ভারতের সংবিধান থেকে বাছাই করা প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিবাদ দেখা দিলে তার নিষ্পত্তি করে— উত্তরঃ সুপ্রিমকোর্ট। প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার কতজন সদস্যকে মনোনীত করেন? উত্তরঃ ১২ জন। প্রশ্নঃ কোন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন? উত্তরঃ নীলম সঞ্জীব রেড্ডি। প্রশ্নঃ কোন সাংবিধানিক পদাধিকারী বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন? উত্তরঃ রাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ কোন বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন? উত্তরঃ অর্থবিলে। প্রশ্নঃ রাজ্যসভায় সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ উপরাষ্ট্রপতি। প্রশ্নঃ ভারতের উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন— উত্তরঃ লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যগণ। প্রশ্নঃ উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন— উত্তরঃ রাজ্যসভায়। প্রশ্নঃ কোন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব থাকাকালীন কোনওদিন সংসদে যাননি? উত্তরঃ চৌধুরী চরণ সিং। প্রশ্নঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পদপ্রার্থীর আবশ্যিক ন্যূনত...
প্রতীপ ঘূর্ণবাত
হিমমণ্ডল এবং নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের অন্তর্গত অল্প পরিসর স্থানের বায়ু শীতল হয়ে উচ্চচাপ কেন্দ্র গঠিত হলে, সেখান থেকে বায়ু নিম্নগামী ও বহির্মুখী হয়ে ঘুরতে ঘুরতে চারপাশের নিম্নচাপের দিকে যায়, একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anti-Cyclone) বলে।
নাতিশীতোষ্ণ ও হিমমণ্ডলের স্বল্প পরিসর স্থানে অধিক শীতলতার জন্য প্রবল উচ্চচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে শীতল-শুষ্ক-ভারী বায়ু বাইরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে কুণ্ডলী আকারে প্রবাহিত হয়। এইভাবে প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উৎপত্তি হয়। গোটা ইউরোপ মহাদেশ, আমেরিকা এবং এশিয়া মহাদেশের উত্তরাংশে প্রতীপ ঘূর্ণবাতের উৎপত্তি হয়।
গঠন-প্রকৃতি—
শীতপ্রধান অঞ্চলে বিশেষত হিমমণ্ডল ও নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের কোনো কোনো জায়গায় অত্যধিক শৈত্যের জন্য স্থানীয়ভাবে উচ্চচাপ কেন্দ্রের [High Pressure Centre] সৃষ্টি হয়। এই উচ্চচাপ কেন্দ্রের চারিদিকের বায়ুতে নিম্নচাপ বিরাজ করে। ফলে উচ্চচাপকেন্দ্র থেকে শীতল, ভারী ও শুষ্ক বায়ু ঘূর্ণির মত ঘুরপাক খেতে খেতে অর্থাৎ কুণ্ডলাকারে চারিদিকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহ বহির্মুখী ও নিম্নগামী। উত্তর গোলার্ধে এই বায়ু ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ দক্ষিণাবর্তে [Clockwise] এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে অর্থাৎ বামাবর্তে [Anti-Clockwise] ঘুরতে থাকে এর নাম প্রতীপ ঘূর্ণবাত [Anti-Cyclone]।
জলবায়ুর ওপর প্রভাব—
প্রতীপ ঘূর্ণবাত প্রবাহের ফলে শৈত্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ আরও বেশি ঠান্ডা পড়ে। এর প্রভাবে সাধারণভাবে বৃষ্টিপাত হয় না এবং নির্মল মেঘমুক্ত আকাশ বিরাজ করে; কখন কখন কিছু তুষারপাত হতে পারে।
প্রতীপ ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য—
(১) অনেক সময় দুটি ঘূর্ণবাতের মধ্যবর্তী স্থানে প্রতীপ ঘূর্ণবাত দেখা যায়।
(২) প্রতীপ ঘূর্ণবাত, ঘূর্ণবাতের মতো ভয়ংকর নয় এবং দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে না।
(৩) প্রতীপ ঘূর্ণবাত উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণাবর্তে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামাবর্তে ঘুরতে ঘুরতে অগ্রসর হয়।
(৪) প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে থাকে উচ্চচাপ।
(৫) কেন্দ্র থেকে বায়ু বাইরের দিকে প্রবাহিত হয়।
(৬) উচ্চচাপ কেন্দ্রের বায়ু শীতল ও ভারী তাই ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন হয়ে প্রবাহিত হয়।
(৭) বায়ুপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী, কিন্তু শক্তিশালী নয়।
(৮) আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত ও নির্মল থাকে, মাঝেমাঝে তুষারপাত হয়।
Comments
Post a Comment