🗿 হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবনের বিস্তারিত পরিচয় হরপ্পা সভ্যতা বা সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবন সম্পর্কে জানার প্রধান উৎস হলো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত নগর পরিকল্পনা, সমাধিক্ষেত্র, মৃৎপাত্র, মূর্তি, অলংকার এবং অন্যান্য নিদর্শনসমূহ। এই নিদর্শনের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞানীরা হরপ্পা সমাজের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরেছেন:
ক্ষয়জাত পর্বত
ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয় কাজের ফলে সবসময় ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এইভাবে অনেক সময় শক্ত শিলায় গঠিত জায়গা কম ক্ষয় পেয়ে যখন আশপাশের বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া নরম শিলায় গঠিত জায়গা থেকে আলাদা হয়ে উঁচুতে থেকে যায়, তখন তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে। কম ক্ষয় হওয়া অবশিষ্ট অংশ পর্বতে পরিণত হয় বলে একে অবশিষ্ট পর্বত-ও বলা হয়।
ক্ষয়জাত পর্বতের বৈশিষ্ট্য—
(১) বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক শক্তির ঘাতপ্রতিঘাতে ক্ষয়জাত পর্বতের সৃষ্টি হয়।
(২) ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ফলে ক্ষয়জাত পর্বতের মাথা চ্যাপ্টা হয়।
(৩) ভঙ্গিল, স্তূপ, আগ্নেয় সবরকম পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়জাত পর্বতে পরিণত হয়।
(৪) ক্ষয়জাত পর্বতের ঢাল খুব বেশি নয়।
(৫) ক্ষয়জাত পর্বতগুলির উচ্চতা ক্রমহ্রাসমান।
(৬) ক্ষয়জাত পর্বতগুলির বন্ধুরতা কম হয়।
(৭) ক্ষয়জাত পর্বতের উচ্চতা অন্যান্য পর্বত অপেক্ষা কম হয়।
(৮) এই পর্বতের উপরিভাগ খুব বেশি উঁচু-নীচু বা অসমতল হয় না।
(৯) ভূপৃষ্ঠের অতি প্রাচীন অংশে ক্ষয়জাত পর্বত দেখা যায়।
(১০) মূলত ক্ষয়জাত পর্বতগুলি কঠিন ও কোমল শিলার সমন্বয়ে গঠিত।
উদাহরণ—
ভারতের আরাবল্লী, নীলগিরি, পশ্চিমঘাট, রাজমহল প্রভৃতি পর্বতগুলো ক্ষয়জাত পর্বতের নিদর্শন।
Comments
Post a Comment