Skip to main content

প্রস্তুতি শুরু করা যাক [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBSSC WBPSC WBPRB WBCS

সাম্প্রতিক পোস্ট

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর,(For WBCS & WBPSC Miscellaneous Examination) সেট 12

ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাজ্যসভার সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ—   উত্তরঃ ৬ বছর। প্রশ্নঃ রাজ্যপালকে কে শপথ বাক্য পাঠ করান? উত্তরঃ   সংশ্লিষ্ট রাজ্য যে হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত সেই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিক্ষা বোর্ডসমূহ [খুব তাড়াতাড়ি আসছে]

WBBPE WBBSE WBCHSE WBMSC

আঞ্চলিক ভূগোলের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর-ভারতের ভূপ্রকৃতি, নদনদী, জলবায়ু, স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও মৃত্তিকা সেট-১

ভারতের ভূপ্রকৃতি, নদনদী, জলবায়ু, স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও মৃত্তিকা


প্রশ্ন:১
ভূমিক্ষয় কী ?

উত্তর: 
প্রাকৃতিক শক্তি (বৃষ্টিপাত, জলস্রোত, নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি) ও মানুষের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের ফলে মাটির ক্ষয়সাধনকে ভূমিক্ষয় বা মাটিক্ষয় বলে। ভূমিক্ষয়ের ফলে মাটির উপরের হালকা ও অসংবদ্ধ অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত ও অপসারিত হয় এবং মাটির উর্বরতা দ্রুত হ্রাস পায়।


প্রশ্ন:২
পলি মাটিযুক্ত অঞ্চলকে ভারতের শস্যভাণ্ডার বলা হয় কেন ?

উত্তর: 
নদীবাহিত পলি , বালি ও কাদা সঞ্চিত হয়ে পলি মাটির সৃষ্টি হয়। এই মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কম, কিন্তু পটাশ, চুন, ফেরাস অক্সাইডের পরিমাণ বেশি থাকায় এই মাটি দারুণ উর্বর এবং কৃষির পক্ষে উপযুক্ত। ভারতের অধিকাংশ খাদ্যশস্য পলি মাটিতে উৎপন্ন হয়। এই মৃত্তিকায় ধান, গম, পাট, ডাল, সরিষা প্রভৃতি শস্য প্রচুর পরিমাণে জন্মায়। এইজন্য পলি মাটিযুক্ত অঞ্চলকে ভারতের শস্য ভাণ্ডার বলা হয়। 
যেমন—উৎপাদনের আধিক্যের জন্য শতদ্রু সমভূমিকে ভারতের গম ভান্ডার ও নিম্ন গঙ্গা সমভূমিকে ভারতের চালপাত্র বলা হয় ।


প্রশ্ন:৩
লালমাটি ভারতের কোথায় দেখা যায় ? এই মাটি কীভাবে সৃষ্টি হয় ?

উত্তর: 
কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চল ছাড়া প্রায় সমগ্র দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞলে লালমাটি দেখা যায়। এ ছাড়া, সাঁওতাল পরগনা, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ—পশ্চিমাংশে, ঝাড়খণ্ডের ছােটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চল এবং উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর ও ঝাঁসি জেলায় এই মাটি দেখা যায়। প্রাচীন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলার (মূলত গ্রানাইট ও নিস্) আবহবিকারের ফলে লালমাটির সৃষ্টি হয়।


প্রশ্ন:৪
ভারতের বদ্বীপ অঞ্চলের মাটি কোথায় দেখা যায় ? এই মাটির প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।

উত্তর: 
বদ্বীপ অঞ্চলের মাটি ভারতের পূর্ব-উপকূলের গঙ্গা, মহানদী, গােদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী প্রভৃতি নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে এবং পশ্চিম-উপকূলের কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ অঞ্চলে দেখা যায়।
এই মাটির প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য হল 
(i) সমুদ্রের উপকূলে যেখানে, জোয়ারের প্রভাব বেশি সেখানে এই ধরনের মাটির সৃষ্টি হয় বলে এই মাটি কর্দমাক্ত। 
(ii) জোয়ারের জলে প্লাবিত হওয়ার দরুন এই মাটি লবণাক্ত হয়। 
(iii) নুনের আধিক্যের জন্য এই মাটি কৃষির পক্ষে অনুপযােগী।


প্রশ্ন:৫
কৃষ্ণ মৃত্তিকা কী ? এই মৃত্তিকা ভারতে কোথায় দেখা যায় ? 

উত্তর: 
লাভাগঠিত ব্যাসল্ট শিলা দীর্ঘদিন ধরে আবহবিকারের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কালাে রং-এর যে মৃত্তিকা গঠন করে। তাকে কৃষ্ণ মৃত্তিকা বলে। এই মৃত্তিকাকে রেগুর বা Black Cotton Soil ও বলা হয়।
কৃষ্ণ মৃত্তিকা ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশে মহারাষ্ট্র মালভূমি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমাংশে ও কর্ণাটকের উত্তরাংশে দেখা যায়।


প্রশ্ন:৬
ডেকানট্র্যাপ অঞ্চলে কৃষ্ণমৃত্তিকার সৃষ্টি হয়েছে কেন ?

উত্তর: 
দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত লাভাগঠিত মালভূমিকে ডেকানট্র্যাপ বলে। লাভাগঠিত ব্যাসল্ট শিলা দীর্ঘদিন ধরে আবহবিকারপ্রাপ্ত ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কালাে রং-এর কৃষ্ণমৃত্তিকার সৃষ্টি করে।


প্রশ্ন:৭
পলি মাটির প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।

উত্তর: 
পলি মাটির প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য হল—
(i) এটি একটি অনাঞ্চলিক মাটি। মূলত নদীবাহিত পলি, বালি ও কাদা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে পলি মাটির সৃষ্টি হয়। 
(ii) খনিজ ও জৈবপদার্থ সমৃদ্ধ এই মৃত্তিকা খুব উর্বর এবং কৃষির পক্ষে উপযুক্ত। 
(iii) নদীর তীরবর্তী নবীন পলিমৃত্তিকাকে খাদার এবং প্রাচীন পলিমৃত্তিকাকে ভাঙর বলা হয়।


প্রশ্ন:৮
পডসল মাটি কী ? ভারতে এই মাটি কোথায় দেখা যায় ?

উত্তর: 
পার্বত্য সরলবর্গীয় বনভূমির তলদেশে অবস্থিত অধিক অম্লতাযুক্ত, অনুর্বর, ধূসর রং-এর মাটিকে পডসল মাটি বলে। পশ্চিম হিমালয় ও নীলগিরি পর্বতের উচ্চ অংশে অবস্থিত সরলবর্গীয় বনভূমি অঞ্চলে পডসল মাটি দেখা যায়।


প্রশ্ন:৯
ল্যাটেরাইট মাটি ভারতে কোথায় লক্ষ করা যায় ? এই মাটি কৃষির পক্ষে অনুপযুক্ত কেন ?

উত্তর: 
ল্যাটেরাইট মাটি কর্ণাটক ও কেরলের পশ্চিমঘাট পার্বত্য অঞ্চলে, অন্ধ্রপ্রদেশে, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার স্থানবিশেষে, অসমের পার্বত্য অঞ্চলে ও ছােটোনাগপুর মালভূমির পূর্ব ঢালে লক্ষ করা যায়।
এই মৃত্তিকায় নাইট্রোজেন, পটাশ, চুন এবং জৈব পদার্থের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। মাটির জলধারণ ক্ষমতাও কম, ফলে ল্যাটেরাইট মাটি অনুর্বর এবং কৃষির পক্ষে অনুপযুক্ত।


প্রশ্ন:১০
খাদার ও ভাঙর কী ?

