...

ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি হল— (১) বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে কোমল পাললিক শিলায় ঢেউ-এর মতো ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়। (২) প্রধানত সমুদ্রগর্ভ থেকে সৃষ্টি হয় বলে ভঙ্গিল পর্বতে জীবাশ্ম দেখা যায়। (৩) ভঙ্গিল পর্বতগুলি সাধারণত পাললিক শিলায় গঠিত হলেও অনেক সময় ভঙ্গিল পর্বতে আগ্নেয় এবং রূপান্তরিত শিলার সহাবস্থান চোখে পড়ে (কারণ—ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির সময় শিলাস্তরে ফাটল সৃষ্টি হলে, সেই ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের ম্যাগমা লাভারূপে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে যা ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে। এর পর কালক্রমে প্রচণ্ড চাপ ও তাপের ফলে আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা রূপান্তরিত শিলায় পরিণত হয়)

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চিরস্মরণীয় কিছু উক্তি

          বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। অগ্নিবীণা হাতে তার প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তার প্রকাশ। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে – কাজেই "বিদ্রোহী কবি"

মানব জীবনের ওপর মালভূমির প্রভাব আলোচনা করো

মানুষের জীবনধারণ ও জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রে মালভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন—  (১) মালভূমি সাধারণত স্বাভাবিক উদ্ভিদে সমৃদ্ধ হয়। যেমন—ছোটোনাগপুর মালভূমিতে প্রচুর শাল ও সেগুন গাছ জন্মে থাকে। (২) কোনোকোনো মালভূমির কঠিন শিলার ওপর উর্বর মৃত্তিকার আবরণ থাকলে সেই অঞ্চল কৃষিকার্যে উন্নতি লাভ করে। যেমন—ভারতের কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চল। (৩) মালভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি বন্ধুর এবং ভূভাগ কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত বলে চাষ-আবাদ, রাস্তাঘাট ও শিল্পস্থাপনে প্রতিকূল পরিবেশের সৃষ্টি করে।

পর্বতবেষ্টিত মালভূমি

পর্বতবেষ্টিত মালভূমি      ভূমিকম্পের ফলে ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণি সৃষ্টি হওয়ার সময় দুটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত নীচু স্থানগুলি কিছুটা উঁচু ও খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে মালভূমির আকৃতি নেয় । চারদিকে পর্বতবেষ্টিত হওয়ায় এই সব মালভূমিগুলিকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে।