ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ ভারতের আকস্মিক তহবিল সৃষ্টি হয়— উত্তরঃ ১৯৫০ সালের সংসদীয় আইন অনুসারে। প্রশ্নঃ ভারতীয় সংবিধানে কত নম্বর ধারা অনুযায়ী অর্থ কমিশন গঠিত হয়েছে— উত্তরঃ ২৮০ নং ধারা।
বায়ুমণ্ডল
প্রশ্ন:১
বায়ুমণ্ডলের অস্থায়ী বা পরিবর্তনশীল উপাদান বলতে কী বােঝায় ?
উত্তর:
গ্যাসীয় উপাদান ছাড়াও বায়ুমণ্ডলে রয়েছে সামান্য পরিমাণ জলীয়বাষ্প এবং কঠিন কণিকাসমূহ, যেমন—সূক্ষ্ম ধূলিকণা, খনিজ লবণকণা, কয়লার গুঁড়াে, ছাই ইত্যাদি। বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরেই এই সকল উপাদানের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। ঋতু, স্থান ও উচ্চতাভেদে এই সকল উপাদানের পরিমাণ ও কার্যকারিতা পরিবর্তিত হয়। বায়ুমণ্ডলের সর্বত্র এই ধরনের উপাদান উপস্থিত থাকে না বলে এদের অস্থায়ী উপাদান বলা হয়।
প্রশ্ন:২
বায়ুমণ্ডলের কোন্ কোন্ গ্যাস ওজোনস্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী ?
উত্তর:
প্রধানত ক্লোরােফ্লুরােকার্বন (CFC) গ্যাস। তা ছাড়া মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসও ওজোনস্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী।
প্রশ্ন:৩
বায়ুমণ্ডলের কোন্ অংশকে ‘সমতাপ অঞ্চল’ বলা হয় ?
উত্তর:
বায়ুমণ্ডলে থার্মোস্ফিয়ার স্তরের ওপরে অর্থাৎ, প্রায় ৫০০ কিমি উচ্চতার ওপরে বায়ুর উষ্ণতা বাড়েও না, কমেও না। বায়ুমণ্ডলের এই অংশে তাপ একই রকম থাকে বলে এই অঞ্চলকে ‘সমতাপ অঞ্চল’ বলে।
প্রশ্ন:৪
বায়ুমণ্ডলের কয়েকটি সক্রিয় গ্যাসের নাম লেখাে৷
উত্তর:
যেসব গ্যাস রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সক্রিয় গ্যাস বলে। বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত এমন কয়েকটি সক্রিয় গ্যাস হল—অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি।
প্রশ্ন:৫
বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরকে ‘ঘনমণ্ডল’ বলে এবং কেন ?
উত্তর:
ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন ট্রপােস্ফিয়ার স্তরকে ‘ঘনমণ্ডল’ বলে। কারণ—ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলীয় স্তর হওয়ায় এই স্তরে মাধ্যাকর্ষণের টান বেশি। তাছাড়া সবচেয়ে নীচের স্তর হওয়ায় এই স্তরে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। ভূপৃষ্ঠ থেকে যতই ওপরে ওঠা যায় বায়ুর ঘনত্ব ততই হ্রাস পায়। সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ যেখানে প্রতি ঘনমিটারে ১২০০ গ্রাম সেখানে ৫.৫ কিমি উচ্চতায় বায়ুর ঘনত্ব হয় ৬০০ গ্রাম প্রতি ঘনমিটারে। তাই সর্বাধিক ঘনত্বযুক্ত ট্রপােস্ফিয়ারকেই ‘ঘনমণ্ডল’ বলে।
প্রশ্ন:৬
‘ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়’ কী ?
উত্তর:
বায়ুমণ্ডলের থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নস্তরে গ্যাসীয় উপাদানগুলি সূর্যরশ্মির প্রভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে এবং স্তরটি তড়িৎ সুপরিবাহী হয়। আয়নস্তরে, ইলেকট্রন ও প্রােটন আয়নগুলির বলয়কে আবিষ্কর্তা বিজ্ঞানী ভ্যান অ্যালেন-এর নামানুসারে, ‘ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়’ বলে।
প্রশ্ন:৭
বায়ুমণ্ডলের কয়েকটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের নাম লেখাে।
উত্তর:
যেসব গ্যাস রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না তাদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত এমন কয়েকটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস হল—হিলিয়াম, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন, নিয়ন ইত্যাদি।
প্রশ্ন:৮
গ্রিনহাউস প্রভাব কী ?
উত্তর:
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন প্রভৃতি তাপশােষক গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলে এই সকল তাপশােষক গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনাকে গ্রিনহাউস (Green house) প্রভাব বলে।
প্রশ্ন:৯
বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরকে ‘হােমােস্ফিয়ার’ বা ‘সমমণ্ডল’ বলে ?
উত্তর:
ভূপৃষ্ঠ থেকে ৯০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলীয় স্তরে বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণের অনুপাত একই রকম থাকে। সমবৈশিষ্ট্যযুক্ত এই স্তরকে ‘হােমােস্ফিয়ার’ বা ‘সমমণ্ডল’ বলে।
প্রশ্ন:১০
বায়ুমণ্ডলের স্থায়ী উপাদান বলতে কী বােঝায় ?
উত্তর:
বায়ুমণ্ডলে গ্যাসীয় উপাদানের মধ্যে শতকরা ৯৯ ভাগ অক্সিজেন (২০.৯৪%), নাইট্রোজেন (৭৮.০৮%) ও কার্বন ডাইঅক্সাইড (.০৩৩%) নিয়ে গঠিত। এ ছাড়াও হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, আর্গন, নিওন, মিথেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি গ্যাস রয়েছে। উচ্চতা, অঞ্চল, ঋতু ও দিনরাত্রি ভেদে এদের পরিমাণের তারতম্য ঘটলেও বায়ুমণ্ডলের সর্বত্রই এই সকল গ্যাসীয় উপাদানের উপস্থিতি বর্তমান। তাই বায়ুমণ্ডলের স্থায়ী উপাদান বলতে গ্যাসীয় উপাদানকেই বােঝায়।

Comments
Post a Comment