উত্তর: 
নদীর উভয় তীরস্থ প্লাবনভূমিতে নবীন সঞ্চিত পলি মাটিকে খাদার এবং প্রাচীন সঞ্চিত পলি মাটিকে ভাঙর বলে। নবীন পলি মাটি বা খাদার কম বালিযুক্ত, সাধারণত হালকা রং-এর এবং অত্যন্ত উর্বর। অন্যদিকে, প্রাচীন পলি মাটি বা ভাঙর অধিক কাদাযুক্ত, সাধারণত গাঢ় রং-এর এবং কম উর্বর।

Comments

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য

  ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘর্ণবাত-এর পার্থক্য Sl. No. ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1 ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর উচ্চচাপ বলয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকে থাকে বায়ুর নিম্নচাপ বলয়। 2 নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উষ্ণ, হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু শীতল, ভারী ও নিম্নগামী হয়। 3 ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল অল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না। 4 ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়-ঝঞ্ঝা ঘটে না। মাঝেমাঝে তুষারপাত ও কুয়াশার সৃষ্টি হয়৷ 5 ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 6 চারিদিক থেকে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসে অর্থাৎ বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন...

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।

মানব জীবনের ওপর পর্বতের প্রভাব উল্লেখ করো।           সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু ও বহুদূর বিস্তৃত শিলাময় স্তূপ যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, ভূমির ঢাল বেশ খাড়া এবং গিরিশৃঙ্গ ও উপত্যকা বর্তমান তাকে পর্বত বলে৷ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি হল—

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য

  স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে পার্থক্য Sl. No. স্থলবায়ু সমুদ্রবায়ু 1 স্থলবায়ু মূলত শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়। সমুদ্রবায়ু মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির হয়। 2 স্থলবায়ু প্রধানত রাত্রিবেলায় প্রবাহিত হয়। সমুদ্রবায়ু প্রধানত দিনেরবেলায় প্রবাহিত হয়। 3 সূর্যাস্তের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুর প্রবাহ শুরু হয় ও রাত্রির শেষদিকে বায়ুপ্রবাহের বেগ বৃদ্ধি পায়। সূর্যোদয়ের পরবর্তী সময়ে এই বায়ুরপ্রবাহ শুরু হয় ও অপরাহ্নে বায়ুপ্রবাহে বেগ বৃদ্ধি পায়। 4 স্থলবায়ু উচ্চচাযুক্ত স্থলভাগ থেকে নিম্নচাপযুক্ত জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে স্থলবায়ুকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। সমুদ্রবায়ু উচ্চচাপযুক্ত সমুদ্র থেকে নিম্নচাপযুক্ত স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে সমুদ্রবায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। 5 স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবার দরুন বেগ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ প্রবাহিত হ...

সমাজসংস্কাররূপে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান।।

সমাজসংস্কাররূপে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান             হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১৭৭৪ খ্রি.) জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ভারত পথিক বলে সম্মান জানিয়েছেন। ভারতের ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের কাজে তাঁর নিরলস সাধনার কারণে তাঁকে আধুনিক ভারতের জনক বলে অভিহিত করা হয়। ড. বিপানচন্দ্রের মতে—“উনিশ শতকের প্রথম লগ্নে ভারতীয় আকাশে রামমোহন রায় উজ্জ্বলতম নক্ষত্ররূপে ভাস্বর ছিলেন”।

প্রাকৃতিক ভূগোলের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর-বারিমণ্ডল, সেট-৩

বারিমণ্ডল প্রশ্ন:১ উষ্ণ স্রোত কীভাবে জলবায়ুকে প্রভাবিত করে ? উত্তর:  নিম্ন অক্ষাংশ থেকে প্রবাহিত উষ্ণ স্রোত উচ্চ অক্ষাংশের শীতল অঞ্চলে সমুদ্রজলের উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। উষ্ণ স্রোত যে উপকূলে প্রবাহিত হয় সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে। কারণ—উষ্ণ স্রোতের উপরের বাতাস উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির। উষ্ণ স্রোত নিরক্ষীয় অঞ্চল ও মেরু অঞ্চলের সমুদ্রের জলে উষ্ণতার সমতা বিধানে সাহায্য করে। তাছাড়া উষ্ণ স্রোত সংলগ্ন উপকূলের উষ্ণতাও বৃদ্ধি করে।

