🗿 হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবনের বিস্তারিত পরিচয় হরপ্পা সভ্যতা বা সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবন সম্পর্কে জানার প্রধান উৎস হলো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত নগর পরিকল্পনা, সমাধিক্ষেত্র, মৃৎপাত্র, মূর্তি, অলংকার এবং অন্যান্য নিদর্শনসমূহ। এই নিদর্শনের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞানীরা হরপ্পা সমাজের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরেছেন:
মৌসুমি বায়ু
মৌসুমি বায়ু এক প্রকার সাময়িক বায়ু। “মৌসিম” একটি আরবি শব্দ, এর অর্থ হল ঋতু—অর্থাৎ ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। স্থলভাগ ও জলভাগের উত্তাপের পার্থক্যের ফলে সমুদ্রবায়ু এবং স্থলবায়ুর মতো মৌসুমি বায়ুরও সৃষ্টি হয়।
গ্রীষ্মকালে স্থলভাগের উপর নিম্নচাপ এবং জলভাগের উপর উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চচাপযুক্ত জলভাগ থেকে নিম্নচাপযুক্ত স্থলভাগের দিকে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয়। ফেরেলের সূত্র মেনে এই বায়ু ডান দিকে বেঁকে উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে। আবার শীতকালে স্থলভাগের উপর উচ্চচাপ এবং জলভাগের উপর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চচাপযুক্ত স্থল থেকে নিম্নচাপযুক্ত জলের দিকে শীতল ও শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়। ফেরেলের সূত্র মেনে এই বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্বদিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র হওয়ায় হিমালয়ের পাদদেশ অঞ্চলে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি ঘটায়। কিন্তু উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শীতল ও শুষ্ক হওয়ায় বৃষ্টিপাত ঘটে না।
প্রধানত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (ভারত, চিন, জাপান, বাংলাদেশ, উত্তর শ্রীলঙ্কা, কোরিয়া, ইন্দোচিন, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে) মৌসুমি বায়ুর প্রভাব দেখা যায়। এছাড়া উত্তর আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা (মেক্সিকো), উত্তর অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি অঞ্চলেও মৌসুমি বায়ুর প্রভাব দেখা যায়।
Comments
Post a Comment