ঐতিহাসিক তথ্য সরবরাহে সাহিত্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যের অবদান বিস্তারিত আলোচনা করো।

ঐতিহাসিক তথ্য সরবরাহে সাহিত্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় দেশীয় সাহিত্যের অবদান বিস্তারিত আলোচনা করো।           ইতিহাস হলো মানব সভ্যতার অগ্রগতির প্রামাণ্য দলিল। কিন্তু প্রাচীন ভারতে হেরোডোটাস বা থুকিডিডিসের মতো কোনো প্রথাগত ঐতিহাসিক ছিলেন না। এ কারণেই একসময় আল-বিরুনি মন্তব্য করেছিলেন যে, "ভারতীয়দের কোনো ইতিহাস চেতনা নেই।" কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ সত্য নয়। প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষি এবং কবিরা সরাসরি ইতিহাস না লিখলেও, তাঁদের রচিত বিপুল সাহিত্যরাশির মধ্যে ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের মহামূল্যবান উপাদান। এই উপাদানগুলিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করলেই প্রাচীন ভারতের লুপ্ত ইতিহাস পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য

  আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন মধ্যে পার্থক্য Sl. No. আবহবিকার ক্ষয়ীভবন 1 আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন—উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, জলীয় বাষ্প, তুষারপাত ও বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান দ্বার শিলাসমূহের চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া বা বিয়োজনকে আবহবিকার বলে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন—নদী, বায়ু, হিমবাহ, ইত্যাদি দ্বারা আবহবিকারপ্রাপ্ত চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহের অপসারণকে ক্ষয়ীভবন বলে। 2 আবহবিকারের ফলে মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের (গঠন, আকৃতি, খনিজের আণবিক সজ্জা প্রভৃতি) পরিবর্তন ঘটে । ক্ষয়ীভবনের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয়। কিন্তু মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন সাধন হয় না। 3 আবহবিকার কোনোভাবে ক্ষয়ীভবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ক্ষয়ীভবন সম্পূর্ণরূপে আবহবিকারের ওপর নির্ভরশীল। আবহবিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে না। 4 আবহবিকারের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহ শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলাস্তরের ওপরেই অবস্থান করে। ক্ষয়ীভবনের ফলে আবহবিকার প্রাপ্ত শিলাচূর্ণ স্থানান্তরি...

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য

  ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য Sl. No. ভরা কোটাল মরা কোটাল 1 চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর একই স্থানের উপর কার্যকরী হয়, ফলে ভরা কোটালের সৃষ্টি হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য সমকোণী অবস্থানে থাকলে পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী হয়, ফলে মরা কোটালের সৃষ্টি হয়। 2 মানবজীবনের উপর ভরা কোটালে (নদী-মোহানা, নৌ-চলাচল, মাছ আহরণ ইত্যাদি)-র প্রভাব বেশি। মানবজীবনের উপর মরা কোটালের প্রভাব কম। 3 ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। মরা কোটাল হয় শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। 4 ভরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতল সবচেয়ে বেশী স্ফীত হয়। মরা কোটালের ক্ষেত্রে সাগর-মহাসাগরের জলতলের স্ফীতি সবচেয়ে কম হয়। 5 অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করে। পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীত...

গ্রস্ত উপত্যকা

গ্রস্ত উপত্যকা : ১. গ্রস্ত উপত্যকার সংজ্ঞা :                দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গেলে যে অবনমিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।              এছাড়া, মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণ বলের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের কঠিন শিলায় ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুনরায় ভূ-আন্দোলন ঘটলে বা ভূ-আলোড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাটল রেখা বরাবর শিলার একটি অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, একে চ্যুতি বলে। সংনমন বল বৃদ্ধি পেলে দুটি চ্যুতির মাঝের অংশ খাড়াভাবে নীচে বসে যায়। অবনমিত, ওই অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। 

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (১৮৭৮ খ্রি.)

দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন প্রবর্তন সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর–জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কণ্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act, 1878) জারি করেন। পটভূমি ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ইতিহাসবিদ এ.আর.দেশাইয়ের মতে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম”।